Saturday, January 26, 2008

গুগল বই সমাচার

বেশ কিছুদিন ধরেই গুগল বই এর সাইটটি (books.google.com) আমার নজরে এসেছিল । প্রথমে একটু নিরাশই হয়েছিলাম কেননা এতে কোনো বইয়ের পুরোটা দেখা যাচ্ছিল না কেবল অংশবিশেষ দেখা যাচ্ছিল । তারপর একটু ভাল করে নজর করে দেখলাম যে ফুল ভিউ লিংকে গেলে যে বইগুলি দেখা যায় তার বেশিরভাগই ফ্রিতে দেখা আর ডাউনলোড করা যাচ্ছে পিডিএফ ফরম্যাটে ।

একটু সার্চ করতেই খুঁজে পেলাম আদ্যিকালের দুষ্প্রাপ্য সমস্ত বইয়ের স্ক্যান করা কপি । আমার প্রিয় বিষয় ইতিহাস । তাই ভারত ও বাংলার ইতিহাসের বই প্রথমেই খুঁজে দেখলাম । পেলাম দারুণ দারুন সমস্ত বই । বেশিরভাগ বই ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভারতে আগত ব্রিটিশ সরকারী কর্মচারী বা মিশনারীদের লেখা । সেসময়ের ভারতের নানা রকমের ভ্রমনের কাহিনী, সিপাহী বিদ্রোহের রোমাঞ্চকর বর্ণনা, সতীদাহের চাক্ষুষ বর্ণনা বাদ যায় নি কিছুই । খুব আকর্ষনীয় বিষয়ের মধ্যে রয়েছে স্লিম্যান সাহেবের লেখা ভারতীয় ঠগী আর ফাঁসুড়েদের উপর বই । আর একজন মহিলার লেখা বইতে রয়েছে কিভাবে ১৮০২ সালে তিনি জলপথে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ গিয়ে মীরজাফরের স্ত্রী মুন্নি বেগমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার বর্ণনা । খুঁজতে খুঁজতে পেলাম একেবারে প্রথম যুগের বাংলা থেকে ইংরাজি ডিকশনারি যা ছাপা হয়েছিল শ্রীরামপুরে ।

গুগল বইয়ের একটা ভাল দিক হচ্ছে এখানে আসল বই থেকে স্ক্যান করা পাতাগুলি দেখা যায় । তবে স্ক্যান করা হলেও বই গুলি সার্চযোগ্য । কারন স্ক্যান করা বইয়ের পাতার ছবিগুলির সাথে ওসিআর করা টেক্সটও রাখা আছে । কিন্তু স্ক্যানের কোয়ালিটি নিয়ে অনেক সময়েই প্রশ্ন উঠতে পারে । কিছু কিছু বই খুব বাজে ভাবে স্ক্যান করা হয়েছে । পাতা কেটে বেরিয়ে গেছে এরকম ব্যাপারও আমার চোখে এসেছে ।

পুরনো বই খুঁজতে খুঁজতে একটা ব্যাপার আমার নজরে এসেছিল সেটা হচ্ছে ফ্রি ডাউনলোডের জন্য যে বইগুলি দেওয়া হচ্ছে সেগুলি সবই ১৮৪০-৫০ এর সময়কার বা তার আগের কিন্তু এই সময়ের পরের বইগুলি যেগুলির উপরে কপিরাইট নেই যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বই সেগুলি কিন্তু ফ্রিতে ডাউনলোডের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না ।
আমেরিকার কপিরাইট আইন ঘেঁটে দেখলুম যে ১৯২৩ সালের আগে প্রকাশিত সব বই পাবলিক ডোমেনে চলে গেছে মানে তাদের উপরে আর কপিরাইট নেই । কিন্তু বই তো ১৮৪০-৫০এর পরে প্রকাশিত হলে ফ্রিতে ডাউনলোড দিচ্ছে না । ব্যাপারটা কি ?

নেটে একটু খোঁজখবর করে দেখতে পেলাম যে ব্যবহারকারী যদি আমেরিকার বাইরে থেকে গুগল বই ব্যবহার করে তবে সে ১৮৬৫ সালের পরের কোন বই ফ্রী তে ডাউনলোড করতে পারবে না । কিন্তু সে যদি আমেরিকার ভিতর থেকে গুগল বই ব্যবহার করে তাহলে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত সমস্ত বই ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবে । একটা প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে দেখলাম ঠিক তাই । সাধারণ ভাবে রবীন্দ্রনাথের লেখা কোন বই ফ্রিতে ডাউনলোড করতে দিচ্ছে না কিন্তু প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে গুগল বই খুললে তখন রবীন্দ্রনাথের ১৯২৩ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত সব বই ডাউনলোড করা যাচ্ছে । বিভিন্ন দেশের কপিরাইট আইন বিভিন্ন রকম হওয়ার জন্য গুগলের পক্ষে সত্যিই ট্র্যাক রাখা কঠিন কোন বইয়ের কোন দেশে কপিরাইট আছে আর কোন দেশে নেই । যেমন ভারতের কপিরাইট আইনে লেখকের মারা যাওয়ার পর ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকে । আবার কোন কোন দেশে এই আইন ৭০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্তও হয়ে থাকে । তাই যে বই আমেরিকায় পাবলিক ডোমেনে চলে গেছে সেই বই হয়তো ভারতে কপিরাইটের আওতায় আছে ।

তাই গুগলের বিশেষ কিছু করার ছিল না কোন লেখক কবে মারা গেছে আর কোন দেশে সেই অনুযায়ী কপিরাইট আছে কি নেই তার ট্র্যাক রেখে সেই অনুযায়ী সেই দেশের আই পি দেখে ডাউনলোডের অনুমতি দিতে গেলে তারা পাগল হয়ে যাবে । তাই আমেরিকার বাইরের সবাইকে ১৮৬৫ সাল অবধি প্রকাশিত বই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ।

আমি প্রক্সি সার্ভার দিয়ে বই ডাউনলোড করার চেষ্টা করে দেখলাম ডাউনলোড হচ্ছে কিন্তু স্পিড স্লো । আর ডাউনলোড কোন ভাবে আটকে গেলে তাকে আবার প্রথম থেকে চালু করতে হচ্ছে । যেটা সাধারণভাবে ডাউনলোড করতে গেলে করতে হয় না ।

গুগল সত্যিই আমাদের সামনে এক বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে দুষ্প্রাপ্য বইগুলি দেখার ও পড়ার । কিন্তু এই কপিরাইটের কচকচিতে তার অনেকটাই বানচাল হতে চলেছে । তাই কেউ যদি গুগল বই থেকে অন্তত ১৯২৩ সাল পর্যন্ত বইগুলি আমেরিকার বাইরে ডাউনলোডের সহজ পদ্ধতি জানান তাহলে খুবই কৃতজ্ঞ থাকব ।

4 comments:

আককাস said...

ওই যে উইলিয়াম কেরির অভিধানের কথা বললেন, ওটা আমিও নামাতে পেরেছি, যদিও দিল্লী থেকে প্রকাশিত ফ্যাক্সিমিলি প্রিন্ট আমার সংগ্রহে আছে, ১৯৯০ এর দিকে কিনেছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে।

আরও কয়েকটি বই নামাতে গিয়েও পারিনি। দাদা, যদি উপায় জানতে পারেন, তবে জানাবেন।

Swakkhar Shatabda said...

খুব ভালো পোষ্ট! ধন্যবাদ...

Anonymous said...

আপনী গুটেনবার্গ প্রজেক্টে দেখতে পারেন

saifulhasan said...

আমারা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ আমাদের অন্যতম প্রধান খাবার। মাছ মানে নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছের লাফা লাফি। আজ কাল তাজা বা টাটকা মাছ পাওয়া যাই না। ফরমালিন যুক্ত মাছ চারদিকে ছড়াছড়ি। আপনি কি তাজা ফ্রমালিন মুক্ত মাছ খোঁজ করছেন? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.