Saturday, February 09, 2008

ফেডেরিকো ফেলিনির লা স্ট্রাডা

সমাজের কিছু প্রান্তিক মানুষ থাকে যারা কেনই বা জন্মায় আর কেনই বা মরে যায় তা নিয়ে কারোর কোনো মাথাব্যথা থাকে না । তাদের সুখ দুঃখ চিন্তা ভাবনা চাপা পড়ে যায় সময়ের সাথে সাথে । এরকম দুজন প্রান্তিক মানুষের প্রেমকাহিনী নিয়ে ফেলিনির লা স্ট্রাডা ।

ফেলিনির আগের যে সমস্ত ছবি দেখেছিলাম যেমন আই ভিতেলোনি (I vitelloni ), এইট অ্যান্ড হাফ, অ্যমারকর্ড সেগুলি বেশিরভাগই ছিল আত্মজীবনী মূলক । সেদিক থেকে লা স্ট্রাডা বেশ আলাদা ।

ইটালির উপকূলের এক গরীব পরিবারের মেয়ে জেলসোমিনা । তাকে তার মা অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে বেচে দেয় সার্কাসে খেলা দেখানো জ্যামপানোর কাছে । জ্যামপানো খুবই কড়া ধাঁচের বদরাগী লোক । সে একটা মোটরবাইক কাম ভ্যান নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খেলা দেখিয়ে বেড়ায় । জ্যামপানো জেলসোমিনাকে অল্প ট্রেনিং দিয়ে তার খেলা দেখানোর সহকারী হিসাবে লাগায় । জেলসোমিনার আচার আচরন ছিল ঠিক একটা ক্লাউনের মত । ছোট ছোট করে ছাঁটা চুলে তাকে মেয়ে বলেই মনে হত না । আর সিনেমার নায়িকাসুলভ কোন গুনই জেলসোমিনার ছিল না । জ্যামপানোর হাজার দোষ সত্ত্বেও জেলসোমিনার তাকে ভাল লাগতে থাকে ।

জ্যামপানোর আচার আচরন এবং নারীসঙ্গে বিরক্ত হয়ে সে একবার পালিয়ে যায় । কিন্তু জ্যামপানো আবার তাকে ধরে আনে । এর মধ্যেই তাদের সাথে দেখা হয় সার্কাসে ব্যালান্সের খেলা দেখানো 'দ্য ফুল' এর সাথে । দ্য ফুলের সাথে জ্যামপানোর আগে থেকেই শত্রুতা ছিল । একবার ছুরি নিয়ে দ্য ফুলকে মারতে গিয়ে জ্যামপানো পুলিশের হাতে ধরা পড়ে । সেই সময় জেলসোমিনা খুব সহজেই চলে যেতে পারত । কিন্তু সে যায় না । জ্যামপানো ছাড়া পেতেই সে আবার ফিরে যায় ।

এরপর একসময় রাস্তায় আবার জ্যামপানো আর দ্য ফুল মুখোমুখি হয় । দুজনের মারামারিতে দ্য ফুল আহত হয় আর মারা যায় । এই ঘটনায় জেলসোমিনা খুবই আঘাত পায় আর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে । তাকে এই অবস্থায় দেখে জ্যামপানো নিজের ভুল বুঝতে পারে আর জেলসোমিনাকে একজায়গায় রেখে চলে যায় ।
বেশ কিছু বছর পরে জ্যামপানো জানতে পারে যে এর কিছুদিন পরেই জেলসোমিনা মারা গিয়েছিল । সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা যায় জ্যামপানোকে রাতের অন্ধকার সমুদ্রের ধারে কাঁদতে ।

অসাধারন এই সিনেমার মূল আকর্ষন হচ্ছে জ্যামপানোর ভূমিকায় অ্যান্টনি কুইন আর জেলসোমিনার ভূমিকায় জিউলিয়েতা ম্যাসিনার অভিনয় । সম্ভবত অ্যান্টনি কুইন তাঁর জীবনের সেরা অভিনয় করেছেন এই ছবিতে । আর জিউলিয়েতা ম্যাসিনার অভিনয় সম্পর্কে বেশি কিছু না বলাই ভালো । মুখের এক্সপ্রেসন বদলাতে তাঁর জুড়ি নেই । চরিত্রের একেবার ভিতরে ঢুকে কিভাবে তাকে জীবন্ত করে তুলতে হয় তার তুলনা বোধহয় আর পাওয়া যাবে না । চরিত্রটির সরলতা, দুঃখ, আনন্দ, কষ্ট সবই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অনবদ্য ভাবে ।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে জিউলিয়েতা ম্যাসিনা হলেন ফেলিনির স্ত্রী । তাঁরা এর আগে ও পরে বহু ছবিতে একসাথে কাজ করেছেন । ছবিটির নেপথ্যসঙ্গীতও মনে রাখার মত ।
১৯৫৬ সালে সেরা বিদেশী ছবির জন্য এটি অস্কার পুরষ্কার পেয়েছিল ।

2 comments:

kaisarahmed said...

আমাদের বেঁচে থাকার মাধ্যম হচ্ছে খাবার। বেজাল মুক্ত খাবার খোঁজা খুব কষ্টের। সবার কষ্ট কিছুটা কম করার জন্য freshfishbd নিয়ে আসলো ফ্রমালিন মুক্ত মাছ, তাজা সামুদ্রিক মাছ, গলদা চিংড়ি, চিংড়ি, তাজা জল-মাছ, কাঁকড়া, ইত্যাদি দরণের মাছ খোঁজ পেতে পারেন। তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.

saifulhasan said...

আমারা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ আমাদের অন্যতম প্রধান খাবার। মাছ মানে নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছের লাফা লাফি। আজ কাল তাজা বা টাটকা মাছ পাওয়া যাই না। ফরমালিন যুক্ত মাছ চারদিকে ছড়াছড়ি। আপনি কি তাজা ফ্রমালিন মুক্ত মাছ খোঁজ করছেন? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.