Showing posts with label উপলব্ধি. Show all posts
Showing posts with label উপলব্ধি. Show all posts

Monday, February 22, 2010

লিখতে হবে বাংলায়

বেশ কিছুদিন হল এই ব্লগে আর লেখা হচ্ছে না প্রথম এই ব্লগে লিখতে শুরু করেছিলাম প্রায় চার বছর আগে ২০০৬ সালের মে মাসে । বর্তমানে অবস্থাটা অনেকটাই পালটেছে তখন ইন্টারনেটে বাংলার পাঠক সংখ্যা খুবই কম ছিল আর ব্লগার তো ছিল আরো কম এখন উইনডোজ ভিস্তা আর সেভেন এ কোনো কনফিগারেশন ছাড়াই ভাল বাংলা পড়া যায় আর অভ্র কিবোর্ড এবং ইউনিকোড বাংলা সম্পর্কে মানুষ আরো বেশি করে জেনেছেন তাই শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত থেকেও বাংলা ব্লগারের সংখ্যা বাড়ছে আর কিছু দিনের মধ্যে যে ভারতীয় বাংলা ব্লগারের সংখ্যা আরো বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই

এই ব্লগ আমি ছদ্মনামে শুরু করেছিলাম কারন সেই সময় ভেবেছিলাম যে এখানে নানা রকম বির্তকিত বিষয় নিয়ে লিখব
অনলাইনে নিজের আসল নামকে যতটা সম্ভব কোনো রকম বিতর্ক থেকে দূরে রাখাই ভালো। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে লিখেওছিলাম এর মধ্যে লেখার পরিমান কমে গেলেও এটা মনে করার কোনো কারন নেই যে আমি বাংলায় ব্লগিং ছেড়ে দিয়েছি আমি লিখব কারন লিখতে হবে বাংলায়

Saturday, September 15, 2007

তসলিমার উপর হামলা, গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন ও আরো কিছু কথা ।

আমি প্রায় একমাস আগে তসলিমা নাসরিনের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম আমার এই ব্লগে । আমি কয়েকদিন আগে অবাক হয়েই দেখলাম গ্লোবাল ভয়েস অনলাইনে বাংলা হিন্দি এবং ইংরাজিতে আমার সেই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে ।

গ্লোবাল ভয়েসে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের বক্তব্য অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় । বলা যেতে পারে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের মিলনের স্থান এই সাইট । তাঁরা যে আমার মত একজন ব্লগারের বক্তব্য তাঁদের সাইটে তুলে ধরেছেন সে কারণে আন্তরিকভাবে আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ ।

এর আগেও একবার গ্লোবাল ভয়েসে আমার কথা তুলে ধরা হয়েছিল যখন আমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকাররের ভুল সংরক্ষন নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ।

আমার ব্লগের পাঠক সংখ্যা খুব একটা বেশি নয় । পরিসংখ্যান থেকে দেখতে পাই যে প্রতিদিন আমার ব্লগে গড়ে মাত্র ছয় থেকে দশজন আসেন । এমনিতেই বাংলা ব্লগের পাঠক সংখ্যা কম । তারপর সেই পাঠকদের বেশিরভাগই সামহোয়্যারইন ব্লগ বা সচলায়তন ছাড়া আর কিছু পড়েন না । তবুও যে আমার ব্লগের লেখা কারো কারো চোখে পড়ে এবং তা অন্য জায়গায় প্রকাশিত হয় এটা দেখে ভাল লাগে এবং আরো লেখার আগ্রহ জাগে ।

বাংলাতে লেখা আরো অন্য ব্লগ যখন পড়ি তখন অনেক সময়েই মনে হয় যে আমার লেখা কিছুই হচ্ছে না । অন্য লেখকেরা তাঁদের ব্লগে কত সুন্দর সুন্দর লেখা লেখেন । সে সমস্ত লেখার গভীরতা অনেক বেশি । আমার সেরকম লেখার ক্ষমতাও নেই আর তার চেষ্টাও করি না । কিন্তু যখনই দেখি যে কারো ব্যক্তিস্বাধীনতা আক্রান্ত হচ্ছে তখনই তার প্রতিবাদ জানাতে ইচ্ছা করে । সে স্বাধীনতা কোন ব্যক্তিরও হতে পারে আবার কোন রাষ্ট্রেরও হতে পারে । যে সমস্ত মানুষ ইরাক আক্রমনের জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে গাল দেন আর নিজের বাড়িতে বাচ্চা চাকরদের উপর নির্যাতন করেন আমার মনে হয় সেইসব মানুষদের স্বাধীনতা নিয়ে কোন কিছু বলার অধিকার নেই ।

কোনোরকমে পড়াশোনা শেষ করেছি । পড়াশোনা করতে কোনদিনই আমার খুব একটা ভাল লাগত না । যখন থেকে আমার পরীক্ষার টেনশন দূর হল আমার মনে হয় সেদিন থেকেই আমার আসল পড়াশোনা শুরু হল । এখন আমার নানা বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভালই লাগে । আমার প্রিয় বিষয় ইতিহাস । সভ্যতার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খালি দেখি ক্ষমতা দখলের লড়াই ইতিহাসের মূল বিষয় হয়ে বসে আছে । আর তার উপর আছে ধর্মান্ধতা । কিছুদিন আগেই বোধহয় উৎসর ব্লগে পড়ছিলাম যে ভগবান আসলে খুব ভীতু । একধর্মের ভগবান কিছুতেই অন্যধর্মের ভগবানকে সহ্য করতে পারেন না । কেউ যদি ঈশ্বরের একটু নিন্দামন্দ করে তাহলেই তাঁর আসন টলে ওঠে ।

তসলিমা নাসরিন যদি ইসলাম হজরত মহম্মদ বা আল্লা সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেই থাকেন তাহলে ইসলামেরই বা কি আর আল্লারই বা কি । যেকোন ধর্মের ঈশ্বর সম্পর্কেই বলা হয়ে থাকে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান । আরে ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হয়েই থাকেন তাহলে নিশ্চই তাঁর ইচ্ছাতেই সব কিছু হয় । তাহলে ধরে নিতে হবে যে তসলিমা নাসরিন যে মন্তব্যগুলি করেছেন তাও সম্ভব হয়েছে কেবল সর্বশক্তিমান আল্লার ইচ্ছাতেই । আর আল্লার ইচ্ছাতেই যদি সবকিছু হয়ে থাকে তো কিছু লোকের খেপে ওঠার কারণ কি বোঝা যায় না । হয়ত কিছু লোকের খেপে ওঠাও হয়ত সম্ভব হয়েছে আল্লার ইচ্ছাতেই ।

আসলে মৌলবাদ মানুষকে এমনভাবে নিজের জালে জড়িয়ে ফেলছে তারা নিজেরা কি করছে বা কি বলছে তারা নিজেরাই তা জানে না । এরমধ্যে আবার কলকাতার এক মসজিদের ইমাম তসলিমা নাসরিনকে হত্যার ডাক দিলেন । আর আমাদের বামপন্থী প্রগতিশীল মার্কসবাদী সরকারের পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে রইল । সত্যি লোকহাসানো আর কাকে বলে । এর আগে এরা একবার লোক হাসিয়েছিল তসলিমার দ্বিখণ্ডিত নিষিদ্ধ করে । পরে আবার আদালতের রায়ে দ্বিখণ্ডিত বাজারে ফিরে আসে । আর না এলেও কোন ক্ষতি ছিল না । কারণ বইতে ইন্টারনেটে সহজলভ্য আর নকল বইও সহজেই পাওয়া যায় । আর এসব আটকানোর কোন ক্ষমতা এদের নেই ।

এরা আবার বিজেপিকে অসভ্য বর্বর বলে ! আসলে মুসলমানদের ভোট টানার জন্য বিজেপি কংগ্রেস আর সিপিএমের মধ্যে কোন তফাত নেই । তারা সবাই সমান সাম্প্রদায়িক । কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে তারা ভারতে মুসলমানদের কোন উন্নতিই করতে পারে নি ।

Sunday, June 10, 2007

ঈশ্বরের থাকা বা না থাকা নিয়ে কিছু আলোচনা ।

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটি লেখায় পড়েছিলাম তর্ক বিতর্ক তো অনেক হল কিন্তু এখনও এটাই প্রমাণ করা গেল না যে ঈশ্বর আছেন না নেই ।

আমাদের জেনারেশনকে আমার বরাবরই কনফিউজড লাগে । বিভিন্ন ব্যাপারে আমাদের যেন কোন সুষ্পষ্ট মতামত নেই । এত রকমের ভিন্ন ভিন্ন রকমের চিন্তাভাবনা চারিদিক থেকে আমাদের ঘিরে ধরে যে তাদের মধ্যে কোনটি গ্রহনযোগ্য সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারা যায় না । কখনও মনে হয় একপক্ষ ঠিক কখনও বা মনে হয় অপরপক্ষ । আবার বেশিরভাগ সময়েই মনে হয় উভয়পক্ষের কথাতেই যেন কিছু যুক্তি আছে । কাউকেই যেন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না । ঈশ্বরের অস্তিত্বের ব্যাপারে ঠিক একই কথা মনে হয় । যাঁরা বলেন যে ঈশ্বর আছেন আর যাঁরা বলেন যে ঈশ্বর নেই তাঁদের উভয়ের কথার মধ্যেই অনেক যুক্তি রয়েছে । কারোর যুক্তিই পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়া যায় না ।

তবে ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমানে যে কথাগুলি প্রচলিত সেগুলি হল । আমরাই হচ্ছি ঈশ্বরের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমান । ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন বলেই আমরা আছি । না হলে আমাদের কোন অস্তিত্ব থাকত না । ঈশ্বর সর্বদা আমাদের অন্তরে অধিষ্ঠান করেন । তাই ঈশ্বরকে পেতে গেলে মন্দির মসজিদ বা গীর্জায় গিয়ে কিছু হবে না । নিজের অন্তরের মধ্যেই ঈশ্বরকে খুঁজতে হবে ।
কিন্তু এই ধরনের কথায় ঠিক যেন মন ভরে না । আমরা শিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত মানুষ আমাদের চাই যুক্তি । কোন ধর্মগুরু কি কথা বলল বা কি ধর্মগ্রন্থে কি কথা লেখা আছে সেটা কখনও প্রমাণ হতে পারে না । পৃথিবীর বেশিরভাগ ধর্মগ্রন্থেই যা লেখা আছে সেগুলি যে ঠিক তারই বা প্রমান কি ? বা সেগুলি যখন লেখা হয়েছিল তার পরে সেগুলিকে কোন বদল করা হয় নি তারই বা নিশ্চয়তা কোথায় ? সেগুলি যখন লেখা হয়েছিলাম তখন তো আমরা এই পৃথিবীতে ছিলাম না । আর ধর্মগ্রন্থগুলিকে বিনা বিচারে মেনে নেওয়াটাও কি একধরনের গোঁড়ামি নয় ।

ধর্মগ্রন্থগুলি হল অনেকটা জ্যামিতির স্বতঃস্বিদ্ধের মত । প্রথমেই মেনে নিতে হবে কোন প্রমান ছাড়াই যে এইগুলি ঠিক । না হলে কোন অঙ্কই কষা যাবে না । বেশিরভাগ ধর্মেই আছে যে কোন অবস্থাতেই ধর্মগ্রন্থগুলির বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না । বিনা বিচারে মেনে নিতে হবে এর সব কিছু । এই ব্যাপারটাই আমার আশ্চর্য লাগে । যাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন তাঁরা তো এটাও তো বিশ্বাস করবেন যে মানুষের এই সভ্যতা মানুষের বিচার বিবেচনা বুদ্ধি সবই ঈশ্বরের দান । তাহলে মানুষ যদি তার বুদ্ধি বিবেচনা খাটিয়ে ধর্মের মূল বক্তব্যগুলি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তোলে তবে তা কেন গ্রহনযোগ্য হবে না ।

মানুষ সব সময়েই তার বুদ্ধি বিবেচনা খাটায় আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেও খাটাত আর এখনও খাটায় । মনে রাখতে হবে যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুন কৃষ্ণের কাছে পুরো গীতা শোনার পরও তাঁর সংশয় কিন্তু কাটেনি তখন কৃষ্ণকে বাধ্য হয়ে বিশ্বরূপ দর্শন করাতে হয়েছিল । কে জানে হয়ত কৃষ্ণ অর্জুনকে হিপনোটাইজ করেছিলেন । অর্থাৎ পুরোপুরি বিশ্বাস আনতে গেলে চাই প্রত্যক্ষ প্রমাণ ।

অনেক সাধুসন্ত আর ধর্মগুরু কিন্তু এই প্রত্যক্ষ প্রমান দিয়েই মানুষের মনে বিশ্বাস আনেন । অর্থাৎ তাঁরা নানা রকমের ম্যাজিক দেখিয়ে সাধারন মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন ।

এখন দেখা যাক অন্যান্য অলৌকিক মতবাদের দিকে । যেমন মৃত্যুর পরে জীবন, আত্মা আর জন্মান্তর । অর্থাৎ এটা যদি মেনেও নেওয়া যায় যে মৃত্যুর পরে মানুষের আত্মা বেঁচে থাকে । আত্মা কখনও মরে না ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু তাতেও কিন্তু ঈশ্বরের থাকার পক্ষে কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না । অর্থাৎ এরকম একটা জগতের কল্পনা সহজেই করা যায় যেখানে আত্মা আছে, পূর্ণজন্ম আছে । এমনকি ভূতও আছে কিন্তু কোন ঈশ্বর নেই । আমাদের এই জগতের পক্ষে একজন ঈশ্বরের থাকা বা না থাকা কি খুব জরুরি কিনা সেটা বোঝা যায় না ।

কমিউনিস্টদের ঈশ্বর সম্পর্কে মূল বক্তব্যটাও কিন্তু বেশ আকর্ষনীয় । তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে । ভগবান হল গরীব মানুষদের ভুলিয়ে রাখার জন্য বড়লোকদের একটা কায়দা । কথাটা কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয় । পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে কিন্তু দেখা যায় ভগবানের নাম করেই বিভিন্ন দেশের শাসকেরা তাঁদের শাসন চালিয়ে গেছেন । ঈশ্বরের নামে শাসন করে তাঁরা দুর্বলদের উপর আধিপত্য চালিয়েছেন । দেশ শাসন করেছেন । রাজ্যজয় করেছেন । তাঁরা প্রচার করেছেন যে রাজা বা সম্রাট হচ্ছেন স্বয়ং ভগবানের অবতার বা তাঁর প্রতিনিধি । চার হাজার বছর আগেকার মিশরীয় ফারাওদের থেকে আরম্ভ করে মাত্র কয়েকদিন আগে পতন হওয়া নেপালের রাজা সবাই একই পথের পথিক। মাত্র কয়েক মাস আগেও নেপালে আইন ছিল যে রাজা হচ্ছেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার তাই তিনি সকল আইন কানুনের উর্দ্ধে । কোন আইনই তাঁকে বন্দী করতে পারবে না । বিভিন্ন দেশে গরীব মানুষদের বলা হত তোমার রাজার সেবা কর কেননা তিনি ভগবানের অবতার ।

আবার মেয়েদের দমিয়ে রাখার জন্যও ঈশ্বরকে টেনে আনা হয় । তাঁদের বলা হয় তাঁদের স্বামীই হচ্ছেন তাঁর কাছে ভগবান । অর্থাৎ পতি পরম গুরু । অথবা ভগবানের ইচ্ছা এই যে স্ত্রীরা সবসময় তাদের স্বামীর সেবা করুক । কিন্তু পুরুষদের কাছে তাঁদের স্ত্রীদের অস্তিত্ব কেবল সেবাদাসীর থেকে আর কিছু বেশি নয় । আবার হিন্দু বা মুসলিম সব ধর্মেই আছে কোন পুরুষ যদি ভাল কাজ করে তাহলে সে মৃত্যুর পরে সে স্বর্গে বা বেহেস্তে যাবে । এবং স্বর্গে গিয়ে সে সেখানকার হুরি পরি আর অপ্সরাদের শরীর সম্ভোগের সুযোগ পাবে । কিন্তু কোন মহিলা সম্পর্কে এটা বলা নেই যে তারা যদি ভাল কাজ করে তাহলে মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে সে কয়টি পুরুষকে উপভোগ করতে পারবে ।

তা যাই হোক যার বিশ্বাস আছে সে ভগবানে বিশ্বাস করবে আর যার নেই সে করবে না । সেটাই আসল কথা । কিন্তু কোন কোন সময় সত্যিই মানুষের ভগবানের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায় যখন তারা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় । সম্প্রতি ইজরায়েলে পোল্যান্ডের একটি ইহুদি মেয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ডায়েরি প্রকাশিত হয়েছে । সেখানে সে লিখেছে – যখন দেখি মানুষদের জীবন্ত অবস্থায় ফার্ণেসে ফেলে দেওয়া হচ্ছে । বাচ্চাদের জার্মান সৈন্যরা কেবল খালি হাতে মেরে ফেলেছে তখন ঈশ্বরের উপরে আর কোন বিশ্বাস থাকে না । যদি সত্যিই ঈশ্বর থাকতেন তাহলে কিছুতেই তিনি তাঁর সন্তানদের এভাবে মরতে দিতেন না ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মান নাজিরা প্রায় নব্বই লক্ষ মানুষকে কনসেনট্রেসন ক্যাম্পে মেরে ফেলেছিল । যাদের মধ্যে বহু শিশুও ছিল । যারা ঈশ্বর বিশ্বাসী তাঁদের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যদি ঈশ্বর থেকে থাকেন তাহলে তিনি কিভাবে এই অনাচার মেনে নিলেন । নাকি হয়ত ঈশ্বর আছেন কিন্তু মানুষের ভালমন্দে তাঁর কিছু এসে যায় না । ঈশ্বরবিশ্বাসীরা প্রায়ই একটা কথা বলেন যে ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্য । আমার জানতে ইচ্ছা হয় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে ছয় কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল তাতে কার মঙ্গল হয়েছিল । টিভিতে মাঝেমধ্যেই দেখায় সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষের ছবি । হাজার হাজার মানুষ খেতে না পেয়ে যাদের হাত পা কাঠি হয়ে গেছে । বাচ্চাদের প্রত্যেকটি পাঁজরা গোনা যাচ্ছে । অথচ তাদের পেটটা বড় । যেকোন মূহুর্তে তারা মারা যেতে পারে স্রেফ না খেয়ে । তাদের এই অবস্থা তাও কি ঈশ্বরের করুণার দান । অথবা কয়েকবছর আগে সুনামিতে ইন্দোনেশিয়াম, ভারত, শ্রীলঙ্কা সহ আরো বহু দেশে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল তাও কি ঈশ্বরের ইচ্ছায় হয়েছে ।

তাহলে আমাদের এই জগতে ঈশ্বরের কাজটা কি । তিনি কি একটা বাচ্চার মত যে নিজের খেলনা গুলো নিয়ে খেলে ছড়ায় ভাঙে আবার গুছিয়ে রাখে । যখন যা ইচ্ছা তখন তা করে । আর এই সমস্ত কাজের মধ্যে কোন যুক্তিবোধ কাজ করে না । নাকি আমাদের এই দুঃখ দুর্দশা আনন্দ সবই আসলে একটা ভ্রম । আমরা মনে করছি যে আমরা ভাল আছি বা খারাপ আছি । কিন্তু আমরা আসলে যা দেখছি বা শুনছি তা সবই মায়া । এই অনুভূতিগুলির বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই । আমরা স্বপ্ন দেখি যে আমরা খুব বিপদে পড়েছি আর ভগবানকে ডাকছি । কিন্তু ভগবান এলেন না । কিন্তু যখন আমাদের ঘুম ভাঙে তখন কি আমরা ভগবানের উপর অভিমান করি যে কেন তিনি আমাকে স্বপ্নের বিপদ থেকে বাঁচাতে এলেন না । কারণ আমরা জানি যে স্বপ্নের ভিতরে যে বিপদ আমাদের হয়েছিল সেটা ছিল একটা ভ্রম । তখন হয়তো আমাদের হাসি পায় । এই ব্যাপারটাও ঠিক তেমন নয়তো । নাহলে যে কোন যুক্তি দিয়েই পৃথিবীতে অনাচারগুলির কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না । কেনই বা মানুষে মানুষে এত বৈষম্য আর কেনই বা খুব অল্পসংখ্যক কিছু মানুষ পৃথিবীর সব সম্পদ ভোগ করে তার কোন ব্যাখ্যা মেলে না । কেন কিছু মানুষ সারাজীবন ধরে সুখভোগ করে আর কিছু মানুষের সারাজীবন কাটে দুঃখে যেখানে সব মানুষেরই ভগবানের কৃপা সমানভাবে পাওয়া উচিত ছিল ।

কেউ কেউ বলেন যে ভগবান মানুষকে দুঃখ কষ্টে ফেলে পরীক্ষা করেন যে তারা কতটা সহনশীল হয়েছে । কিন্তু ভগবানের এরকম খামখেয়ালিপনায় কি লাভ হয় সেটা কেউ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলতে পারেন না । কোন মানুষ সে হয়ত জীবনে চরম কষ্ট পেয়েছে যা নরকযন্ত্রনারই সামিল সে তো বলতেই পারে যে হয়ত ঈশ্বর আছেন কিন্তু তাতে আমার কি । ঈশ্বর থেকেও তো আমার কোন উপকার হয়নি । তাহলে ঈশ্বর থাকুন তাঁর মতো । আর আমি থাকব আমার মত ।

তবে শেষ অবধি আমার যেটা মনে হয় সেটা হল ঈশ্বর হয়ত আছেন কিন্তু তিনি সর্বশক্তিমান নন । অর্থাৎ তিনি চাইলেই কোন মানুষের ভাল বা মন্দ করতে পারেন না । হয়ত লড়াই করার জন্য কিছুটা শক্তি যোগাতে পারেন । যেমন কেউ যদি একটুও পড়াশোনা না করে তাহলে কি কেবল ঈশ্বরকে ডেকে পরীক্ষায় পাস করতে পারে । না তা কোনমতেই সম্ভব নয় । ঈশ্বর কেবল তাকে ভাল পরীক্ষা দেবার জন্য কিছুটা মানসিক শক্তি যোগাতে পারেন । কিন্তু তাকে পাস করিয়ে দেবার ক্ষমতা তাঁরও নেই । ঈশ্বর যে সর্বশক্তিমান নন তার প্রমান হল আমাদের পুরান আর মহাকাব্যগুলি । সেগুলি পড়লে দেখা যায় যে ঈশ্বরের অবতার হিসাবে যাঁরা জন্মগ্রহন করেছিলেন তাঁদেরও ব্যক্তিগত জীবনে কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে । যেমন রাম অথবা কৃষ্ণ । স্বয়ং ভগবানের অবতার হয়েও রামকে চোদ্দ বছর বনবাস করতে হয়েছে । রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করার পরও তাঁর বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি । আবার কৃষ্ণ এত রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী হয়েও তাঁর নিজের বংশকেই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি । আবার যীশুখ্রীষ্টকেও কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে । ভগবানের প্রতিনিধি হয়েও তাঁকে ভয়ানক মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে । তাহলে কোনো খ্রীষ্টান তো ভাবতেই পারে যে ঈশ্বর যখন যীশুকেই রক্ষা করতে পারেননি তখন কিভাবে তিনি তাঁদের রক্ষা করবেন ।

তাই মনে হয় ভগবানের প্রতি আস্থার থেকেও যেটা দরকার বেশি সেটা হল নিজের প্রতি আস্থা । আর নিজের প্রতি আস্থার অভাব থাকলেই মানুষ যখন পরাস্ত হয় তখন সে ভগবানকে দোষারোপ করে । অথচ প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই যদি ভগবানের প্রকাশ থাকে তাহলে নিজের প্রতি আস্থাই ভগবানের প্রতি আস্থায় রূপান্তরিত হয় আর সেই সময়েই একজন চরম নাস্তিক কিন্তু নিজের প্রতি আস্থাশীল একজন ব্যক্তি আসলে হয়ে ওঠেন একজন আস্তিক ।

Saturday, May 05, 2007

একজন হিন্দু হিসাবে কেন আমি গর্বিত ।

ভারতবর্ষে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষিত হিন্দুদের অবস্থাটা কিছুটা যেন কনফিউজড । আধুনিক প্রগতিশীল বাঙালি হিন্দুরা প্রায়ই নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দিতে চান না বা দিতে লজ্জা পান । তাঁদের অনেকরই বক্তব্য যে তাঁরা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না এবং বিশ্বাস করতে চানও না । তাঁরা অনেকই বলবেন যে তাঁরা ভারতীয় হিসাবে গর্বিত বা বাঙালি হিসাবে গর্বিত কিন্তু তাঁরা কখনই বলবেন না যে তাঁরা হিন্দু হিসাবে গর্বিত ।

অদ্ভুত ব্যাপার হল আমি যদি নিজেকে একজন হিন্দু বলে পরিচয় দিই তাহলে যেন আমি যেন একজন সাম্প্রদায়িক অথবা বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এস এস এর বা বজরং দলের দালাল । আর আমি যদি বলি যে আমি কোন ধর্মে বিশ্বাস করি না তাহলেই আমি একজন প্রগতিশীল এবং আধুনিক মানুষ ।

অথচ ভারতে যদি কোন মুসলমান নিজেকে মুসলমান হিসাবে পরিচয় দেন অথবা একজন খ্রীস্টান নিজেকে খ্রীস্টান হিসাবে পরিচয় দেন তাহলে ধরে নেওয়া হয় সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার । এবং কেউই তাঁদের কোন রাজনৈতিক বা অন্য কোন পরিচয় খুঁজতে যায় না । কিন্তু একজন হিন্দু যদি নিজেকে হিন্দু হিসাবে পরিচয় দেন তাহলেই যেন তার যত দোষ ।

অথচ এই প্রগতিশীল হিন্দুরাই জাতপাত দেখে ছেলেমেয়ের বিয়ে দেন অথবা তাঁদের যদি শিডিউল কাস্ট বা শিডিউল ট্রাইব সার্টিফিকেট থাকে তবে তার উপযোগিতা নিতে তাঁরা পিছপা হন না । এবং কথায় কথায় আফসোস করেন যে কেন শুধু মুসলমানদেরই চারটি বিয়ে করার অধিকার থাকবে ।

এই প্রগতিশীল মানুষদের অনেকরই বক্তব্য হিন্দু ধর্ম বলে কিছু হয় না, যারা আগে সিন্ধুনদের তীরে বসবাস করত তারাই নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দিত । হিন্দুধর্মের কোন প্রতিষ্ঠাতা নেই, এতে তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ইত্যাদি ।

কিন্তু তাঁরা ভুলে যান যে হিন্দুধর্ম কখনও কোন মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় নি। যুদ্ধজয় করে কোন দেশের মানুষকে বাধ্য করা হয় নি একে গ্রহন করার জন্য । অথবা সামান্য কিছু খাবারের লোভ দেখিয়ে গরীব মানুষদের রূপান্তরিত করা হয়নি এই ধর্মে ।

বরং হিন্দুরাই অন্য ধর্মের আচার আচরন এবং দেবদেবীকে নিজেদের বলে গ্রহন করেছে । যেমন প্রাচীন বৈদিক আর্যরা আস্তে আস্তে গ্রহন করেছিল শিব ও শক্তিকে । আবার পরবর্তীকালে বুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বিষ্ণুর অবতার বলে ।

হ্যাঁ এটা অবশ্যই মেনে নেওয়া দরকার যে হিন্দুধর্মের ভিতরেও কালক্রমে নানারকমের কুসংস্কার প্রবেশ করেছিল । কিন্তু সেগুলিও ছিল কিছু মানুষের ষড়যন্ত্র । যেমন সতীদাহ প্রথা । শোনা যায় বেদের কিছু শ্লোকের ভুল অর্থকরে সতীদাহ প্রথা চালু করা হয়েছিল । এর আসল উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের সম্পত্তি দখল করা । আবার পরবর্তীকালে বিদ্যাসাগর প্রমান করেছিলেন যে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত । আর জাতিভেদ প্রথার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে কে কি কাজ করবে তা ঠিক করে দেওয়া । সমাজের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা এর উদ্দেশ্য ছিল না । আর যদি এটা বৈষম্যই সৃষ্টি করে থাকে তাহলে এখনও কেন ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার নানা রকমের সংরক্ষন চালু রেখে জাতিভেদ প্রথাকে জিইয়ে রেখে দিয়েছেন ?

সমস্ত মানুষই যে এক তা প্রমান করার চেষ্টা হিন্দুদের মধ্যে থেকে বারবারই হয়েছে । চৈতন্যদেব এবং বিবেকানন্দই তার প্রমাণ ।

কমিউনিস্টরা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না । কিন্তু তাঁরাও স্বীকার করেন চৈতন্যদেব এবং বিবেকানন্দের দর্শনকে ।

বিবেকানন্দের লেখায় পড়েছি যে হিন্দুধর্ম শ্রেষ্ঠ কারন একমাত্র এই ধর্মই শেখায় অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে । রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন যে যত মত তত পথ । অর্থাৎ তিনিও অন্য ধর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন । এমনকি এরকমও শোনা যায় যে তিনি মুসলমান হয়েও সাধনা করেছিলেন ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের উপরেও হিন্দু দর্শনের প্রচুর প্রভাব ছিল । অনেক বিপ্লবীই ইংরেজদের বিরূদ্ধে মনোবল সংগ্রহ করতেন গীতা পড়ে ।

অতএব জন্মসূত্রে আমি হিন্দু এবং আমি যদি আমার এই পরিচয় সম্পর্কে গর্ববোধ করি তাতে দোষের কিছু নেই ।

Sunday, March 11, 2007

চাকরি ছাড়ার ইতিবৃত্ত

কিছু কিছু অফিসে পরিস্থিতি হচ্ছে এরকম যে দলে দলে কর্মীরা আসছে আর যাচ্ছে । অর্থাৎ কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেবার হার প্রচুর । অনেক সময়ে মাত্র তিনমাসের ব্যবধানে দেখা যায় অফিসে সব নতুন মুখ । অফিসের চেহারাই যেন পালটে গেছে । আবার তিনমাস পরে গেলেই দেখা যায় যে আবার বহুলোক ছেড়ে দিয়েছে এবং অন্যরা যোগ দিয়েছে ।

কিন্তু বেসরকারী চাকরিতে ছেড়ে দেবার এত বেশী হার কেন । ম্যানেজমেন্ট অনেক সময়েই দোষ চাপায় কর্মীদের উপরে । তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে সামান্য কিছু টাকা বেশি পাবার লোভে কর্মীরা চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছে । কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটা এত সহজ সরল নয় । বেশিরভাগ কর্মীই শুধুমাত্র কিছু টাকা বেশি পাবে বলে চাকরি বদলায় না । চাকরি বদলানোর পিছনে বেশ কিছু অন্য কারনও কাজ করে ।

আমি গত প্রায় আড়াই বছর ধরে কলকাতায় বেসরকারি চাকরি করছি । বর্তমানে আমি আমার পঞ্চম চাকরি করছি । কোনও অফিসে আমার সর্বাধিক থাকার রেকর্ড হল মাত্র নয় মাস । এরকম ব্যাপার শুধু আমার ক্ষেত্রে নয় আরও বহু জনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে । কোন অফিসে কেউ যদি দুই বছর কাটায় তাহলেই সবাই অবাক হয়ে যায় যে কি করে সে দুই বছর একই কম্পানিতে কাটিয়ে দিল । মোটামুটি ভাবে চাকরি ছাড়ার পিছনে কারনগুলো যদি খোঁজার চেষ্টা করি তাহলে সেগুলো দাঁড়াবে এরকম --

১. ইন্টারভিউয়ের সময়ে ম্যানেজমেন্ট যা বলে পরে দেখা যায় সেগুলো অনেক কিছুই মিলছে না । যেমন বলা হল আমাদের অফিস সন্ধ্যে ছটায় ছুটি । কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল যে ছুটির টাইমটা আসলে সাতটা ছাড়িয়ে আটটা সাড়ে আটটায় গিয়ে পৌঁছচ্ছে । কিংবা ইন্টারভিউয়ের সময়ে বলা হয়েছিল আপনাকে এই ধরনের কাজ করতে হবে । কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল তার বাইরেও আরো অনেক ধরনের কাজ দেওয়া হতে লাগল যেটা তার করার কথা ছিল না । অর্থাৎ স্পষ্টই বোঝা গেল যে ইন্টারভিউয়ের সময়ে ম্যানেজমেন্ট তথ্য গোপন করেছিল ।

২. উৎসাহের অভাব চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে একটা প্রধান কারন বলে মনে হয় । অর্থাৎ কারও কর্মকুশলতার অভাব হলে ম্যানেজমেন্ট স্টেপ নেবে কিন্তু কেউ যদি ভালো কাজ করে তবে তার জন্য কোন ধন্যবাদ বা উৎসাহ দেবে না । ভাব খানা হল এই যে মাইনে দিচ্ছি এই ঢের আবার ধন্যবাদ দিতে হবে নাকি ।

৩. কাজের পরিকল্পনার অভাব যার ফল ভুগতে হয় কর্মীদের । অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট কাজ ধরেই খালাস । কিন্তু সেই কাজটা কিভাবে সুষ্ঠুভাবে করা যেতে পারে সে বিষয়ে কোন চিন্তাভাবনা নেই । ফলে তিন দিনের কাজ শেষ হতে লাগছে আটদিন আর দায় গিয়ে পড়ছে কর্মীদের উপর ।

৪. ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগের অভাব । যার ফলে কর্মীরা বুঝতে পারছে না তাদের সঠিক দায়িত্বটা কি । আর ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পারছে না যে কর্মীদের কাজ করতে কি সমস্যা হচ্ছে ।

৫. পরিকাঠামোর অভাব । কর্মীদের কাজ করার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই অথচ তাদের বলা হচ্ছে ঠিক সময়ে সঠিক ভাবে কাজ শেষ করতে । অর্থাৎ ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার ।

৬. ম্যানেজমেন্টের জ্ঞান এবং দক্ষতার অভাব । অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে অফিসে যে ধরনের কাজ হয় সে ব্যাপারে অফিসের মালিকপক্ষ বা ম্যানেজমেন্টের কোন জ্ঞান নেই । তার শুধু টাকা ইনভেস্ট করেই খালাস । ফলে কোন কাজে কোন সমস্যা দেখা দিলে তাদের সেই সমস্যা বোঝার দক্ষতা বা ধৈর্য কোনটাই নেই । তাদের খালি টাকায় ইন্টারেস্ট ।

৭. কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই । অর্থাৎ অফিস যেমন চলছে চলুক । এর থেকে আর বেশি বাড়াব না । যেরকম কাজ করছি সেই রকম কাজই করে যাব, নতুন কোন কাজের চেষ্টা করব না । কর্মীদের যদি অন্যান্য কাজে দক্ষতাও থাকে তাহলেও সেই দক্ষতাকে কাজে লাগাব না ।

৮. খারাপ ব্যবহার । এটা করে অফিসের ম্যানেজমেন্ট নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ করে । কর্মীরা সেই অবস্থায় কিছু না বললেও পরে এর শোধ ঠিকই নেয় । চাকরি ছাড়ে ঠিক মোক্ষম সময়ে । যার ফলে কোন প্রজেক্ট ডুবে যায় এবং মালিকপক্ষের সাড়ে সর্বনাশ হয় ।

৯. অবাস্তব টার্গেট বা ডেডলাইন দেওয়া । অনেক সময়েই ম্যানেজমেন্ট জেনেশুনেই কর্মীদের উপরে অবাস্তব টার্গেট বা ডেডলাইন চাপিয়ে দেয় । এবং এব্যাপারে তারা কর্মীদের সাথে কোন আলোচনাও করে না ।

১০. মাইনে বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা না থাকা । ম্যানেজমেন্ট মৌখিকভাবে কর্মীদের কাজের খুব প্রশংসা করে কিন্তু মাইনে বাড়ানোর কথা উঠলেই চুপচাপ হয়ে যায় । কর্মীদের এই শুকনো প্রশংসায় যে মন ভরবে না সেটাই তো স্বাভাবিক ।

কোন ভুলভাল অফিসে ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার কিরকম হয় তা নিজের দেখা একটা ঘটনা বলি ।

একটা অফিসে আমি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে কাজ করতাম । সেখানে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজারের আন্ডারে দুজন প্রোগ্রামার কাজ করত । আমরা একই ঘরে বসতাম । সেই ম্যানেজার একজন প্রোগ্রামারকে জিজ্ঞাসা করল কিরে তোর কাজ হল ? ছেলেটি বলল না এখনও হয়নি । কি এখনও হয়নি ! খেঁকিয়ে উঠল ম্যানেজার । আর কবে হবে ?

খানিকক্ষন বাদে প্রজেক্ট ম্যানেজার আবার জিজ্ঞাসা করল কিরে হল ? এবার ছেলেটি বলল হ্যাঁ হয়ে গেছে । প্রজেক্ট ম্যানেজার এবারও খেঁকিয়ে উঠল । সেকি ! হয়ে গেছে ! তবে এখনও চুপ করে বসে আছিস কেন ?

ছেলেটি কয়েকদিন বাদে থেকেই অফিসে আসা বন্ধ করল । এবং বহু চেষ্টা করেও সেই প্রজেক্ট ম্যানেজার তার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারল না ।

তবে চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে সব দোষই যে ম্যানজমেন্টের এমন আমি মনে করি না । অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদেরও দায়িত্ব থাকে । শুধুমাত্র ভাল লাগছে না বলে চাকরি ছেড়ে দিতেও আমি দেখেছি ।

তবে কর্মীদের দায়িত্ব থাকে যেমন কম্পানিকে স্যাটিসফাই করা তেমনি কম্পানিরও দায়িত্ব কর্মীদের চাহিদা মেটানো । যদি কোন কর্মী মনে করে যে তার কম্পানি তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী মাইনে দিচ্ছে না তবে সে তো অন্য কোন জায়গায় জয়েন করতেই পারে । এর মধ্যে তো দোষের কিছু নেই । তবে তার নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে তবেই ছাড়া উচিত । যাতে কোন পক্ষেরই কোনো অসুবিধা না হয় ।

আমার মাত্র আড়াই বছরের অভিজ্ঞতার উপরে আমি এই লেখা লিখলাম । হয়ত সময়ের সাথে সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গিও কিছুটা পালটাতে পারে । আর সব সংস্থায় যে এরকম অবস্থা তা মনে করার কোন কারন নেই । অনেক অফিসেই সুন্দর ব্যবস্থা নীতি এবং পরিকল্পনা থাকে । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার কেরিয়ারের শুরুর সংস্থাগুলোতে আমাকে এই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ।

Wednesday, March 07, 2007

স্যার কালচার

অনেক অফিসেই দেখা যায় যে একটা ছোট ঘরে অন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হুমদো মুখে একজন বসে থাকে তাকে সবাই স্যার স্যার করে ।

কলকাতায় এই স্যার কালচারটা বেশ প্রবল । অফিসে বসকে সবাই স্যার বলেই ডাকে । আর অনেক উল্লুক এইভাবে স্যার স্যার ডাকাটাকে বেশ পছন্দও করে । যেন স্যার কি যেন একটা বিশাল সম্মানের ডাক ।

আমি কখনই কাউকে স্যার বলে ডাকাটা পছন্দ করি না । আসলে স্কুলের মাস্টারমশাইদের ছাড়া কাউকেই আমার স্যার বলতে ইচ্ছা করে না । তবুও চাকরিতে জয়েন করার পরে যখন দেখি যে সবাই বসকে স্যার স্যার করছে তখন বাধ্য হয়ে আমাকেও করতে হয় । তবে আমার চাকরি জীবনে সব বসকেই যে স্যার স্যার করতে হয়েছে এমন নয় । দুটি অফিসে আমরা বসকে অমুকদা তমুকদা সম্বোধনেও ডাকতাম । যেটা আমার মতে খুবই ভালো ।

অফিসের বাইরে লোকে দুঅবস্থাতে স্যার স্যার করে । যখন তারা বিনা টিকিটে চেকারের হাতে ধরা পড়ে অথবা কোন কারনে পুলিশের হাতে পড়ে । আবার অনেক স্কুলের ক্লার্ক খুব অসন্তুষ্ট হয় যদি ছাত্ররা তাকে স্যার বলে না ডাকে ।

তবে স্যার বলে আমাকেও কেউ ডেকেছে এমনও হয়েছে । কলকাতার রাস্তায় কিছু ভিখিরি পাওয়া যায় যারা স্যার স্যার বলে আলাপ ফাঁদে তারপর আসল কথায় আসে । স্যার একটা কথা ছিল । আমি বলি কি কথা ? সে তখন ইনিয়ে বিনিয়ে আসল কথায় আসে যে সে টাকা চায় কারন সে খুব বিপদে পড়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি ।

আমি অল্প কিছুদিন একটা কম্পিউটার সেন্টারে ফ্যাকাল্টির কাজ করেছিলাম তখন সেখানে ছাত্রছাত্রীরা আমাকে স্যার স্যার বলেই ডাকত । তবে সেটা শুনতে আমার কখনই ভালো লাগত না ।

আমার একটা প্রস্তাব আছে । এই স্যার কথাটাকে কি আমাদের কর্মজীবন থেকে একেবারেই বাদ দেওয়া যায় । এটা শুধুমাত্র আমাদের ছাত্রজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকুক না ।

Friday, December 08, 2006

আমি যে নীতিতে বিশ্বাস করি ।

আমি পুরোপুরি অহিংসা নীতিতে বিশ্বাস করি । গান্ধীজিকে আমার এইজন্য ভাল মনে হয় । এবং এটা লাগে রহো মুন্নাভাই দেখার পরে নয় । ছোটবেলা থেকেই আমার গান্ধীজির প্রতি একটা শ্রদ্ধা ছিল । যে শ্রদ্ধা গান্ধীজির প্রতি বেশিরভাগ বাঙালিরই নেই ।

মূলত বাঙালিদের সহিংস সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বনাম গান্ধীজি দ্বন্দ্ব বেশিরভাগ বাঙালিকে গান্ধী বিরোধী করেছে । প্রকাশ্যে কেউ গান্ধীজির বিরুদ্ধে বেশি কিছু কথা না বললেও আমি বহু লোককেই গান্ধীজির বিপক্ষে অসম্মান সূচক মন্তব্য করতে শুনেছি । বহু লোকই দেশভাগের জন্য গান্ধীজিকেই দায়ী করে থাকেন ।

এটা আমিও স্বীকার করি যে গান্ধীজির বহু দোষ ছিল । কিন্তু এটা বার বার প্রমান হচ্ছে যে বর্তমান পৃথিবীতে গান্ধীজির নীতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ।

আমি মনে করি গান্ধীজির চরম অসম্মান সেদিন করা হয়েছিল যেদিন গান্ধী হত্যার দায়ে নাথুরাম গডসেকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল । কারন হিংসার বদলে হিংসা গান্ধীজির নীতিবিরোধী । গান্ধীজি নিজে কি চাইতেন যে তাঁর মৃত্যুতে অভিযুক্তকে ফাঁসি দেওয়া হোক । আমার মনে হয় না ।

ঠিক একই ভাবে সব ধর্মই নিজেদের অহিংসার পূজারী বলে ব্যাখ্যা করলেও আমার মনে হয় সব থেকে অহিংস ধর্ম হচ্ছে জৈন ধর্ম । তার পরেই আসবে বৌদ্ধ ধর্ম । জৈন ধর্ম এতটাই অহিংস যে তারা কোনভাবেই জীব হত্যা সহ্য করতে পারে না । যাতে কোনভাবে মুখে কোন পোকা ঢুকে পড়ে নিহত না হয় সেজন্য তাঁরা মুখে কাপড় দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখেন । এর থেকে অহিংস কি কোন ধর্মের হওয়া সম্ভব ?

আর কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় সে বিষয়ে অনেক তর্ক হয়েছে । আমার কাছে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাই হল অন্যায় । যখনই আপনি অন্যের স্বাধীনতাহীনতার কারন হচ্ছেন তখনই আপনি অন্যায় করছেন । যেমন আপনি আপনার শিশুর খেলা করার অধিকার হরন করে তাকে সারাদিন পড়াশোনায় বাধ্য করছেন আপনি অন্যায় করছেন । আবার যখন জর্জ বুশ ইরাক দখল করে সেখানকার নাগরিকদের বেঁচে থাকার অধিকার হরন করছেন তখন তিনিও অন্যায় করছেন ।

আমাদের রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম একটা খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন যে দুর্নীতি দূর করতে পারেন কেবলমাত্র প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক এবং শিশুর পিতামাতা । এছাড়া কারও দুর্নীতি দূর করার ক্ষমতা নেই । ঠিক এই একই কথা প্রযোজ্য হিংসা সম্পর্কে । যে একটা খুব সুন্দর ছোটবেলা কাটিয়েছে এবং বাবা মা এবং শিক্ষকদের কাছে ঠিক শিক্ষা পেয়েছে তার পক্ষে দুর্নীতিগ্রস্ত বা হিংসাত্মক হওয়া অসম্ভব ব্যাপার ।

দুর্নীতিমুক্ত হোন । মনে রাখুন এটা আপনার বাবা মা অথবা আপনার সন্তান কেউই পছন্দ করবে না । দস্যু রত্নাকর তার বাবা মা এবং স্ত্রী সন্তানের জন্যই ডাকাতি ও খুন খারাপি করত । কিন্তু কেউই তার পাপের ভার নিতে রাজি হয় নি ।

তাই বাচ্চাদের ভালবাসুন । গান শুনুন । ছবি আঁকুন । নদীর ধারে বেড়ান । আকাশ দেখুন । ক্ষমা করতে শিখুন (সবার আগে নিজেকে) । বন্ধুত্ব করুন । আর অনেক ভাল থাকুন ।

Monday, September 11, 2006

উপলব্ধি

স্বর্গে আছে ...........

ইংরেজ পুলিশ

জার্মান ইঞ্জিনিয়ার

ফরাসি রাঁধুনি

ইতালীয় প্রেমিক

সুইস ম্যানেজার

নরকে আছে ...........

ইংরেজ রাঁধুনি

জার্মান পুলিশ

ফরাসি ইঞ্জিনীয়ার

সুইস প্রেমিক

এ পৃথিবীতে সেই হল সুখী যার আছে .....

জাপানি বউ

চীনে রাঁধুনি

ইংলিশ বাড়ি

মার্কিন বেতন

আর অসুখী হল সে যার আছে .....

জাপানি বাড়ি

ইংরেজ রাঁধুনি

মার্কিন বউ

চীনে বেতন