Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

Thursday, March 25, 2010

হরিদাসের গুপ্তকথা

হরিদাসের গুপ্তকথা নামের বইটির নাম অনেকদিন আগেই শুনেছিলাম । বইটি সম্পর্কে আমার ধারনা ছিল যে এটি বোধহয় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আপাত নিষিদ্ধ টাইপের কিছু একটা হবে । কিন্তু বইটি এককালে বেশ জনপ্রিয় ছিল সেটাও অনুমান করেছিলাম ।

এবারের বইমেলায় হঠাৎ একটি বইয়ের স্টলে হরিদাসের গুপ্তকথার সন্ধান পাই । প্রচুর নতুন বইয়ের ভিড়ে হঠাৎই একটা মলাটহীন পুরনো বই দেখে হাতে তুলে নিয়েছিলাম । পাতা উলটেই দেখি হরিদাসের গুপ্তকথা । সঙ্গে সঙ্গে বইটি কিনে ফেললাম ।

বইটির লেখক শ্রীভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় । বইয়ের প্রথমে তারিখ ১৩১০ বঙ্গাব্দ । মানে মোটামুটি ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দে লেখক বইটি লিখছেন । আর কাহিনীর ঘটনাক্রম তারও বেশকিছু বছর আগেকার ।

উপন্যাসটি চার খণ্ডে বিভক্ত । কাহিনীর নায়ক হল হরিদাস নামের একটি ছেলে । কাহিনীর আরম্ভের সময়ে তার বয়স চোদ্দ বছর । মোটামুটি হিসাব করে দেখা যায় তার জন্ম ইংরেজি ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে । হুগলি জেলার সপ্তগ্রামে চোদ্দ বছর বয়েসে হরিদাসের যাত্রা শুরু হয় এক গ্রামের পাঠশালা থেকে । সে নিজের কোন পরিচয় জানত না । পাঠশালার গুরুমশাইয়ের বাড়িতে সে লালিত । গুরুমশাইয়ের মৃত্যুর পর সে বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচিত হতে বাধ্য হয় । এরপর সাত-আট বছর নানা ঘটনার ঘনঘটার মধ্যে দিয়ে এই দরিদ্র সহায় সম্বলহীন অনাথ বালক কিভাবে নিজের পরিচয় জানল এবং পরিশেষে বিরাট ধনী জমিদারে পরিণত হল তারই রোমাঞ্চকর আখ্যান এই বই । উপন্যাসটিতে হরিদাসের নায়িকাও উপস্থিত । তার নাম অমরকুমারী । নানা বিপত্তি পেরিয়ে শেষ অবধি হরিদাস এবং অমরকুমারীর মিলন হয় । উপন্যাসটিতে প্রচুর চরিত্র । উপন্যাসের শেষপ্রান্তে এসে প্রতিটি চরিত্রেরই পরিণাম দেখানো হয়েছে । নানা রকম নাটকীয়তায় ভরপুর এই উপন্যাস । শেষে এসে সব কিছুকেই একটি বিন্দুতে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে । সব রহস্যেরই সমাধান করা হয়েছে ।

বইটিকে একটি অ্যডভেঞ্চারের গল্প বললেও ভুল হয় না । প্রায় ৬৮০ পাতার বইটিতে প্রচুর রোমাঞ্চকর ঘটনার সন্নিবেশ ঘটেছে । নানা রকম চুরি, ডাকাতি, জালিয়াতি, খুন-খারাপি, আত্মহত্যা, কিডন্যাপিং, পুলিশ-দারোগা, মামলা-মোকদ্দমা, ভূতুড়ে ঘটনা এবং ষড়যন্ত্রের ঘটনায় ঠাসা । সিপাহী বিদ্রোহের চাক্ষুষ বর্ণনাও এতে স্থান পেয়েছে ।

ঊনবিংশ শতকের বাঙলি এবং ভারতীয় জীবনের নানা বিচিত্র ঘটনার বর্ণনা এতে রয়েছে । এর সাথে আরো যুক্ত হয়েছে নানা রকম কেচ্ছা এবং ব্যাভিচারের ঘটনা । এবং প্রেমের ঘটনাও কিছু কম নেই । তখনকার সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র দেখা যায় । বাঙালি বাড়িতে ব্যভিচারের ঘটনা যে কত বেশি ছিল তার বর্ণনা পড়লে অবাক হতে হয় । অনেক পুরুষই কোন আত্মীয় মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখতেন এবং অনেক সময়ে বিপদে পড়লে তাদের নিয়ে গৃহত্যাগও করতেন । বেশিরভাগ সময়েই তাঁরা বারাণসীর মত কোন তীর্থস্থানে গিয়ে নাম পরিচয় এবং সম্পর্ক ভাঁড়িয়ে থাকতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক সম্মানও আদায় করতেন ।

লেখক লিখছেন যে –

“বাঙ্গালীদলের বেশী কলঙ্ক । জাতিতে জাতিতে, জাতিতে বিজাতিতে, সম্পর্কে সম্পর্কে, সম্পর্কে নিঃসম্পর্কে, বাঙ্গালী নর-নারী পাপলিপ্ত হলেই নিরাপদের আশাতে কাশীতে পালিয়ে আসে ; মাতুলের ঔরসে ভগিনী-পুত্রী, পিতৃব্যের ঔরসে ভ্রাতৃকুমারী, ভ্রাতার ঔরসে বিমাতৃকুমারী, ভাগিনেয়ের ঔরসে মাতুলানী, জামাতার ঔরসে শ্বশ্রু-ঠাকরানী, শ্বশুরের ঔরসে যুবতী পুত্রবধূ গর্ভবতী হলেই কাশীধামে পালিয়ে আসে ! গর্ভগুলি নষ্ট কোত্তে হয় না, কাশীর পবনের প্রসাদে বংশ-রক্ষা হয় । ”

মনে রাখতে হবে এই বর্ণনার সময়কাল ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহেরও আগের !

খুনোখুনির ঘটনাও বেশ কিছু আছে । আর আছে সেই সময়ের ভালো-খারাপ পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থার বর্ণনা । উপন্যাসটিতে পুলিশকে বেশ করিৎকর্মা হিসাবেই দেখানো হয়েছে । তবে তারা যে উৎকোচ গ্রহনেও সিদ্ধহস্ত তার ঈঙ্গিতও রয়েছে ।

কাহিণীর পটভূমিকাও বদলেছে বারে বারে । তৎকালীন ভারতবর্ষের নানা তীর্থস্থানের বর্ণনাও এতে রয়েছে । পশ্চিমের গুজরাট থেকে আরম্ভ করে পূর্বের ত্রিপুরা পর্যন্ত উপন্যাসটির ব্যাপ্তি । কাহিনী ছুঁয়ে গেছে ভারতের বিভিন্ন শহর যেমন বরোদা, আমেদাবাদ, আগ্রা, মথুরা, বৃন্দাবন, পাটনা, বারাণসী, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, ঢাকা, বর্ধমান, কানপুর, গৌহাটি । এই কাহিনী যে সময়ের সেই সময়ে ভারতে রেলপথ ছিল না বা সবে স্থাপিত হতে আরম্ভ করেছে । তাই বিভিন্ন স্থানে যাওয়াও অনেক কষ্টকর ছিল এবং তাতে বিপদের ভয়ও ছিল যথেষ্ট ।

হরিদাসের নিজের বক্তব্য ও মন্তব্য থেকে লেখকের ব্যক্তিতের বিষয়েও জানতে পারি । ইংরেজ শাসন বিষয়ে তিনি বেশ খুশি তবে সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে তিনি উভয় পক্ষেরই নৃশংসতার জন্য সমালোচনা করেছেন । রানী ভিক্টোরিয়াকে তিনি ভক্তি করতেন । তিনি ছিলেন বাল্যবিবাহ এবং জাতিভেদ প্রথার একজন সমর্থক । এবং অসবর্ণ বিবাহ প্রথার বিরোধী । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ এবং উপকারী ।

হরিদাসের গুপ্তকথা একটি উপন্যাস হলেও পড়লেই বোঝা যায় যে এটির পিছনে অনেক সত্য, লেখকের নিজের চোখে দেখা ঘটনাও রয়েছে । এটিকে একটি ঐতিহাসিক বিবরণও বলা যায় । তাই ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগের একটি চমৎকার বর্ণনা আমরা পাই ।

বইটি বেশ দুষ্প্রাপ্য তবে বর্তমান সংস্করনটি বেরিয়েছে বিশ্ববাণী প্রকাশণী থেকে ১৩০৪ বঙ্গাব্দে । দাম ৬০ টাকা ।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ।




Saturday, October 06, 2007

শারদীয়া আনন্দমেলা, কাকাবাবুর চোখে জল এবং অন্যান্য

মনে আছে ছোটবেলায় শারদীয়া আনন্দমেলায় পড়তাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সমরেশ মজুমদারের অর্জুন আর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের রোমাঞ্চকর সব উপন্যাস এছাড়া শৈলেন ঘোষের রূপকথার উপন্যাসও আমার বেশ ভাল লাগত ।

তাই সেই পুরোনো স্বাদ আবার ফিরে পেতে এবারে কিনলাম শারদীয়া আনন্দমেলা । কিন্তু হতাশ হলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবুর উপন্যাস ‘কাকাবাবুর চোখে জল’ পড়ে । এটি একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস । সেই বস্তাপচা কিডন্যাপিং এর গল্প । কাকাবাবুর বেশির ভাগ উপন্যাসই কিডন্যাপিং সংক্রান্ত । কোন গল্পে কাকাবাবু কিডন্যাপ হয় । কোন গল্পে কিডন্যাপ হয় সন্তু বা জোজো আবার কোন গল্পে অন্য কেউ । ‘কাকাবাবুর চোখে জল’ উপন্যাসে কিডন্যাপ হল কাকাবাবুর পাড়ার একটি বাচ্চা ছেলে । তারপর কাকাবাবু কিভাবে সেই ছেলেটিকে উদ্ধার করে আনলেন সেই নিয়েই হল গল্প ।

উপন্যাসটিতে কোন প্লটের বালাই নেই । কাকাবাবু গেলেন আর কয়েকজনকে ঠেঙিয়ে ছেলেটিকে নিয়ে এলেন এই হচ্ছে গল্প । আর সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই উপন্যাসে সন্তু বা জোজোর সেরকম কোনো ভূমিকা নেই । কেবল মুখ দেখানোর জন্যই তার উপন্যাসে হাজির এরকম ব্যাপার আমি প্রথমবার দেখলাম ।

উপন্যাসটি পড়তে গেলে মনে হয় কেবল মাত্র লেখার জন্যই যেন লেখা হয়েছে । স্রেফ কিছু পাতা ভর্তি করে দেওয়া । লেখক হিসাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের যে কিরকম অবনতি হয়েছে এই উপন্যাসটিই তার প্রমাণ । কিছুদিন আগেই কিনেছিলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড । এই খন্ডেই ছিল সুনীলের কিছু বিখ্যাত উপন্যাস । যেমন আত্মপ্রকাশ, অরণ্যের দিনরাত্রি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভৃতি । কি সহজ সরল দৃপ্ত ভাষায় লেখা উপন্যাসগুলি । মানুষের বিভিন্ন অভিব্যক্তি হাসি দুঃখ রাগ কামনা কিভাবে তিনি অক্লেশে লিখেছিলেন । চকচকে ছোরার ফলার মত ছিল এক একটি উপন্যাস তাঁর । আর আজ সেই লেখকের এরকম বাজে লেখা পড়তে আমার একটুও ভাল লাগল না । অবশ্য কাকাবাবুর উপন্যাসগুলির সাথে এগুলির তুলনা চলে না । তবুও কাকাবাবুর কিছু পুরোনো উপন্যাস নতুনগুলির থেকে অনেকাংশে ভাল ছিল । যেমন বিজয়নগরের হীরে, সবুজ দ্বীপের রাজা, মিশর রহস্য, কাকাবাবু ও বজ্রলামা, নীলমূর্তি রহস্য প্রভৃতি । আর এই বিষয়ের উপর কাকাবাবুর আরেকটি উপন্যাস আছে । সেটি হল কাকাবাবু ও শিশুচোরের দল ।

শারদীয়া আনন্দমেলার আরেকটি উপন্যাস পড়লাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘অঘোরগঞ্জের ঘোরালো ব্যাপার’ । কাকাবাবুর চোখে জলের মত এত বাজে না লাগলেও শীর্ষেন্দুর উপন্যাসটি পড়েও ঠিক মন ভরল না । এরকম উপন্যাস শীর্ষেন্দু অনেক লিখেছেন । মনে আছে স্কুলে পড়ার সময় যখন শীর্ষেন্দুর ঝিলের ধারে বাড়ি, গৌড়ের কবচ বা পটাশগড়ের জঙ্গলের মত উপন্যাস পড়েছিলাম তখন কি ভালোই না লেগেছিল । সেরকম ভালো লাগা অঘোরগঞ্জের ঘোরালো ব্যাপারে পাওয়া গেল না ।

মনে হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত লেখকেরা তাঁদের প্রতিভার শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন । লেখার মধ্যে সেই উদ্যম বা নতুনত্ব আর নেই । দেখা যাক নতুন লেখকেরা কেউ হাল ধরেন কিনা ।

Monday, July 09, 2007

প্রাণকুমারের স্মৃতিচারণ

কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম কলকাতার কলেজ স্ট্রীটে বই কিনব বলে । সেখানে রাস্তার ধারে যারা পুরনো বই বেচে তাদেরই একজনেরই কাছে পেয়ে গেলাম পোকায় কাটা পুরোনো বই খানা ।
বইটির নাম প্রাণকুমারের স্মৃতিচারণ । লেখক প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায় । পাঁচশো পাতার বই । দাম জিজ্ঞাসা করতে দাম হাঁকলো আশি টাকা । আমি বললাম চল্লিশ টাকা । তাতে সে দিতে রাজি হচ্ছিল না । কিন্তু আমাকে চলে যেতে দেখে অবশেষে রাজি হল চল্লিশ টাকায় দিতে । অতএব কিনে ফেললাম বই খানা ।
প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায় আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম । জানি না এখন অন্য কেউ তাঁর লেখা বই পড়েন কিনা । খুব বেশি বই তিনি লেখেননি । আমার ধারনা মেরেকেটে দশ এগারোটির মত বই তিনি লিখেছেন । বেশিরভাগই স্মৃতিচারণ, ভ্রমনকাহিনী আর ধর্ম সম্পর্কীয় লেখা ।
প্রাণকুমারের স্মৃতিচারণ আমার পড়া প্রমোদকুমারের তৃতীয় বই । প্রথম যে বইটি পড়েছিলাম সেটি হল হিমালয়পাড়ে কৈলাস এবং মানসসরোবর । ১৯১৮ সাল নাগাদ তিনি কৈলাস ও মানসসরোবর ভ্রমণে গিয়েছিলেন তারই বর্ণনা । প্রথম বইটি পড়েই আমার তাঁর লেখা ভাল লেগে যায় । বেশ সরল সাধাসিধে ভাষায় লেখা ভ্রমণকাহিনী ।
তাঁর লেখা দ্বিতীয় বইটি যেটা আমি পড়ি সেটা হল তন্ত্রাভিলাষীর সাধুসঙ্গ । এই বইটি আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বইগুলির মধ্যে অন্যতম । লেখক একসময় ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতেন নানা জায়গায় এবং সাধু এবং তান্ত্রিকদের সাথে মেলামেশা করতেন । তাঁর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই লিখেছিলেন তন্ত্রাভিলাষীর সাধুসঙ্গ ।
এই দুটি বই পড়বার পর আমার প্রমোদকুমারের লেখা আরও বই পড়বার ইচ্ছা হয় । কিন্তু তাঁর আর কোন বই হাতে পাই নি । তারপর হঠাৎই হাতে পেলাম প্রাণকুমারের স্মৃতিচারণ ।
প্রাণকুমারের স্মৃতিচারণ হল প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা আত্মজীবনী । তবে এতে তাঁর পুরো জীবনের কথা নেই । তাঁর জন্ম ১৮৮৫ থেকে আরম্ভ করে ১৯১০-১১ মোটামুটি ছাব্বিশ বছরের জীবনকাহিনী এতে আছে ।
সেই সময়ে কলকাতার একান্নবর্তী ব্রাহ্মণ পরিবারের সামাজিক রীতিনীতি এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল তার একটা ধারনা এই বইটি থেকে পাওয়া যায় ।
বইটি পড়তে পড়তে মনে হয় আমাদের সময় থেকে মাত্র একশো বছর আগে আমাদের সমাজজীবন কতটা অন্যরকম ছিল ।
প্রমোদকুমারের ছোটবেলা খুব একটা ভাল কাটেনি । বদরাগী বাবার হাতে মার খেতে খেতে আর তাঁর ফাইফরমাশ খাটতে খাটতে তাঁর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠত । তাঁর নিজের কোন স্বাধীনতা ছিল না ।
কৈশোরে পদার্পন করার পরে পরেই তাঁর বিয়ে দেওয়া হয় । আর তাঁর সতেরো আঠারো বছর বয়সেই তিনি হয়ে যান দুই মেয়ের বাপ । যখন তাঁর বিয়ে কি সেটা ঠিকমতো বুঝে ওঠার বয়সও হয়নি । আবার যখন তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান তখন তাঁর পরিবারের কেউ তাঁকে একথাটা জানাবার প্রয়োজনটুকু বোধ করেননি ।
মার অসুখ শুনে বাড়ি ফিরে আসার পর এবং অসুস্থ মাকে দেখবার পর রাতের খাওয়া শেষ করে যখন তিনি ভাইয়ের কাছে নিজের স্ত্রীর খবর চান তখন সে খুব স্বাভাবিকভাবে বলে যে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার রাতে বৌদি মারা গেছেন ।
বইটিতে সেসময়ের সভাসমিতি আর শিল্পীমহলের কথাও বড়ভাবে আছে । প্রমোদকুমার নিজেও আর্টকলেজে ভর্তি হয়েছিলেন আঁকা শিখবেন বলে । ফলে তখনকার শিল্পজগতের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্টতা পুরোভাবে ছিল । সেই সময়ের শিল্পীমহলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এবং অন্তসারশূন্যতা তাঁর লেখায় বারে বারে উঠে এসেছে ।
বঙ্গভঙ্গের আগে বিভিন্ন সভাসমিতিতে লেখক উপস্থিত থাকতেন এবং বহু জ্ঞানীগুনী মানুষের বক্তৃতা শোনার সৌভাগ্য তাঁর হয়েছিল । যাঁদের মধ্যে আছেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রভৃতি ।
প্রমোদকুমারের বাবা বদরাগী রাজেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ওরফে রাজেন বিখ্যাত নাট্যকার গিরিশ ঘোষ এবং বিখ্যাত অভিনেত্রী তিনকড়ি দাসী ওরফে নটী বিনোদিনীকে কিভাবে একটি বাগানবাড়িতে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন তার রোমহর্ষক বর্ণনা এই বইতে রয়েছে ।
পুরনো দিনের কথা পড়তে আমার সবসময়েই ভাল লাগে । তাই এইবইটিও আমি কয়েকদিনের মধ্যেই পড়ে ফেলেছি । বইটা পড়তে পড়তে আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন একটা টাইমমেশিনে চেপে চলে গেছি একশো বছর আগে ।
বইটি পড়ে তখনকার রীতিনীতি সম্পর্কে যে সাধারন ধারনাগুলি পেলাম সেগুলো হল –
১. অল্পবয়েসে বিবাহ দেওয়া একটা প্রচলিত নীতি । মেয়েদের মোটামুটি তেরো চোদ্দ বছর আর ছেলেদের সতেরো থেকে একুশ বছরের মধ্যেই বিবাহ দেওয়া হত ।
২. সংসারে কোনো কন্যা সন্তান হওয়াকে মোটেও সাদরে গ্রহন করা হত না । আবার যদি সেই সন্তান প্রথম হয় । তবে কন্যা সন্তানের যে কোন আদর যত্ন হত না এমন নয় । অনেক বাড়িতেই আদুরে কন্যার দেখা মিলত । আবার এই লেখক মোটামুটি বিত্তশালী পরিবারের নাতি এবং বাবা মার প্রথম সন্তান হয়েও আদর যত্ন বিশেষ পাননি ।
৩. খুব শিক্ষিত উদার পরিবার ছাড়া মেয়েরা সাধারনত লেখাপড়া শিখত না । যদি বা শিখত তাও প্রাথমিক পাঠ অবধি ।
৪. বিবাহে পণ নেওয়া একেবারে সাধারন রীতিনীতির মধ্যে পড়ত । এ সম্পর্কে কোন অপরাধ বোধ ছিল না । অনেক সময় টাকাপয়সার জরুরি প্রয়োজন হলে ছেলের বিয়ে দেওয়া হত ।
৫. বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীরা পরস্পরকে প্রেমপত্র লিখত । এবং তাতে বঙ্কিমী ভাষায় প্রাণনাথ প্রাণবল্লভ প্রভৃতি সম্ভাষনের ছড়াছড়ি থাকত ।
একশো বছরে কলকাতা কতটা পালটে গেছে তা ভাবলেও আশ্চর্য হতে হয় । কলকাতা শহরের যে রাস্তাগুলোর উপর দিয়ে আমরা এখন হেঁটে বেড়াই সেই একই রাস্তার উপর দিয়ে লেখক চলে ফিরে বেড়িয়েছেন তাঁর জীবদ্দশায় ।
কিন্তু কিছুই আর আগের মত নেই । ভারত এখন স্বাধীন । কলকাতা শহরের রাস্তায় এখন ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলে না । মটোরগাড়িতে ভর্তি এখন শহর । মাটির তলা দিয়ে ছুটেছে মেট্রো রেল । পরাধীন দেশের সেই আদর্শবাদীতা আর নেই, সবাই সবাইকে কিনতে এখন অভ্যস্ত । এসেছে ঝকঝকে মল, স্টার, মিনার্ভার জায়গায় এখন এসেছে মাল্টিপ্লেক্স । ইন্টারনেট আর মোবাইলে অভ্যস্ত ঝকঝকে যুবক যুবতীরা এখন ঘুরে বেড়ায় শহরে । একান্নবর্তী পরিবার এখন অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজতে হয় ।
জানি যুগের সাথে সাথে সব কিছুই পাল্টায় । কিন্তু তবুও মাত্র একশো বছর আগেও আমরা এতটাই অন্যরকম ছিলাম । প্রাণকুমারের স্মৃতিচারণ পড়ে তাই খুবই আশ্চর্য হই । কিছুতেই ঝেড়ে ফেলতে পারি না সেই মুখগুলোকে যারা একসময় বাস করত এই কলকাতা শহরেই ।

Tuesday, June 06, 2006

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কিছু কথা

আধুনিক বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে কিছু লিখতে হলে কিছুতেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না । আমার ছোটবেলা থেকেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমার প্রিয় লেখক । তার মানে এই নয় যে সুনীলের সব লেখাই আমার ভালো লেগেছে । রবীন্দ্রনাথ আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া আর কোনো বাংলা সাহিত্যিককে আমার মনে পড়ে না যিনি কবিতা, ছোটগল্প এবং উপন্যাসে সমান ভাবে সফল ।
আমরা কখনও কখনও কোনো লেখকের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলি যে অমুক লেখক অনেক বই লিখেছেন । কিন্তু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হবে যে উনি অনেক আলমারি বই লিখেছেন । এটা আমার অদ্ভুত লাগে যে একজন লেখক কিভাবে এত লেখেন যে তা পড়ে শেষ করা যায় না ।
লেখক হিসাবে সুনীলের সাফল্যের কারন হল ওনার সহজ সরল ভাষা । এবং লেখার ভিতরে অহেতুক দর্শন আর নানা রকম তত্বের কচকচি না আনা । এই কারনে বইগুলো সহজ পাঠ্য । সুনীলের বহু কবিতা আর গল্পের চরিত্রের মধ্যে প্রচন্ড প্যাশান কাজ করে । সুনীলের সফলতা হল তাঁর বয়স বাড়লেও লেখার ভিতরে প্যাশন কমেনি ।
আমি সন্তু কাকাবাবু থেকে আরম্ভ করে নীললোহিতের এবং স্বনামে লেখা বহু বই পড়েছি । আমার সবথেকে পছন্দের বই হলো যেগুলো নীললোহিত ছদ্মনামে লেখা হয়েছে । চলো দিকশূন্যপুর বলে একটা বই পড়ে ভীষন ভালো লেগেছিল । তার পর থেকে নীললোহিতের বই পেলেই আগে পড়ি ।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখার স্টাইল যাদের পছন্দ তাদের সুনীলের বেশিরভাগ লেখাই ভালো লাগবে এটাই স্বাভাবিক । তবে সুনীলের বহু মাঝারি উপন্যাস যেগুলো পূজাবার্ষিকিতে বেরিয়েছিল অনেকগুলোরই মান যথাযথ নয় । খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা বলে বোধহয় ।
তবে সকলেই স্বীকার করবেন সুনীলের সেরা লেখা তাঁর কবিতা আর ছোটগল্পগুলো । বেশ কিছু কবিতা তো কিংবদন্তী হয়ে গেছে । আমার বেশ কিছু ছোটগল্প পড়েও খুবই ভালো লেগেছে ।
তবে সুনীলের লেখক জীবনের সব থেকে বেশী পরিশ্রম গেছে যে তিনটি উপন্যাসের পিছনে তা হল সেই সময়, প্রথম আলো আর পূর্ব পশ্চিম । তিনটিই আকারে বিরাট । এতবড় বিশাল পটভূমিকায় প্রচুর চরিত্র যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ঐতিহাসিক চরিত্র তাদের নিয়ে লেখা সোজা কথা নয় । একটু তথ্যের গন্ডগোল বিরাট বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারত । কালীপ্রসন্ন সিংহের আদলে তিনি সেই সময় উপন্যাসে যে নবীনকুমার চরিত্রটি তৈরি করেছিলেন তা করতে যথেষ্ট সাহসের দরকার লাগে । বিশেষ করে নবীন কুমারের বাবা যে আসলে জমিদার নয় তাদেরই নায়েব এরকম কল্পনা করে লেখা বিরাট বিতর্ক তৈরি করতে পারত । লেখার জন্য পরিশ্রম করেন এরকম খুব স্বল্প লেখকের মধ্যে সুনীল অন্যতম । এই তিনটি উপন্যাস লেখার জন্য তাঁকে প্রচুর গবেষনা করতে হয়েছে ।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ধর্মে একেবারেই বিশ্বাস করেন না । তাঁর কোনো লেখাতেই কোনো রকম স্পিরিচুয়াল কিছু পাওয়া যায় না । শুধুমাত্র জাগতিক বিষয় নিয়েই তাঁর সমস্ত লেখা । তাঁর সমসাময়িক আরো দুই সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় কিন্তু আধ্যাত্মিক বিষয়ে অনেক লেখা লিখেছেন । সুনীলের সমস্ত লেখাই কেবলমাত্র জাগতিক বিষয় নিয়ে ।
যৌনতার ব্যাপারে সুনীলের মতামত খুব উদার । তাঁর বহু চরিত্রকেই প্রায়ই নানা রকম যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় । যৌনতা বিষয়ে খোলাখুলিভাবে লিখতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই । যৌনতা যে আসলে কোনো বিকৃতি নয় কেবল মাত্র আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার একটা অঙ্গ তা তিনি বারে বারে লিখেছেন ।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ লিখেছেন বলে আমার জানা নেই । তাও আবার দু দুটি । প্রথম আলোর পর সুনীল লেখেন রানু ও ভানু । রানু ও ভানুতে তিনি লেখেন রবীন্দ্রনাথ যখন রানুকে প্রথমবার দেখেন তখন নাকি সে পুরো নগ্ন অবস্থায় ছিল । অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের প্রতিষ্ঠাতা লেডি রানু এই কয়েক বছর আগেও জীবিত ছিলেন । তাঁকে নিয়ে এরকম লেখা কম সাহসের কাজ নয় । যদিও সুনীল দাবি করেছিলেন তিনি নাকি এই তথ্য লেডি রানুর আত্মজীবনী থেকে সংগ্রহ করেছেন । যাই হোক এসব সত্বেও সুনীলকে কখনও বড় বিতর্কের মুখে পড়তে হয় নি ।
লেখার উপকরন সংগ্রহ করার জন্য সুনীল অনেক ঘুরেছেন । পৃথিবীর বহু দেশে গেছেন । কিন্তু তিনি পশ্চিমবঙ্গেরও বহু স্থানে ঘুরেছেন । এই কারনে যখন তিনি কোনো জায়গার বর্ণনা দেন তা সে আমেরিকাই হোক বা মুর্শিদাবাদের কোনো অজ পাড়াগাঁই হোক তা পড়ে স্বাভাবিক মনে হয় । সন্তু কাকাবাবুর বেশিরভাগ অ্যাডভেঞ্চারই তো ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে ।
তবে তাঁর প্রিয় বন্ধুরাই তাঁর অনেক সমালোচনা করেছেন । আনন্দবাজারের মত বড় এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে তিনি আসলে নিজেই নিজের কথা রাখেননি তাও তাঁরা বলেছেন । বর্তমানে শাসক সিপিএমের সাথে তাঁর দহরম মহরমও অনেকেই ভাল চোখে দেখছেন না । আমরা সাধারনত কবি সাহিত্যিক দের একটু প্রতিবাদী চরিত্রেই দেখতে ভালোবাসি । সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে সুনীলকে এখন কেবল সিপিএমের ধামাধরা বলেই মনে হয় ।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কে একবার দেখেছিলাম কলকাতা বইমেলায় ইউবিআই অডিটোরিয়ামে স্টেজের উপর মুখ হাঁড়ি করে বসে আছেন । হাতদুটো জড়ো করে টেবিলের উপর রাখা । সেদিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম এই হাত দিয়েই ওই আলমারি আলমারি বই গুলো লেখা হয়েছে ! তবে আমার মনে হয় নীললোহিতের এইরকম সভায় সভাপতিত্ব করা কিছুতেই পোযাত না । মনে হয় বেশি বয়সে রবীন্দ্রনাথের মত সুনীলও গুরুদেবের মত কিছু একটা হয়ে উঠতে চাইছেন ।
তবুও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অনেকেরই প্রিয় কারন তাঁর লেখক সত্ত্বা চিরযুবক । তিনি মূলত কিশোরদের লেখক । কিশোর বয়েসে যারা তাঁর লেখা পড়েছে তারা প্রায় সবাই যে তাঁর ফ্যান হয়ে গেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই । ষোলো সতেরো বছর বয়েসে ঝাঁ ঝাঁ দুপুর বেলায় সুনীলের কোনো প্রেমের উপন্যাস অনেকরই জীবনে ডেকে এনেছে এক নতুন স্বাদ । এই বয়সে প্রথম সিগারেট প্রথম প্রেম প্রথম চুমুর মত সুনীলের লেখাও হয়ে ওঠে এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । এবং এখানেই সুনীলের সার্থকতা ।

Sunday, June 04, 2006

প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায় ও তন্ত্রাভিলাষীর সাধুসঙ্গ

আমি প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম যে বই পড়ি তার নাম হিমালয়পারে কৈলাস ও মানস সরোবর । সাধারনত আমার ভ্রমন কাহিনি পড়তে খুব একটা ভালো লাগে না । কিন্তু এই বইটা পড়তে আমার খুবই ভালো লেগেছিল । আজ থেকে প্রায় আশি বছরেরও বেশি আগে লেখক পায়ে হেঁটে কিভাবে কৈলাস ও মানস সরোবর বেরিয়েছিলেন তারই বিস্তৃত বিবরন এটি ।
প্রমোদকুমারের পরের যে বইটি আমি পড়ি তার নাম তন্ত্রাভিলাষীর সাধুসঙ্গ । আমার মনে হয় না আমি আর কোনো বই পড়ে এতটা প্রভাবিত হয়েছি । লেখক একসময়ে ভবঘুরের মতো ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন ভারতের বিভিন্ন জায়গায় । ধর্মের প্রতি তাঁর ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ছিল । তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন তান্ত্রিক সাধুদের সঙ্গে আলাপ করে তন্ত্র ধর্ম সম্বন্ধে জানা । এই বই এর সময় কাল ১৯১১ থেকে ১৯১৮ পর্যন্ত ।
তন্ত্র ধর্ম সম্পর্কে আমাদের ধারনা খুবই ক্ষীন । আমরা কেবল জানি তান্ত্রিকরা শ্মশানে ঘুরে বেড়ান । মদ, মাংস, মেয়ে মানুষ নিয়ে সাধনা করেন । যা সাধারনের কাছে খুবই ঘৃণ্য বিষয় । তাছাড়া তান্ত্রিকরা তাঁদের সাধনার কথা কারো কাছে প্রকাশ করেন না । এই কারনে তাঁরা সাধারন জনসমাজ থেকে আলাদাই থেকে যান ।
কিন্তু এই বইতে তন্ত্র ধর্মকে একটু অন্যভাবে দেখানো হয়েছে । আসলে এই ভাবে সাধনার মূল উদ্দেশ্য কি এবং জাতপাতে ভরা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের থেকে এটা কেন ভালো এই সব ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে । তন্ত্র ধর্মে কোনো জাতপাত নেই । পুরুষ এবং প্রকৃতির সম্পর্কের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে এই ধর্ম । পঞ্চ-মকার সাধনার আসল কারন কি এবং কেন এই গুলোকে সাধনার অঙ্গ করা হয়েছে তার প্রকৃত ব্যাখ্যা আছে এই বইতে ।
যাঁরা তন্ত্র সম্পর্কে জানতে চান তাঁদের অবশ্যই পড়তে হবে এই বই । তাছাড়া এই বইটি যেন এক ভ্রমন কাহিনি এবং অ্যাডভেঞ্চার কাহিনির মত । থিওরির কচকচি এড়িয়ে ধর্ম সম্পর্কে সাধারন প্রশ্নগুলোরই উত্তর খোঁজা হয়েছে এই বই তে । যে প্রশ্ন গুলোর উত্তর আবার এই সংরক্ষনের এবং জাতপাতের রাজনীতি কবলিত ভারতে হারিয়ে যেতে বসেছে ।