Showing posts with label মতামত. Show all posts
Showing posts with label মতামত. Show all posts

Monday, February 22, 2010

লিখতে হবে বাংলায়

বেশ কিছুদিন হল এই ব্লগে আর লেখা হচ্ছে না । প্রথম এই ব্লগে লিখতে শুরু করেছিলাম প্রায় চার বছর আগে ২০০৬ সালের মে মাসে । বর্তমানে অবস্থাটা অনেকটাই পালটেছে । তখন ইন্টারনেটে বাংলার পাঠক সংখ্যা খুবই কম ছিল আর ব্লগার তো ছিল আরো কম । এখন উইনডোজ ভিস্তা আর সেভেন এ কোনো কনফিগারেশন ছাড়াই ভাল বাংলা পড়া যায় আর অভ্র কিবোর্ড এবং ইউনিকোড বাংলা সম্পর্কে মানুষ আরো বেশি করে জেনেছেন । তাই শুধু বাংলাদেশ নয় । ভারত থেকেও বাংলা ব্লগারের সংখ্যা বাড়ছে । আর কিছু দিনের মধ্যে যে ভারতীয় বাংলা ব্লগারের সংখ্যা আরো বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই ।

এই ব্লগ আমি ছদ্মনামে শুরু করেছিলাম কারন সেই সময় ভেবেছিলাম যে এখানে নানা রকম বির্তকিত বিষয় নিয়ে লিখব ।
অনলাইনে নিজের আসল নামকে যতটা সম্ভব কোনো রকম বিতর্ক থেকে দূরে রাখাই ভালো। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে লিখেওছিলাম । এর মধ্যে লেখার পরিমান কমে গেলেও এটা মনে করার কোনো কারন নেই যে আমি বাংলায় ব্লগিং ছেড়ে দিয়েছি । আমি লিখব কারন লিখতে হবে বাংলায় ।

Saturday, May 30, 2009

পাল্টা হাওয়া

ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি দেওয়ালে কাস্তে হাতুড়ি তারা দেওয়া চিহ্ণ এবং লেখা সিপিআইএম প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করুন । আর তারপর সিপিআইএমই ভোটে জেতে । শুধু জেতে নয় বিপুল ভোটে জেতে । কি করে এভাবে বছরের পর বছর সিপিএম ভোটে জিতে আসে সেটা একটা রহস্য বলে মনে হত । কি লোকসভা কি বিধানসভা সবেতেই সিপিএমের জয়জয়কার । আমার শহরে ছোটবেলায় মনে আছে পৌরসভা কংগ্রেসের দখলে ছিল কিন্তু কিছু বছরের মধ্যেই সিপিএম সেটা দখল করল এবং শুধু দখল করা নয় তাকে তারা পরিণত করল বিরোধী শূন্য পৌরসভাতে । অধিকাংশ স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরী, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ সবই সিপিএম বা বামফ্রন্টের দখলে । দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা বামফ্রন্টের বিকল্প শুধু উন্নততর বামফ্রন্ট ।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের এই সাফল্যের কারন কি ? তারা কি পশ্চিমবঙ্গকে কোনো স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল যে তাতে মানুষ এত খুশি হয়ে দীর্ঘসময় ধরে তাদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে ক্ষমতায় রেখে দিয়েছিল । বরং বলা যায় সিপিএমের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গের অবনতি বেশি হয়েছে । বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পার্টির ক্যাডার বসিয়ে সেগুলির সর্বনাশ করা হয়েছে । যেখানে সেখানে হকার বসিয়ে স্টেশন রাস্তাঘাটকে বাজারে পরিণত করা হয়েছে । প্রোমোটারদের বেআইনী নির্মানে সহযোগিতা করা হয়েছে । পরিবহনকে চূড়ান্ত অব্যবস্হার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠেছে দেশি মদ আর চুল্লুর ঠেক । কথায় কথায় রাস্তা অবরোধ আর বনধ । পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি জায়গা যেখানে সরকারী মদতে বনধ পালিত হয় । প্রশাসন সব দেখেও কানা মামা হয়ে বসে থাকে। যেসমস্ত সৎ পুলিশ আর সরকারী অফিসার কিছু কাজ করতে চেয়েছেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরে বামফ্রন্ট গ্রামাঞ্চলে কিছু কাজ করেছিল । কংগ্রেস ছিল বড়লোকদের দল । সেই সময়ে জমিদারদের কাছ থেকে জমি নিয়ে তারা সাধারন কৃষকদের ভিতরে কিছু বিলিবন্দোবস্ত করেছিল। এছাড়াও গ্রামের উন্নতিও তারা কিছুকিছু করেছিল বলে মনে করা হয় । এই অবস্থা ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত চলে । ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ায় প্রবল ইন্দিরা হাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ১৬টি লোকসভা আসনে বিজয়ী হয় । সেই সময়েই সিপিএমের টনক নড়ে । তারা বুঝতে পারে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাদের পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে । তাই তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াতে জল মেশাতে শুরু করে । তাদের জল মেশানো শুরুর হয় ভোটার তালিকা তৈরি থেকে । ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হয় । এছাড়া যারা সিপিএম বিরোধী তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া শুরু হয় । এরপর মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে না দেওয়া, ভোটের সময়ে বুথজ্যামকরা এবং পুলিশ প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা । তার উপরে সর্বোপরি ছিল ফলস ভোট এবং ছাপ্পা ভোট দেওয়া । যে সমস্ত মানুষেরা বাইরে থাকার জন্য ভোট দিতে আসতে পারবেন না তাঁদের তালিকা তৈরি করে তাদের ভোট দিয়ে দেওয়া হত । বিভিন্ন বয়েসী ক্যাডাররা যাদের মধ্যে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই ছিল তারা এই কাজগুলি পেশাদারী দক্ষতায় সম্পন্ন করত । অনেকেই ভোট দিতে গিয়ে ফিরে আসতেন । তাঁদের বলা হত ‘ভোট পড়ে গেছে’ । এবং এখানেই শেষ নয় ভোট গণনার সময়েও তারা নানা রকম কারচুপি করতে থাকে ।

যত দূরের গ্রাম হবে এই জালিয়াতির পরিমানও তত বেশি হবে । প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে দেখা যেত ভোট পড়ার হার সবচেয়ে বেশী । কারন এখানে ছাপ্পা ভোটের পরিমান সবচেয়ে বেশি হত । তাই কলকাতার কিছু কিছু জায়গায় সিপিএম ভোটে হারলেও জেলাগুলিতে তাদের জয়জয়কার সবসময়েই অক্ষুন্ন থাকত । তবে উত্তরবঙ্গের কিছু কিছু জায়গা যেমন মালদায় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি থাকায় সেখানে কংগ্রেস বিজয়ী হত ।

অবস্থা দেখে মনে হত সিপিএমকে হারানো মনে হয় সম্ভব নয় । তার উপরে বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদন্দ্ব নিয়েই ব্যস্ত । ফলে সিপিএমের পোয়াবারো । এত কিছুর পরেও কিছু সাধারন মানুষের সমর্থন তাদের সাথে ছিল সে কথা স্বীকার করতেই হবে । না হলে এতবড় সংগঠন চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব হত না । কিন্তু বহু বছর ক্ষমতায় দখলকরে রাখার পর তারা নৈতিক অধ:পতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছেছিল ।

জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশ করলেও তিনি দক্ষ রাজনীতিবিদ হওয়ার ফলে নানা ভাবে বহু সমস্যা পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন । অন্তত তাঁর রাজনৈতিক বুদ্ধির অভাব ছিল না । আর প্রশাসনকে দক্ষভাবে তিনি চালাতেও জানতেন । কিন্তু তাঁর অবসর নেওয়ার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে সিপিএম নানা বিষয়ে নাস্তানাবুদ হতে থাকে । রিজওয়ানুর হত্যা মামলা, সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম বিষয়ে সরকার জোর ধাক্কা খায় । তাদের ধারনা ছিল মেকি শিল্পায়নের টোপ দেখিয়ে রাজ্যবাসীকে তারা বোকা বানাবে । কিন্তু যে রাজ্যে পঞ্চাশ হাজারের উপর ছোটবড় কারখানা বন্ধ সেখানে একটি দুটি নতুন কারখানার কলা দেখিয়ে যে নির্বাচনী বৈতরনী পার করা যাবে না তা তারা বুঝতে পারেনি ।
২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনে অনেকের ধারনা ছিল জমি অধিগ্রহন বির্তকের ফলে গ্রামাঞ্চলে বামফ্রন্টের জনপ্রিয়তা কমেছে তাই হয়ত গ্রামের তাদের ফল খারাপ হবে কিন্তু শহরাঞ্চলের মানুষ যাঁদের কৃষিজমির উপর নির্ভরশীলতা কম তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের মা মাটি মানুষের আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করবেন । কিন্তু লোকসভার ভোটের ফল বেরোতে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য গল্প । গ্রামাঞ্চলে তৃণমূলের ফল তো ভালোই আর শহরাঞ্চলে শুধু তাদেরই জয়জয়কার । কলকাতা এবং তার আশেপাশের প্রায় সমস্ত জায়গায় সিপিএম ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে । সিপিএম পার্টি তার জন্মলগ্ন থেকে এত বড় ধাক্কা আর খায়নি । বহু আসনেই তারা বিপুল ভোটে পরাজিত । আর যে আসনগুলিতে তারা জিতেছে সেখানেও তাদের মার্জিন ব্যপকভাবে কমেছে । আর তারা যদি ভোটে জালিয়াতি না করত তাহলে তাদের ফল যে আরো খারাপ হত তাতে কোন সন্দেহ নেই ।

এবারের ভোটে জেতার জন্য সিপিএমের নেতারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন । পাবলিসিটির প্লাবনে ভেসে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ । বড় বড় ফ্লেক্স হোর্ডিং-এ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল রাস্তাঘাট । উত্তর কলকাতা কেন্দ্রের প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের জয় হো হোর্ডিংগুলি সিপিএম পার্টি থেকেই সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল । কারন এখানে দল থেকে প্রার্থীকে বড় করে দেখানো হয়েছিল । কিন্তু পার্টির আপত্তি সত্ত্বেও হোর্ডিংগুলি খোলা হয়নি । এছাড়াও মহম্মদ সেলিমকে হনুমান মন্দিরে গিয়ে চরণমৃত সেবন করতেও দেখা যায় । তখনই বোঝা গিয়েছিল যে কমিউনিস্ট নাস্তিকদের তাদের আদর্শের প্রতি আর কোন বিশ্বাস নেই । যেকোন উপায়ে তাদের ক্ষমতা দখল করতেই হবে ।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যদি কোন পার্টি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকে (আমার মতে দশ বছর বা তার বেশি) তাহলে তাদের মধ্যে দুর্নীতি ঢুকতে বাধ্য । তাই সিপিএমের এই পরিণতি স্বাভাবিক । দুবছর পরে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভোট । সেখানে হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা । সিপিএম এবং বামফ্রন্টের অবস্থা যতই খারাপ হোক তারা অত সহজে যে হার মানবে না তা পরিষ্কার । আর বিরোধীদের পালে এখন হাওয়া । বত্রিশ বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা বিধানসভায় জেতার স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করেছেন। আর অনেকেই স্বীকার করছেন যে সেটা সম্ভব । এটা অনেকটাই নির্ভর করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর । রাজনৈতিক অদূরদর্শীতার জন্য তিনি খ্যাত । কিন্তু এখন তিনিও অনেক পরিণত । কেন্দ্রীয় সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনি রয়েছেন । এই মূহূর্তে তাঁর এবং তাঁর দলের ভালো কাজ তাঁকে আরো অনেকটাই এগিয়ে দিতে পারে ।

Monday, February 11, 2008

বাংলা উইকিপিডিয়া -- পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের বলছি

আমরা কথায় কথায় বলি যে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি । আর পশ্চিমবঙ্গ যে এই তথ্যপ্রযুক্তিতে ক্রমাগত এগিয়ে চলছে তাও আমরা বুঝতে এবং দেখতে পারছি বিভিন্ন মিডিয়াতে । এবং আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাতেও ।

কিন্তু এই তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাকে সমস্ত স্তরের মানুষদের কাছে পৌছে দিতে হবে । আর সেটা করা সম্ভব কম্পিউটারে মাতৃভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে । গ্রামে গ্রামে শুধু কম্পিউটার আর ইন্টারনেট পৌছে দিলেই হবে না । ইন্টারনেটে যদি বাংলা ভাষায় পড়ার মত উপযুক্ত বিষয় না থাকে তাহলে কখনই আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিকে সর্বস্তরে পৌছে দেওয়ার স্বপ্ন সফল হবে না । তাই বাংলার সাধারন মানুষের হাতে পৌছে দিতে হবে জগতের সব তথ্য । আমাদেরই মাতৃভাষায় - বাংলা ভাষায় ।

ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, দর্শনশাস্ত্র, ভাষাবিজ্ঞান, গণিত, প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্কলন হল বিশ্বকোষ । অর্থাৎ বিশ্বকোষ এমন একটি জিনিস যাতে সমস্ত কিছুর উপরেই তথ্য পাওয়া যেতে পারে । কিন্তু বাংলায় লেখা আধুনিক এবং সম্পূর্ণ বিশ্বকোষের অভাব রয়েছে । আর তার দামও বিশাল । অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই তা কেনা সম্ভব নয় । আর এই বাংলা বিশ্বকোষের বদলে পড়া যেতে পারে ইংরাজি বিশ্বকোষ যেমন এনকার্টা, বা ব্রিটানিকা । এখন যাঁদের ইংরাজি জ্ঞান কম তাঁদের পক্ষে এগুলি পড়া সম্ভব নয় । আর ইংল্যান্ড বা আমেরিকা থেকে প্রকাশিত হওয়ার জন্য এগুলিতে ভারতীয় বা বাংলার বিষয় কম থাকে । বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে ব্রিটানিকা বা এনকার্টা থেকে আপনি বেশি তথ্য পাবেন না ।
আর ভারত বা বাংলার বিষয়গুলি এই বিদেশি বিশ্বকোষগুলিতে লেখা হয় বিদেশী দৃষ্টিকোন থেকে সেগুলি পড়ে আমাদের যদি নিজেদের সংস্কৃতি, সাহিত্য, সঙ্গীত, ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হয় তার থেকে দুঃখজনক আর কিছু নেই ।

অনেকেই হয়ত অবগত আছেন ইংরাজি উইকিপিডিয়া সম্পর্কে । এটি পৃথিবীর সবথেকে বড় উইকিপিডিয়া । কিন্তু অনেকে হয়ত জানেন না যে উইকিপিডিয়ার একটি বাংলা সংস্করণও আছে । ইন্টারনেটে বাংলা বিশ্বকোষ বাংলা উইকিপিডিয়া (bn.wikipedia.org) লেখার কাজ চলেছে প্রায় বছর দুই ধরে । এর মধ্যেই সতেরো হাজারেরও বেশি নিবন্ধ তৈরি করা হয়েছে । কিন্তু এই নিবন্ধের অনেকগুলিই রয়েছে প্রাথমিক অবস্থায় । তাই এই নিবন্ধগুলিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য দরকার স্বেচ্ছাসেবকের । এরমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ এগিয়ে এসেছেন । কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় এই যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা নামমাত্র । আমারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আমাদের রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি নিয়ে খুবই গর্ব করি বটে কিন্তু বাংলা উইকিপিডিয়ার ব্যাপারে আমরা খুবই পিছিয়ে আছি ।

বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিষয় নিয়ে লেখা সম্ভব নয় । বলুন তো কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের উপর নিবন্ধ লিখতে গেলে তো এরকম মানুষকেই প্রয়োজন যাঁর এখানে নিয়মিত যাতায়াত আছে । অথবা কলকাতা বইমেলা নিয়ে লিখতে গেল এরকম মানুষ প্রয়োজন যিনি এখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন । আর বাংলা উইকিপিডিয়াতে লিখতে গেলে কোন বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই । আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বয়েস কোনটাই বিচারযোগ্য নয় । শুধু ইচ্ছেটাই এখানে বড় কথা । সমস্ত কাজের মধ্যেও আপনি যদি রোজ মাত্র একলাইন করেও বাংলা উইকিপিডিয়ায় লেখেন তাহলেও বছরে ৩৬৫ লাইন লেখা হয় । আর অনেকে যদি অল্প অল্প লেখেন তাহলে এই বিন্দু বিন্দু করেই আমরা সবাই মালিক হতে পারি এক বিরাট বাংলা বিশ্বকোষের । আর যদি আপনার মনে হয় যে কোন বিষয়েই জ্ঞান নেই (যেটা আসলে ভুল) তা হলেও আপনি বাংলা উইকিপিডিয়ায় আপনার অবদান রাখতে পারেন ইংরাজি উইকিপিডিয়া থেকে নিবন্ধ অনুবাদ করে বা বানান এবং ব্যকরনগত সমস্যা দূর করে ।

বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকেরা যদি বাংলা উইকিপিডিয়ার উন্নতিতে এগিয়ে আসতে পারেন তাহলে আমরাই বা কেন পিছিয়ে থাকব? তাই আসুন আমরা গঠনমূলক এই প্রজেক্টে অংশগ্রহন করে আমাদের ভবিষ্যৎ সমাজের হাতে তুলে দিই বাংলা ভাষায় এক চমৎকার বিশ্বকোষ ।

Saturday, January 26, 2008

গুগল বই সমাচার

বেশ কিছুদিন ধরেই গুগল বই এর সাইটটি (books.google.com) আমার নজরে এসেছিল । প্রথমে একটু নিরাশই হয়েছিলাম কেননা এতে কোনো বইয়ের পুরোটা দেখা যাচ্ছিল না কেবল অংশবিশেষ দেখা যাচ্ছিল । তারপর একটু ভাল করে নজর করে দেখলাম যে ফুল ভিউ লিংকে গেলে যে বইগুলি দেখা যায় তার বেশিরভাগই ফ্রিতে দেখা আর ডাউনলোড করা যাচ্ছে পিডিএফ ফরম্যাটে ।

একটু সার্চ করতেই খুঁজে পেলাম আদ্যিকালের দুষ্প্রাপ্য সমস্ত বইয়ের স্ক্যান করা কপি । আমার প্রিয় বিষয় ইতিহাস । তাই ভারত ও বাংলার ইতিহাসের বই প্রথমেই খুঁজে দেখলাম । পেলাম দারুণ দারুন সমস্ত বই । বেশিরভাগ বই ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভারতে আগত ব্রিটিশ সরকারী কর্মচারী বা মিশনারীদের লেখা । সেসময়ের ভারতের নানা রকমের ভ্রমনের কাহিনী, সিপাহী বিদ্রোহের রোমাঞ্চকর বর্ণনা, সতীদাহের চাক্ষুষ বর্ণনা বাদ যায় নি কিছুই । খুব আকর্ষনীয় বিষয়ের মধ্যে রয়েছে স্লিম্যান সাহেবের লেখা ভারতীয় ঠগী আর ফাঁসুড়েদের উপর বই । আর একজন মহিলার লেখা বইতে রয়েছে কিভাবে ১৮০২ সালে তিনি জলপথে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ গিয়ে মীরজাফরের স্ত্রী মুন্নি বেগমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার বর্ণনা । খুঁজতে খুঁজতে পেলাম একেবারে প্রথম যুগের বাংলা থেকে ইংরাজি ডিকশনারি যা ছাপা হয়েছিল শ্রীরামপুরে ।

গুগল বইয়ের একটা ভাল দিক হচ্ছে এখানে আসল বই থেকে স্ক্যান করা পাতাগুলি দেখা যায় । তবে স্ক্যান করা হলেও বই গুলি সার্চযোগ্য । কারন স্ক্যান করা বইয়ের পাতার ছবিগুলির সাথে ওসিআর করা টেক্সটও রাখা আছে । কিন্তু স্ক্যানের কোয়ালিটি নিয়ে অনেক সময়েই প্রশ্ন উঠতে পারে । কিছু কিছু বই খুব বাজে ভাবে স্ক্যান করা হয়েছে । পাতা কেটে বেরিয়ে গেছে এরকম ব্যাপারও আমার চোখে এসেছে ।

পুরনো বই খুঁজতে খুঁজতে একটা ব্যাপার আমার নজরে এসেছিল সেটা হচ্ছে ফ্রি ডাউনলোডের জন্য যে বইগুলি দেওয়া হচ্ছে সেগুলি সবই ১৮৪০-৫০ এর সময়কার বা তার আগের কিন্তু এই সময়ের পরের বইগুলি যেগুলির উপরে কপিরাইট নেই যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বই সেগুলি কিন্তু ফ্রিতে ডাউনলোডের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না ।
আমেরিকার কপিরাইট আইন ঘেঁটে দেখলুম যে ১৯২৩ সালের আগে প্রকাশিত সব বই পাবলিক ডোমেনে চলে গেছে মানে তাদের উপরে আর কপিরাইট নেই । কিন্তু বই তো ১৮৪০-৫০এর পরে প্রকাশিত হলে ফ্রিতে ডাউনলোড দিচ্ছে না । ব্যাপারটা কি ?

নেটে একটু খোঁজখবর করে দেখতে পেলাম যে ব্যবহারকারী যদি আমেরিকার বাইরে থেকে গুগল বই ব্যবহার করে তবে সে ১৮৬৫ সালের পরের কোন বই ফ্রী তে ডাউনলোড করতে পারবে না । কিন্তু সে যদি আমেরিকার ভিতর থেকে গুগল বই ব্যবহার করে তাহলে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত সমস্ত বই ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবে । একটা প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে দেখলাম ঠিক তাই । সাধারণ ভাবে রবীন্দ্রনাথের লেখা কোন বই ফ্রিতে ডাউনলোড করতে দিচ্ছে না কিন্তু প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে গুগল বই খুললে তখন রবীন্দ্রনাথের ১৯২৩ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত সব বই ডাউনলোড করা যাচ্ছে । বিভিন্ন দেশের কপিরাইট আইন বিভিন্ন রকম হওয়ার জন্য গুগলের পক্ষে সত্যিই ট্র্যাক রাখা কঠিন কোন বইয়ের কোন দেশে কপিরাইট আছে আর কোন দেশে নেই । যেমন ভারতের কপিরাইট আইনে লেখকের মারা যাওয়ার পর ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকে । আবার কোন কোন দেশে এই আইন ৭০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্তও হয়ে থাকে । তাই যে বই আমেরিকায় পাবলিক ডোমেনে চলে গেছে সেই বই হয়তো ভারতে কপিরাইটের আওতায় আছে ।

তাই গুগলের বিশেষ কিছু করার ছিল না কোন লেখক কবে মারা গেছে আর কোন দেশে সেই অনুযায়ী কপিরাইট আছে কি নেই তার ট্র্যাক রেখে সেই অনুযায়ী সেই দেশের আই পি দেখে ডাউনলোডের অনুমতি দিতে গেলে তারা পাগল হয়ে যাবে । তাই আমেরিকার বাইরের সবাইকে ১৮৬৫ সাল অবধি প্রকাশিত বই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ।

আমি প্রক্সি সার্ভার দিয়ে বই ডাউনলোড করার চেষ্টা করে দেখলাম ডাউনলোড হচ্ছে কিন্তু স্পিড স্লো । আর ডাউনলোড কোন ভাবে আটকে গেলে তাকে আবার প্রথম থেকে চালু করতে হচ্ছে । যেটা সাধারণভাবে ডাউনলোড করতে গেলে করতে হয় না ।

গুগল সত্যিই আমাদের সামনে এক বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে দুষ্প্রাপ্য বইগুলি দেখার ও পড়ার । কিন্তু এই কপিরাইটের কচকচিতে তার অনেকটাই বানচাল হতে চলেছে । তাই কেউ যদি গুগল বই থেকে অন্তত ১৯২৩ সাল পর্যন্ত বইগুলি আমেরিকার বাইরে ডাউনলোডের সহজ পদ্ধতি জানান তাহলে খুবই কৃতজ্ঞ থাকব ।

Sunday, November 11, 2007

নন্দীগ্রামে সুপরিকল্পিত গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ



নৃশংসতা এবং বর্বরতার দিক থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সিপিএম সমস্ত সীমার উর্দ্ধে চলে গেছে । সমস্ত সরকারি প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে বসিয়ে রেখে নন্দীগ্রামকে তারা পরিণত করেছে এক রণক্ষেত্র এবং বধ্যভূমিতে ।

অসভ্য ইতর বর্বর এবং গণহত্যা ও ধর্ষনকারী এই সরকার এবং পার্টির নিন্দার জন্য আজ কোন কথাই যথেষ্ট নয় । ধিক্কার জানাই সেই সব বুদ্ধিজীবিদের যাঁরা এখনও সরকারী আমন্ত্রনে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উৎসবে মেতে আছেন ।

Saturday, November 10, 2007

গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কিছু কথা

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং গ্রীন হাউস এফেক্ট নিয়ে ছোটবেলা থেকেই অনেক কিছু পড়ে আসছি । যার মোদ্দা কথা হল পরিবেশ দূষন এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাবার ফলে মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবীর বহু জায়গা ডুবিয়ে দেবে ।

পুরো ব্যাপারটার মধ্যেই কেমন একটা যেন মানুষের পাপের ফলই হল গ্লোবাল ওয়ার্মিং এরকম একটা বার্তা লুকিয়ে রয়েছে । এবং এই সবই আমরা মুখস্ত করে এসেছি । কিছুদিন আগে The Great Global Warming Swindle নামে একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলাম এই তথ্যচিত্রটিতে দাবি করা হয়েছিল অবশ্যই কিছু বাঘা বাঘা বৈজ্ঞানিক এবং পরিবেশবিদদের সাক্ষাৎকার সহযোগে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য মানুষ দায়ী নয় । পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া কমা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার । এবং পৃথিবীর পরিবেশ সব সময়েই পরিবর্তিত হয়ে আসছে ।

পরে অবশ্য নেটে খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম যে এই তথ্যচিত্রটি নিয়েও প্রচুর বিতর্ক এবং সন্দেহ আছে ।

তবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর পিছনে বিরাট রাজনীতির খেলা আছে সেটা বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না । গত কিছু বছরে গ্লোবাল ওয়ার্মিং সংক্রান্ত রিসার্চ এর পিছনে বহু টাকা ব্যয় করা হয়েছে । অনেকেরই বক্তব্য যে বিজ্ঞানের এই শাখায় এত বেশি টাকা আসায় বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । বেশ কিছু সাংবাদিক, চ্যানেল, কাগজ, পত্রিকা এবং বিজ্ঞানী গ্লোবাল ওয়ার্মিং বেচে বেশ ভালোই উপার্জন করছেন । আবার এই বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং । বলা যেতে পারে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিজেই এখন একটা সিস্টেম এবং ইন্ডাস্ট্রি । এবং এক রকমের পপ কালচারও বটে ।
ইদানীং গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে একটু আধটু পড়াশোনা করতে গিয়ে বেশ কিছু বেসিক তথ্য নজরে এল । যেমন :

গ্লোবাল ওয়ার্মিং হয় গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে । আর সবথেকে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস হল জলীয় বাষ্প । জলীয় বাষ্প ৩৬-৭০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রিন হাউস এফেক্টের জন্য দায়ী । আর এই জলীয় বাষ্পের মধ্যে কিন্তু মেঘ পড়ছে না ।

কার্বন ডাই অক্সাইডের গ্রিনহাউস এফেক্টের জন্য দায়িত্ব ৯-২৬ শতাংশ । মিথেন ৪-৯ শতাংশ । ওজোন ৩-৭ শতাংশ ।

এখানে মানব সভ্যতার দায়িত্ব মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেনের পরিমান বায়ুমন্ডলে বাড়াবার জন্য । তবে মনে রাখতে হবে যে কলকারখানা ও পরিবহন ছাড়াও আরও বহু প্রাকৃতিক ভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় । যেমন আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে এবং জঙ্গলের প্রানীদের মৃতদেহ এবং গাছের তলায় পড়ে থাকা পাতা পচেও কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় । এবং মানুষ সহ সমস্ত প্রানীর শ্বাসকার্যের ফলেও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয় ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর আর একটা বড় কারন সোলার ভ্যারিয়েশন । বা সূর্য থেকে বিকিরিত শক্তির বাড়া কমা যাতে মানুষের কোন হাত নেই ।

১৯৪০ এর পর থেকে পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান ক্রমশ বেড়েছে । কিন্তু ১৯৭৫ সাল অবধি পৃথিবীর তাপমাত্রা কমেছে ।

পৃথিবীর ইতিহাসে বর্তমান কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান এবং তাপমাত্রার চেয়ে বেশি এর আগেও ছিল । যেমন ডাইনোসররা যখন পৃথিবীতে পুরোদমে রাজত্ব করছে তখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান এখন থেকে বারো গুন পর্যন্ত বেশি ছিল । সেই সময় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এখন থেকে বেশি ছিল এবং মেরু প্রদেশে কোন বরফ ছিল না । সেই সময়ে সমুদ্রের উচ্চতাও এখন থেকে ১০০ থেকে ২৫০ মিটার অবধি বেশি ছিল ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কে আটকাতে যে সমস্ত গাইডলাইন তৈরি হয়েছে সেগুলিকে গরীব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে যদি সৌরশক্তি বায়ুশক্তির মত অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহার করা হয় তাহলে হয়ত কয়েকটা বাড়িতে আলো পাখা চালানো যেতে পারে কিন্তু বড় বড় শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয় । ভাবুন তো একটা লৌহ ইস্পাত শিল্প কি কখনো সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির সাহায্যে গড়ে তোলা যেতে পারে না সৌর শক্তি দিয়ে নিয়মিতভাবে ট্রেন চালানো যেতে পারে । তাহলে কি উন্নয়নশীল দেশগুলি কি গাইডলাইন মানতে গিয়ে শিল্পোন্নয়ন করবে না ।
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পৃথিবীতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বাড়তে বাড়তে পৃথিবীকে একেবারে অবসবাসযোগ্য করে দেবে একথা ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় না । কারণ যতই হোক জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিমান সীমিত । পৃথিবীর ধ্বংসের অনেক আগেই মনে হয় তা ফুরিয়ে যাবে ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং থিয়োরির পক্ষে ও বিপক্ষে বহু মানুষ আছেন । এই থিয়োরির বিপক্ষে যাঁরা তাঁরা এটাকে স্রেফ প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছুই মনে করেন না । আর এই থিয়োরির পক্ষে যাঁরা তাঁরা বিপক্ষকে উড়িয়ে দেন এই বলে যে তাদের পিছনে আছে বড় বড় তেল কম্পানিগুলি । দুপক্ষের মতামত পড়ে বুঝে ওঠা খুব মুশকিল যে কারা ঠিক ।

তবে সাধারন ভাবে শক্তি সাশ্রয়ের নিয়মগুলি মেনে চললে তা গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে কতটা আটকাবে তা জানা নেই তবে আমাদের পকেটের পক্ষে অবশ্যই কিছু সাশ্রয় আনবে ।

http://en.wikipedia.org/wiki/Global_Warming
http://en.wikipedia.org/wiki/Solar_variation
http://en.wikipedia.org/wiki/Greenhouse_effect
http://en.wikipedia.org/wiki/Climate_change_denial
http://en.wikipedia.org/wiki/Scientific_opinion_on_climate_change
http://en.wikipedia.org/wiki/Global_warming_controversy
http://en.wikipedia.org/wiki/Politics_of_global_warming
http://en.wikipedia.org/wiki/The_Great_Global_Warming_Swindle
http://en.wikipedia.org/wiki/Dinosaur

Saturday, September 15, 2007

তসলিমার উপর হামলা, গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন ও আরো কিছু কথা ।

আমি প্রায় একমাস আগে তসলিমা নাসরিনের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম আমার এই ব্লগে । আমি কয়েকদিন আগে অবাক হয়েই দেখলাম গ্লোবাল ভয়েস অনলাইনে বাংলা হিন্দি এবং ইংরাজিতে আমার সেই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে ।

গ্লোবাল ভয়েসে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের বক্তব্য অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় । বলা যেতে পারে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের মিলনের স্থান এই সাইট । তাঁরা যে আমার মত একজন ব্লগারের বক্তব্য তাঁদের সাইটে তুলে ধরেছেন সে কারণে আন্তরিকভাবে আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ ।

এর আগেও একবার গ্লোবাল ভয়েসে আমার কথা তুলে ধরা হয়েছিল যখন আমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকাররের ভুল সংরক্ষন নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ।

আমার ব্লগের পাঠক সংখ্যা খুব একটা বেশি নয় । পরিসংখ্যান থেকে দেখতে পাই যে প্রতিদিন আমার ব্লগে গড়ে মাত্র ছয় থেকে দশজন আসেন । এমনিতেই বাংলা ব্লগের পাঠক সংখ্যা কম । তারপর সেই পাঠকদের বেশিরভাগই সামহোয়্যারইন ব্লগ বা সচলায়তন ছাড়া আর কিছু পড়েন না । তবুও যে আমার ব্লগের লেখা কারো কারো চোখে পড়ে এবং তা অন্য জায়গায় প্রকাশিত হয় এটা দেখে ভাল লাগে এবং আরো লেখার আগ্রহ জাগে ।

বাংলাতে লেখা আরো অন্য ব্লগ যখন পড়ি তখন অনেক সময়েই মনে হয় যে আমার লেখা কিছুই হচ্ছে না । অন্য লেখকেরা তাঁদের ব্লগে কত সুন্দর সুন্দর লেখা লেখেন । সে সমস্ত লেখার গভীরতা অনেক বেশি । আমার সেরকম লেখার ক্ষমতাও নেই আর তার চেষ্টাও করি না । কিন্তু যখনই দেখি যে কারো ব্যক্তিস্বাধীনতা আক্রান্ত হচ্ছে তখনই তার প্রতিবাদ জানাতে ইচ্ছা করে । সে স্বাধীনতা কোন ব্যক্তিরও হতে পারে আবার কোন রাষ্ট্রেরও হতে পারে । যে সমস্ত মানুষ ইরাক আক্রমনের জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে গাল দেন আর নিজের বাড়িতে বাচ্চা চাকরদের উপর নির্যাতন করেন আমার মনে হয় সেইসব মানুষদের স্বাধীনতা নিয়ে কোন কিছু বলার অধিকার নেই ।

কোনোরকমে পড়াশোনা শেষ করেছি । পড়াশোনা করতে কোনদিনই আমার খুব একটা ভাল লাগত না । যখন থেকে আমার পরীক্ষার টেনশন দূর হল আমার মনে হয় সেদিন থেকেই আমার আসল পড়াশোনা শুরু হল । এখন আমার নানা বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভালই লাগে । আমার প্রিয় বিষয় ইতিহাস । সভ্যতার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খালি দেখি ক্ষমতা দখলের লড়াই ইতিহাসের মূল বিষয় হয়ে বসে আছে । আর তার উপর আছে ধর্মান্ধতা । কিছুদিন আগেই বোধহয় উৎসর ব্লগে পড়ছিলাম যে ভগবান আসলে খুব ভীতু । একধর্মের ভগবান কিছুতেই অন্যধর্মের ভগবানকে সহ্য করতে পারেন না । কেউ যদি ঈশ্বরের একটু নিন্দামন্দ করে তাহলেই তাঁর আসন টলে ওঠে ।

তসলিমা নাসরিন যদি ইসলাম হজরত মহম্মদ বা আল্লা সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেই থাকেন তাহলে ইসলামেরই বা কি আর আল্লারই বা কি । যেকোন ধর্মের ঈশ্বর সম্পর্কেই বলা হয়ে থাকে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান । আরে ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হয়েই থাকেন তাহলে নিশ্চই তাঁর ইচ্ছাতেই সব কিছু হয় । তাহলে ধরে নিতে হবে যে তসলিমা নাসরিন যে মন্তব্যগুলি করেছেন তাও সম্ভব হয়েছে কেবল সর্বশক্তিমান আল্লার ইচ্ছাতেই । আর আল্লার ইচ্ছাতেই যদি সবকিছু হয়ে থাকে তো কিছু লোকের খেপে ওঠার কারণ কি বোঝা যায় না । হয়ত কিছু লোকের খেপে ওঠাও হয়ত সম্ভব হয়েছে আল্লার ইচ্ছাতেই ।

আসলে মৌলবাদ মানুষকে এমনভাবে নিজের জালে জড়িয়ে ফেলছে তারা নিজেরা কি করছে বা কি বলছে তারা নিজেরাই তা জানে না । এরমধ্যে আবার কলকাতার এক মসজিদের ইমাম তসলিমা নাসরিনকে হত্যার ডাক দিলেন । আর আমাদের বামপন্থী প্রগতিশীল মার্কসবাদী সরকারের পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে রইল । সত্যি লোকহাসানো আর কাকে বলে । এর আগে এরা একবার লোক হাসিয়েছিল তসলিমার দ্বিখণ্ডিত নিষিদ্ধ করে । পরে আবার আদালতের রায়ে দ্বিখণ্ডিত বাজারে ফিরে আসে । আর না এলেও কোন ক্ষতি ছিল না । কারণ বইতে ইন্টারনেটে সহজলভ্য আর নকল বইও সহজেই পাওয়া যায় । আর এসব আটকানোর কোন ক্ষমতা এদের নেই ।

এরা আবার বিজেপিকে অসভ্য বর্বর বলে ! আসলে মুসলমানদের ভোট টানার জন্য বিজেপি কংগ্রেস আর সিপিএমের মধ্যে কোন তফাত নেই । তারা সবাই সমান সাম্প্রদায়িক । কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে তারা ভারতে মুসলমানদের কোন উন্নতিই করতে পারে নি ।

Sunday, June 10, 2007

ঈশ্বরের থাকা বা না থাকা নিয়ে কিছু আলোচনা ।

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটি লেখায় পড়েছিলাম তর্ক বিতর্ক তো অনেক হল কিন্তু এখনও এটাই প্রমাণ করা গেল না যে ঈশ্বর আছেন না নেই ।

আমাদের জেনারেশনকে আমার বরাবরই কনফিউজড লাগে । বিভিন্ন ব্যাপারে আমাদের যেন কোন সুষ্পষ্ট মতামত নেই । এত রকমের ভিন্ন ভিন্ন রকমের চিন্তাভাবনা চারিদিক থেকে আমাদের ঘিরে ধরে যে তাদের মধ্যে কোনটি গ্রহনযোগ্য সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারা যায় না । কখনও মনে হয় একপক্ষ ঠিক কখনও বা মনে হয় অপরপক্ষ । আবার বেশিরভাগ সময়েই মনে হয় উভয়পক্ষের কথাতেই যেন কিছু যুক্তি আছে । কাউকেই যেন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না । ঈশ্বরের অস্তিত্বের ব্যাপারে ঠিক একই কথা মনে হয় । যাঁরা বলেন যে ঈশ্বর আছেন আর যাঁরা বলেন যে ঈশ্বর নেই তাঁদের উভয়ের কথার মধ্যেই অনেক যুক্তি রয়েছে । কারোর যুক্তিই পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়া যায় না ।

তবে ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমানে যে কথাগুলি প্রচলিত সেগুলি হল । আমরাই হচ্ছি ঈশ্বরের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমান । ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন বলেই আমরা আছি । না হলে আমাদের কোন অস্তিত্ব থাকত না । ঈশ্বর সর্বদা আমাদের অন্তরে অধিষ্ঠান করেন । তাই ঈশ্বরকে পেতে গেলে মন্দির মসজিদ বা গীর্জায় গিয়ে কিছু হবে না । নিজের অন্তরের মধ্যেই ঈশ্বরকে খুঁজতে হবে ।
কিন্তু এই ধরনের কথায় ঠিক যেন মন ভরে না । আমরা শিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত মানুষ আমাদের চাই যুক্তি । কোন ধর্মগুরু কি কথা বলল বা কি ধর্মগ্রন্থে কি কথা লেখা আছে সেটা কখনও প্রমাণ হতে পারে না । পৃথিবীর বেশিরভাগ ধর্মগ্রন্থেই যা লেখা আছে সেগুলি যে ঠিক তারই বা প্রমান কি ? বা সেগুলি যখন লেখা হয়েছিল তার পরে সেগুলিকে কোন বদল করা হয় নি তারই বা নিশ্চয়তা কোথায় ? সেগুলি যখন লেখা হয়েছিলাম তখন তো আমরা এই পৃথিবীতে ছিলাম না । আর ধর্মগ্রন্থগুলিকে বিনা বিচারে মেনে নেওয়াটাও কি একধরনের গোঁড়ামি নয় ।

ধর্মগ্রন্থগুলি হল অনেকটা জ্যামিতির স্বতঃস্বিদ্ধের মত । প্রথমেই মেনে নিতে হবে কোন প্রমান ছাড়াই যে এইগুলি ঠিক । না হলে কোন অঙ্কই কষা যাবে না । বেশিরভাগ ধর্মেই আছে যে কোন অবস্থাতেই ধর্মগ্রন্থগুলির বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না । বিনা বিচারে মেনে নিতে হবে এর সব কিছু । এই ব্যাপারটাই আমার আশ্চর্য লাগে । যাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন তাঁরা তো এটাও তো বিশ্বাস করবেন যে মানুষের এই সভ্যতা মানুষের বিচার বিবেচনা বুদ্ধি সবই ঈশ্বরের দান । তাহলে মানুষ যদি তার বুদ্ধি বিবেচনা খাটিয়ে ধর্মের মূল বক্তব্যগুলি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তোলে তবে তা কেন গ্রহনযোগ্য হবে না ।

মানুষ সব সময়েই তার বুদ্ধি বিবেচনা খাটায় আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেও খাটাত আর এখনও খাটায় । মনে রাখতে হবে যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুন কৃষ্ণের কাছে পুরো গীতা শোনার পরও তাঁর সংশয় কিন্তু কাটেনি তখন কৃষ্ণকে বাধ্য হয়ে বিশ্বরূপ দর্শন করাতে হয়েছিল । কে জানে হয়ত কৃষ্ণ অর্জুনকে হিপনোটাইজ করেছিলেন । অর্থাৎ পুরোপুরি বিশ্বাস আনতে গেলে চাই প্রত্যক্ষ প্রমাণ ।

অনেক সাধুসন্ত আর ধর্মগুরু কিন্তু এই প্রত্যক্ষ প্রমান দিয়েই মানুষের মনে বিশ্বাস আনেন । অর্থাৎ তাঁরা নানা রকমের ম্যাজিক দেখিয়ে সাধারন মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন ।

এখন দেখা যাক অন্যান্য অলৌকিক মতবাদের দিকে । যেমন মৃত্যুর পরে জীবন, আত্মা আর জন্মান্তর । অর্থাৎ এটা যদি মেনেও নেওয়া যায় যে মৃত্যুর পরে মানুষের আত্মা বেঁচে থাকে । আত্মা কখনও মরে না ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু তাতেও কিন্তু ঈশ্বরের থাকার পক্ষে কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না । অর্থাৎ এরকম একটা জগতের কল্পনা সহজেই করা যায় যেখানে আত্মা আছে, পূর্ণজন্ম আছে । এমনকি ভূতও আছে কিন্তু কোন ঈশ্বর নেই । আমাদের এই জগতের পক্ষে একজন ঈশ্বরের থাকা বা না থাকা কি খুব জরুরি কিনা সেটা বোঝা যায় না ।

কমিউনিস্টদের ঈশ্বর সম্পর্কে মূল বক্তব্যটাও কিন্তু বেশ আকর্ষনীয় । তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে । ভগবান হল গরীব মানুষদের ভুলিয়ে রাখার জন্য বড়লোকদের একটা কায়দা । কথাটা কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয় । পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে কিন্তু দেখা যায় ভগবানের নাম করেই বিভিন্ন দেশের শাসকেরা তাঁদের শাসন চালিয়ে গেছেন । ঈশ্বরের নামে শাসন করে তাঁরা দুর্বলদের উপর আধিপত্য চালিয়েছেন । দেশ শাসন করেছেন । রাজ্যজয় করেছেন । তাঁরা প্রচার করেছেন যে রাজা বা সম্রাট হচ্ছেন স্বয়ং ভগবানের অবতার বা তাঁর প্রতিনিধি । চার হাজার বছর আগেকার মিশরীয় ফারাওদের থেকে আরম্ভ করে মাত্র কয়েকদিন আগে পতন হওয়া নেপালের রাজা সবাই একই পথের পথিক। মাত্র কয়েক মাস আগেও নেপালে আইন ছিল যে রাজা হচ্ছেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার তাই তিনি সকল আইন কানুনের উর্দ্ধে । কোন আইনই তাঁকে বন্দী করতে পারবে না । বিভিন্ন দেশে গরীব মানুষদের বলা হত তোমার রাজার সেবা কর কেননা তিনি ভগবানের অবতার ।

আবার মেয়েদের দমিয়ে রাখার জন্যও ঈশ্বরকে টেনে আনা হয় । তাঁদের বলা হয় তাঁদের স্বামীই হচ্ছেন তাঁর কাছে ভগবান । অর্থাৎ পতি পরম গুরু । অথবা ভগবানের ইচ্ছা এই যে স্ত্রীরা সবসময় তাদের স্বামীর সেবা করুক । কিন্তু পুরুষদের কাছে তাঁদের স্ত্রীদের অস্তিত্ব কেবল সেবাদাসীর থেকে আর কিছু বেশি নয় । আবার হিন্দু বা মুসলিম সব ধর্মেই আছে কোন পুরুষ যদি ভাল কাজ করে তাহলে সে মৃত্যুর পরে সে স্বর্গে বা বেহেস্তে যাবে । এবং স্বর্গে গিয়ে সে সেখানকার হুরি পরি আর অপ্সরাদের শরীর সম্ভোগের সুযোগ পাবে । কিন্তু কোন মহিলা সম্পর্কে এটা বলা নেই যে তারা যদি ভাল কাজ করে তাহলে মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে সে কয়টি পুরুষকে উপভোগ করতে পারবে ।

তা যাই হোক যার বিশ্বাস আছে সে ভগবানে বিশ্বাস করবে আর যার নেই সে করবে না । সেটাই আসল কথা । কিন্তু কোন কোন সময় সত্যিই মানুষের ভগবানের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায় যখন তারা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় । সম্প্রতি ইজরায়েলে পোল্যান্ডের একটি ইহুদি মেয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ডায়েরি প্রকাশিত হয়েছে । সেখানে সে লিখেছে – যখন দেখি মানুষদের জীবন্ত অবস্থায় ফার্ণেসে ফেলে দেওয়া হচ্ছে । বাচ্চাদের জার্মান সৈন্যরা কেবল খালি হাতে মেরে ফেলেছে তখন ঈশ্বরের উপরে আর কোন বিশ্বাস থাকে না । যদি সত্যিই ঈশ্বর থাকতেন তাহলে কিছুতেই তিনি তাঁর সন্তানদের এভাবে মরতে দিতেন না ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মান নাজিরা প্রায় নব্বই লক্ষ মানুষকে কনসেনট্রেসন ক্যাম্পে মেরে ফেলেছিল । যাদের মধ্যে বহু শিশুও ছিল । যারা ঈশ্বর বিশ্বাসী তাঁদের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যদি ঈশ্বর থেকে থাকেন তাহলে তিনি কিভাবে এই অনাচার মেনে নিলেন । নাকি হয়ত ঈশ্বর আছেন কিন্তু মানুষের ভালমন্দে তাঁর কিছু এসে যায় না । ঈশ্বরবিশ্বাসীরা প্রায়ই একটা কথা বলেন যে ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্য । আমার জানতে ইচ্ছা হয় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে ছয় কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল তাতে কার মঙ্গল হয়েছিল । টিভিতে মাঝেমধ্যেই দেখায় সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষের ছবি । হাজার হাজার মানুষ খেতে না পেয়ে যাদের হাত পা কাঠি হয়ে গেছে । বাচ্চাদের প্রত্যেকটি পাঁজরা গোনা যাচ্ছে । অথচ তাদের পেটটা বড় । যেকোন মূহুর্তে তারা মারা যেতে পারে স্রেফ না খেয়ে । তাদের এই অবস্থা তাও কি ঈশ্বরের করুণার দান । অথবা কয়েকবছর আগে সুনামিতে ইন্দোনেশিয়াম, ভারত, শ্রীলঙ্কা সহ আরো বহু দেশে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল তাও কি ঈশ্বরের ইচ্ছায় হয়েছে ।

তাহলে আমাদের এই জগতে ঈশ্বরের কাজটা কি । তিনি কি একটা বাচ্চার মত যে নিজের খেলনা গুলো নিয়ে খেলে ছড়ায় ভাঙে আবার গুছিয়ে রাখে । যখন যা ইচ্ছা তখন তা করে । আর এই সমস্ত কাজের মধ্যে কোন যুক্তিবোধ কাজ করে না । নাকি আমাদের এই দুঃখ দুর্দশা আনন্দ সবই আসলে একটা ভ্রম । আমরা মনে করছি যে আমরা ভাল আছি বা খারাপ আছি । কিন্তু আমরা আসলে যা দেখছি বা শুনছি তা সবই মায়া । এই অনুভূতিগুলির বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই । আমরা স্বপ্ন দেখি যে আমরা খুব বিপদে পড়েছি আর ভগবানকে ডাকছি । কিন্তু ভগবান এলেন না । কিন্তু যখন আমাদের ঘুম ভাঙে তখন কি আমরা ভগবানের উপর অভিমান করি যে কেন তিনি আমাকে স্বপ্নের বিপদ থেকে বাঁচাতে এলেন না । কারণ আমরা জানি যে স্বপ্নের ভিতরে যে বিপদ আমাদের হয়েছিল সেটা ছিল একটা ভ্রম । তখন হয়তো আমাদের হাসি পায় । এই ব্যাপারটাও ঠিক তেমন নয়তো । নাহলে যে কোন যুক্তি দিয়েই পৃথিবীতে অনাচারগুলির কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না । কেনই বা মানুষে মানুষে এত বৈষম্য আর কেনই বা খুব অল্পসংখ্যক কিছু মানুষ পৃথিবীর সব সম্পদ ভোগ করে তার কোন ব্যাখ্যা মেলে না । কেন কিছু মানুষ সারাজীবন ধরে সুখভোগ করে আর কিছু মানুষের সারাজীবন কাটে দুঃখে যেখানে সব মানুষেরই ভগবানের কৃপা সমানভাবে পাওয়া উচিত ছিল ।

কেউ কেউ বলেন যে ভগবান মানুষকে দুঃখ কষ্টে ফেলে পরীক্ষা করেন যে তারা কতটা সহনশীল হয়েছে । কিন্তু ভগবানের এরকম খামখেয়ালিপনায় কি লাভ হয় সেটা কেউ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলতে পারেন না । কোন মানুষ সে হয়ত জীবনে চরম কষ্ট পেয়েছে যা নরকযন্ত্রনারই সামিল সে তো বলতেই পারে যে হয়ত ঈশ্বর আছেন কিন্তু তাতে আমার কি । ঈশ্বর থেকেও তো আমার কোন উপকার হয়নি । তাহলে ঈশ্বর থাকুন তাঁর মতো । আর আমি থাকব আমার মত ।

তবে শেষ অবধি আমার যেটা মনে হয় সেটা হল ঈশ্বর হয়ত আছেন কিন্তু তিনি সর্বশক্তিমান নন । অর্থাৎ তিনি চাইলেই কোন মানুষের ভাল বা মন্দ করতে পারেন না । হয়ত লড়াই করার জন্য কিছুটা শক্তি যোগাতে পারেন । যেমন কেউ যদি একটুও পড়াশোনা না করে তাহলে কি কেবল ঈশ্বরকে ডেকে পরীক্ষায় পাস করতে পারে । না তা কোনমতেই সম্ভব নয় । ঈশ্বর কেবল তাকে ভাল পরীক্ষা দেবার জন্য কিছুটা মানসিক শক্তি যোগাতে পারেন । কিন্তু তাকে পাস করিয়ে দেবার ক্ষমতা তাঁরও নেই । ঈশ্বর যে সর্বশক্তিমান নন তার প্রমান হল আমাদের পুরান আর মহাকাব্যগুলি । সেগুলি পড়লে দেখা যায় যে ঈশ্বরের অবতার হিসাবে যাঁরা জন্মগ্রহন করেছিলেন তাঁদেরও ব্যক্তিগত জীবনে কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে । যেমন রাম অথবা কৃষ্ণ । স্বয়ং ভগবানের অবতার হয়েও রামকে চোদ্দ বছর বনবাস করতে হয়েছে । রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করার পরও তাঁর বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি । আবার কৃষ্ণ এত রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী হয়েও তাঁর নিজের বংশকেই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি । আবার যীশুখ্রীষ্টকেও কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে । ভগবানের প্রতিনিধি হয়েও তাঁকে ভয়ানক মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে । তাহলে কোনো খ্রীষ্টান তো ভাবতেই পারে যে ঈশ্বর যখন যীশুকেই রক্ষা করতে পারেননি তখন কিভাবে তিনি তাঁদের রক্ষা করবেন ।

তাই মনে হয় ভগবানের প্রতি আস্থার থেকেও যেটা দরকার বেশি সেটা হল নিজের প্রতি আস্থা । আর নিজের প্রতি আস্থার অভাব থাকলেই মানুষ যখন পরাস্ত হয় তখন সে ভগবানকে দোষারোপ করে । অথচ প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই যদি ভগবানের প্রকাশ থাকে তাহলে নিজের প্রতি আস্থাই ভগবানের প্রতি আস্থায় রূপান্তরিত হয় আর সেই সময়েই একজন চরম নাস্তিক কিন্তু নিজের প্রতি আস্থাশীল একজন ব্যক্তি আসলে হয়ে ওঠেন একজন আস্তিক ।

Sunday, June 03, 2007

পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে মিডিয়ার আলোড়ন প্রমাণ করে মিডিয়া কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ।

একমাত্র মনে হয় আমাদের দেশেই পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোলে তা হয়ে যায় একটা খবর আর যারা ফার্স্ট সেকেন্ড হয় তারা হয়ে যায় সেলিব্রিটি ।

এর মধ্যেই বেরোল মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট । আর এই রেজাল্ট নিয়ে প্রত্যেক বছরের মত এবছরও দেখা গেল মিডিয়ার বাড়াবাড়ি । আমাদের দেশের মিডিয়া যে কত দায়িত্বজ্ঞানহীন তা প্রমান করে পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে তাদের এই অহেতুক প্রচারে । এখন আর বোর্ডের পক্ষ থেকে কোন মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয় না তবুও সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলগুলি নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড খুঁজে বের করে । যা আসলে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতিই করে ।

আর যে পরীক্ষায় পাঁচ ছয় লক্ষ করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় এবং এক দুই নম্বরের ব্যবধানে অজস্র ছাত্রছাত্রী সেখানে দশ বা কুড়ি জনকে কেবল নম্বরের বিচারে বেছে নেওয়া নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয় । প্রথম দশ বা কুড়ি জন নয়, প্রথম অন্তত দুশো জনের মধ্যে মেধার কোন ফারাক নেই ।

মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বা সেন্ট্রাল বোর্ডের পরীক্ষাগুলি প্রত্যেক বছরই যথাসময়ে হবে এবং তাতে বহু ছাত্রছাত্রী পাস অথবা ফেল করবে । এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা । এটা প্রত্যেক বছরেই ঘটবে । এই ঘটনা নিয়ে এত মাতামাতি করার কি আছে সেটা ভেবে পাওয়া যায় না । আসলে আমাদের দেশে শিক্ষার থেকে প্রতিযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় । আমরা আসলে ভুলে যাই যে শিক্ষা কোন প্রতিযোগিতার বিষয় নয় । ছাত্র ছাত্রীরা কি শিখেছে সেটাই সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত । তারা একে অপরের থেকে কত বেশি বা কম নম্বর পেয়েছে তাকে কখনই গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয় ।
আর মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক কখনই জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা আইআইটির মত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয় ।

আর সব থেকে হাসি পায় উচ্চ মাধ্যমিকে যখন মেধা তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করা হয় । উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকাতে দেখা যাবে প্রায় সবাই বিজ্ঞানবিভাগের ছাত্র ছাত্রী । সেখানে কলা বা বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের দেখা যায় না । তার মানে কি কলা বা বাণিজ্য বিভাগে কোন প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা পড়ে না । আসলে বিজ্ঞান বিষয়গুলিতে যত বেশি নম্বর পাওয়া সম্ভব তা কখনই কলা বা বাণিজ্য বিভাগের বিষয় গুলিতে পাওয়া সম্ভব নয় । ইতিহাস বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কি ৯০ শতাংশ নম্বর পাওয়া সম্ভব । মনে হয় না ।
তাহলে বোঝাই যায় যে উচ্চমাধ্যমিকের কখনই কোন মেধা তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয় । অথচ রিপোর্টাররা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রথম দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের খুঁজে বার করে এবং তাদের নিয়ে হল্লা আরম্ভ করে ।

কোন কোন সংবাদপত্র বা চ্যানেল আবার মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থানাধিকারীর নাম ঘোষনা করে । এটা প্রমান করে যে আমাদের মিডিয়া যাঁরা চালাচ্ছেন তাঁরা কতটা অশিক্ষিত এবং তাঁদের কমন সেন্স কতটা কম । মেধা কখনও মানুষের লিঙ্গের উপর নির্ভর করে না । আইনস্টাইন যদি পুরুষ না হয়ে মহিলা হতেন তাহলে কি তাঁর বুদ্ধি আর মেধা বেড়ে বা কমে যেত ?

এরপর প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা যখন হঠাৎ করে মিডিয়ার সামনে পড়ে তখন তারা যে মানসিক চাপের সম্মুখীন হয় তার ফলেও তাদের নানা রকমের সমস্যা চলে আসতে পারে । বহু মানুষের প্রশংসা আর পিঠ চাপড়ানি খেতে খেতে তাদের যদি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস চলে আসে তার ভবিষ্যৎ ফল খারাপ হতে বাধ্য ।

Saturday, May 05, 2007

একজন হিন্দু হিসাবে কেন আমি গর্বিত ।

ভারতবর্ষে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষিত হিন্দুদের অবস্থাটা কিছুটা যেন কনফিউজড । আধুনিক প্রগতিশীল বাঙালি হিন্দুরা প্রায়ই নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দিতে চান না বা দিতে লজ্জা পান । তাঁদের অনেকরই বক্তব্য যে তাঁরা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না এবং বিশ্বাস করতে চানও না । তাঁরা অনেকই বলবেন যে তাঁরা ভারতীয় হিসাবে গর্বিত বা বাঙালি হিসাবে গর্বিত কিন্তু তাঁরা কখনই বলবেন না যে তাঁরা হিন্দু হিসাবে গর্বিত ।

অদ্ভুত ব্যাপার হল আমি যদি নিজেকে একজন হিন্দু বলে পরিচয় দিই তাহলে যেন আমি যেন একজন সাম্প্রদায়িক অথবা বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এস এস এর বা বজরং দলের দালাল । আর আমি যদি বলি যে আমি কোন ধর্মে বিশ্বাস করি না তাহলেই আমি একজন প্রগতিশীল এবং আধুনিক মানুষ ।

অথচ ভারতে যদি কোন মুসলমান নিজেকে মুসলমান হিসাবে পরিচয় দেন অথবা একজন খ্রীস্টান নিজেকে খ্রীস্টান হিসাবে পরিচয় দেন তাহলে ধরে নেওয়া হয় সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার । এবং কেউই তাঁদের কোন রাজনৈতিক বা অন্য কোন পরিচয় খুঁজতে যায় না । কিন্তু একজন হিন্দু যদি নিজেকে হিন্দু হিসাবে পরিচয় দেন তাহলেই যেন তার যত দোষ ।

অথচ এই প্রগতিশীল হিন্দুরাই জাতপাত দেখে ছেলেমেয়ের বিয়ে দেন অথবা তাঁদের যদি শিডিউল কাস্ট বা শিডিউল ট্রাইব সার্টিফিকেট থাকে তবে তার উপযোগিতা নিতে তাঁরা পিছপা হন না । এবং কথায় কথায় আফসোস করেন যে কেন শুধু মুসলমানদেরই চারটি বিয়ে করার অধিকার থাকবে ।

এই প্রগতিশীল মানুষদের অনেকরই বক্তব্য হিন্দু ধর্ম বলে কিছু হয় না, যারা আগে সিন্ধুনদের তীরে বসবাস করত তারাই নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দিত । হিন্দুধর্মের কোন প্রতিষ্ঠাতা নেই, এতে তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ইত্যাদি ।

কিন্তু তাঁরা ভুলে যান যে হিন্দুধর্ম কখনও কোন মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় নি। যুদ্ধজয় করে কোন দেশের মানুষকে বাধ্য করা হয় নি একে গ্রহন করার জন্য । অথবা সামান্য কিছু খাবারের লোভ দেখিয়ে গরীব মানুষদের রূপান্তরিত করা হয়নি এই ধর্মে ।

বরং হিন্দুরাই অন্য ধর্মের আচার আচরন এবং দেবদেবীকে নিজেদের বলে গ্রহন করেছে । যেমন প্রাচীন বৈদিক আর্যরা আস্তে আস্তে গ্রহন করেছিল শিব ও শক্তিকে । আবার পরবর্তীকালে বুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বিষ্ণুর অবতার বলে ।

হ্যাঁ এটা অবশ্যই মেনে নেওয়া দরকার যে হিন্দুধর্মের ভিতরেও কালক্রমে নানারকমের কুসংস্কার প্রবেশ করেছিল । কিন্তু সেগুলিও ছিল কিছু মানুষের ষড়যন্ত্র । যেমন সতীদাহ প্রথা । শোনা যায় বেদের কিছু শ্লোকের ভুল অর্থকরে সতীদাহ প্রথা চালু করা হয়েছিল । এর আসল উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের সম্পত্তি দখল করা । আবার পরবর্তীকালে বিদ্যাসাগর প্রমান করেছিলেন যে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত । আর জাতিভেদ প্রথার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে কে কি কাজ করবে তা ঠিক করে দেওয়া । সমাজের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা এর উদ্দেশ্য ছিল না । আর যদি এটা বৈষম্যই সৃষ্টি করে থাকে তাহলে এখনও কেন ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার নানা রকমের সংরক্ষন চালু রেখে জাতিভেদ প্রথাকে জিইয়ে রেখে দিয়েছেন ?

সমস্ত মানুষই যে এক তা প্রমান করার চেষ্টা হিন্দুদের মধ্যে থেকে বারবারই হয়েছে । চৈতন্যদেব এবং বিবেকানন্দই তার প্রমাণ ।

কমিউনিস্টরা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না । কিন্তু তাঁরাও স্বীকার করেন চৈতন্যদেব এবং বিবেকানন্দের দর্শনকে ।

বিবেকানন্দের লেখায় পড়েছি যে হিন্দুধর্ম শ্রেষ্ঠ কারন একমাত্র এই ধর্মই শেখায় অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে । রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন যে যত মত তত পথ । অর্থাৎ তিনিও অন্য ধর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন । এমনকি এরকমও শোনা যায় যে তিনি মুসলমান হয়েও সাধনা করেছিলেন ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের উপরেও হিন্দু দর্শনের প্রচুর প্রভাব ছিল । অনেক বিপ্লবীই ইংরেজদের বিরূদ্ধে মনোবল সংগ্রহ করতেন গীতা পড়ে ।

অতএব জন্মসূত্রে আমি হিন্দু এবং আমি যদি আমার এই পরিচয় সম্পর্কে গর্ববোধ করি তাতে দোষের কিছু নেই ।

Saturday, March 24, 2007

হু হা ইন্ডিয়া হেরে মোলো ইন্ডিয়া

হু হা ইন্ডিয়া হেরে মোলো ইন্ডিয়া

আমাদের রথী মহারথীরা বিশ্বকাপ জিততে গিয়ে শেষে ঘুঁটের মালা গলায় দেশে ফিরছেন । বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কাছে ন্যাজে গোবরে হয়ে ওনারা দেশে ফিরে কটা বিজ্ঞাপনের অফার পান সেটাই দেখার ।
ফিরে আসার পর নতুন স্লোগান শুনতে হবে........
হু হা ইন্ডিয়া হেরে মোলো ইন্ডিয়া ।

আর ইয়ে চ্যাপেলদার কি হবে । ভারতে কি আর ফিরে আসবে .... দেখাই যাক ।

Sunday, March 11, 2007

চাকরি ছাড়ার ইতিবৃত্ত

কিছু কিছু অফিসে পরিস্থিতি হচ্ছে এরকম যে দলে দলে কর্মীরা আসছে আর যাচ্ছে । অর্থাৎ কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেবার হার প্রচুর । অনেক সময়ে মাত্র তিনমাসের ব্যবধানে দেখা যায় অফিসে সব নতুন মুখ । অফিসের চেহারাই যেন পালটে গেছে । আবার তিনমাস পরে গেলেই দেখা যায় যে আবার বহুলোক ছেড়ে দিয়েছে এবং অন্যরা যোগ দিয়েছে ।

কিন্তু বেসরকারী চাকরিতে ছেড়ে দেবার এত বেশী হার কেন । ম্যানেজমেন্ট অনেক সময়েই দোষ চাপায় কর্মীদের উপরে । তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে সামান্য কিছু টাকা বেশি পাবার লোভে কর্মীরা চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছে । কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটা এত সহজ সরল নয় । বেশিরভাগ কর্মীই শুধুমাত্র কিছু টাকা বেশি পাবে বলে চাকরি বদলায় না । চাকরি বদলানোর পিছনে বেশ কিছু অন্য কারনও কাজ করে ।

আমি গত প্রায় আড়াই বছর ধরে কলকাতায় বেসরকারি চাকরি করছি । বর্তমানে আমি আমার পঞ্চম চাকরি করছি । কোনও অফিসে আমার সর্বাধিক থাকার রেকর্ড হল মাত্র নয় মাস । এরকম ব্যাপার শুধু আমার ক্ষেত্রে নয় আরও বহু জনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে । কোন অফিসে কেউ যদি দুই বছর কাটায় তাহলেই সবাই অবাক হয়ে যায় যে কি করে সে দুই বছর একই কম্পানিতে কাটিয়ে দিল । মোটামুটি ভাবে চাকরি ছাড়ার পিছনে কারনগুলো যদি খোঁজার চেষ্টা করি তাহলে সেগুলো দাঁড়াবে এরকম --

১. ইন্টারভিউয়ের সময়ে ম্যানেজমেন্ট যা বলে পরে দেখা যায় সেগুলো অনেক কিছুই মিলছে না । যেমন বলা হল আমাদের অফিস সন্ধ্যে ছ’টায় ছুটি । কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল যে ছুটির টাইমটা আসলে সাতটা ছাড়িয়ে আটটা সাড়ে আটটায় গিয়ে পৌঁছচ্ছে । কিংবা ইন্টারভিউয়ের সময়ে বলা হয়েছিল আপনাকে এই ধরনের কাজ করতে হবে । কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল তার বাইরেও আরো অনেক ধরনের কাজ দেওয়া হতে লাগল যেটা তার করার কথা ছিল না । অর্থাৎ স্পষ্টই বোঝা গেল যে ইন্টারভিউয়ের সময়ে ম্যানেজমেন্ট তথ্য গোপন করেছিল ।

২. উৎসাহের অভাব চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে একটা প্রধান কারন বলে মনে হয় । অর্থাৎ কারও কর্মকুশলতার অভাব হলে ম্যানেজমেন্ট স্টেপ নেবে কিন্তু কেউ যদি ভালো কাজ করে তবে তার জন্য কোন ধন্যবাদ বা উৎসাহ দেবে না । ভাব খানা হল এই যে মাইনে দিচ্ছি এই ঢের আবার ধন্যবাদ দিতে হবে নাকি ।

৩. কাজের পরিকল্পনার অভাব যার ফল ভুগতে হয় কর্মীদের । অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট কাজ ধরেই খালাস । কিন্তু সেই কাজটা কিভাবে সুষ্ঠুভাবে করা যেতে পারে সে বিষয়ে কোন চিন্তাভাবনা নেই । ফলে তিন দিনের কাজ শেষ হতে লাগছে আটদিন আর দায় গিয়ে পড়ছে কর্মীদের উপর ।

৪. ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগের অভাব । যার ফলে কর্মীরা বুঝতে পারছে না তাদের সঠিক দায়িত্বটা কি । আর ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পারছে না যে কর্মীদের কাজ করতে কি সমস্যা হচ্ছে ।

৫. পরিকাঠামোর অভাব । কর্মীদের কাজ করার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই অথচ তাদের বলা হচ্ছে ঠিক সময়ে সঠিক ভাবে কাজ শেষ করতে । অর্থাৎ ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার ।

৬. ম্যানেজমেন্টের জ্ঞান এবং দক্ষতার অভাব । অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে অফিসে যে ধরনের কাজ হয় সে ব্যাপারে অফিসের মালিকপক্ষ বা ম্যানেজমেন্টের কোন জ্ঞান নেই । তার শুধু টাকা ইনভেস্ট করেই খালাস । ফলে কোন কাজে কোন সমস্যা দেখা দিলে তাদের সেই সমস্যা বোঝার দক্ষতা বা ধৈর্য কোনটাই নেই । তাদের খালি টাকায় ইন্টারেস্ট ।

৭. কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই । অর্থাৎ অফিস যেমন চলছে চলুক । এর থেকে আর বেশি বাড়াব না । যেরকম কাজ করছি সেই রকম কাজই করে যাব, নতুন কোন কাজের চেষ্টা করব না । কর্মীদের যদি অন্যান্য কাজে দক্ষতাও থাকে তাহলেও সেই দক্ষতাকে কাজে লাগাব না ।

৮. খারাপ ব্যবহার । এটা করে অফিসের ম্যানেজমেন্ট নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ করে । কর্মীরা সেই অবস্থায় কিছু না বললেও পরে এর শোধ ঠিকই নেয় । চাকরি ছাড়ে ঠিক মোক্ষম সময়ে । যার ফলে কোন প্রজেক্ট ডুবে যায় এবং মালিকপক্ষের সাড়ে সর্বনাশ হয় ।

৯. অবাস্তব টার্গেট বা ডেডলাইন দেওয়া । অনেক সময়েই ম্যানেজমেন্ট জেনেশুনেই কর্মীদের উপরে অবাস্তব টার্গেট বা ডেডলাইন চাপিয়ে দেয় । এবং এব্যাপারে তারা কর্মীদের সাথে কোন আলোচনাও করে না ।

১০. মাইনে বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা না থাকা । ম্যানেজমেন্ট মৌখিকভাবে কর্মীদের কাজের খুব প্রশংসা করে কিন্তু মাইনে বাড়ানোর কথা উঠলেই চুপচাপ হয়ে যায় । কর্মীদের এই শুকনো প্রশংসায় যে মন ভরবে না সেটাই তো স্বাভাবিক ।

কোন ভুলভাল অফিসে ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার কিরকম হয় তা নিজের দেখা একটা ঘটনা বলি ।

একটা অফিসে আমি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে কাজ করতাম । সেখানে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজারের আন্ডারে দুজন প্রোগ্রামার কাজ করত । আমরা একই ঘরে বসতাম । সেই ম্যানেজার একজন প্রোগ্রামারকে জিজ্ঞাসা করল কিরে তোর কাজ হল ? ছেলেটি বলল না এখনও হয়নি । কি এখনও হয়নি ! খেঁকিয়ে উঠল ম্যানেজার । আর কবে হবে ?

খানিকক্ষন বাদে প্রজেক্ট ম্যানেজার আবার জিজ্ঞাসা করল কিরে হল ? এবার ছেলেটি বলল হ্যাঁ হয়ে গেছে । প্রজেক্ট ম্যানেজার এবারও খেঁকিয়ে উঠল । সেকি ! হয়ে গেছে ! তবে এখনও চুপ করে বসে আছিস কেন ?

ছেলেটি কয়েকদিন বাদে থেকেই অফিসে আসা বন্ধ করল । এবং বহু চেষ্টা করেও সেই প্রজেক্ট ম্যানেজার তার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারল না ।

তবে চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে সব দোষই যে ম্যানজমেন্টের এমন আমি মনে করি না । অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদেরও দায়িত্ব থাকে । শুধুমাত্র ভাল লাগছে না বলে চাকরি ছেড়ে দিতেও আমি দেখেছি ।

তবে কর্মীদের দায়িত্ব থাকে যেমন কম্পানিকে স্যাটিসফাই করা তেমনি কম্পানিরও দায়িত্ব কর্মীদের চাহিদা মেটানো । যদি কোন কর্মী মনে করে যে তার কম্পানি তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী মাইনে দিচ্ছে না তবে সে তো অন্য কোন জায়গায় জয়েন করতেই পারে । এর মধ্যে তো দোষের কিছু নেই । তবে তার নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে তবেই ছাড়া উচিত । যাতে কোন পক্ষেরই কোনো অসুবিধা না হয় ।

আমার মাত্র আড়াই বছরের অভিজ্ঞতার উপরে আমি এই লেখা লিখলাম । হয়ত সময়ের সাথে সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গিও কিছুটা পালটাতে পারে । আর সব সংস্থায় যে এরকম অবস্থা তা মনে করার কোন কারন নেই । অনেক অফিসেই সুন্দর ব্যবস্থা নীতি এবং পরিকল্পনা থাকে । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার কেরিয়ারের শুরুর সংস্থাগুলোতে আমাকে এই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ।

Wednesday, March 07, 2007

স্যার কালচার

অনেক অফিসেই দেখা যায় যে একটা ছোট ঘরে অন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হুমদো মুখে একজন বসে থাকে তাকে সবাই স্যার স্যার করে ।

কলকাতায় এই স্যার কালচারটা বেশ প্রবল । অফিসে বসকে সবাই স্যার বলেই ডাকে । আর অনেক উল্লুক এইভাবে স্যার স্যার ডাকাটাকে বেশ পছন্দও করে । যেন স্যার কি যেন একটা বিশাল সম্মানের ডাক ।

আমি কখনই কাউকে স্যার বলে ডাকাটা পছন্দ করি না । আসলে স্কুলের মাস্টারমশাইদের ছাড়া কাউকেই আমার স্যার বলতে ইচ্ছা করে না । তবুও চাকরিতে জয়েন করার পরে যখন দেখি যে সবাই বসকে স্যার স্যার করছে তখন বাধ্য হয়ে আমাকেও করতে হয় । তবে আমার চাকরি জীবনে সব বসকেই যে স্যার স্যার করতে হয়েছে এমন নয় । দুটি অফিসে আমরা বসকে অমুকদা তমুকদা সম্বোধনেও ডাকতাম । যেটা আমার মতে খুবই ভালো ।

অফিসের বাইরে লোকে দুঅবস্থাতে স্যার স্যার করে । যখন তারা বিনা টিকিটে চেকারের হাতে ধরা পড়ে অথবা কোন কারনে পুলিশের হাতে পড়ে । আবার অনেক স্কুলের ক্লার্ক খুব অসন্তুষ্ট হয় যদি ছাত্ররা তাকে স্যার বলে না ডাকে ।

তবে স্যার বলে আমাকেও কেউ ডেকেছে এমনও হয়েছে । কলকাতার রাস্তায় কিছু ভিখিরি পাওয়া যায় যারা স্যার স্যার বলে আলাপ ফাঁদে তারপর আসল কথায় আসে । স্যার একটা কথা ছিল । আমি বলি কি কথা ? সে তখন ইনিয়ে বিনিয়ে আসল কথায় আসে যে সে টাকা চায় কারন সে খুব বিপদে পড়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি ।

আমি অল্প কিছুদিন একটা কম্পিউটার সেন্টারে ফ্যাকাল্টির কাজ করেছিলাম তখন সেখানে ছাত্রছাত্রীরা আমাকে স্যার স্যার বলেই ডাকত । তবে সেটা শুনতে আমার কখনই ভালো লাগত না ।

আমার একটা প্রস্তাব আছে । এই স্যার কথাটাকে কি আমাদের কর্মজীবন থেকে একেবারেই বাদ দেওয়া যায় । এটা শুধুমাত্র আমাদের ছাত্রজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকুক না ।

Friday, February 16, 2007

আমার নতুন এমপিথ্রি প্লেয়ার

কয়েকদিন আগেই কিনেছি আমার নতুন ট্রানসেন্ড টি সোনিক ৬১০ এমপিথ্রী প্লেয়ার । (Transcend T.Sonic 610) বেশ কিছুদিন ধরেই আমার একটি ছোট এমপিথ্রি প্লেয়ার কেনার ইচ্ছা ছিল কিন্তু বাজেট বেশি ছিল না ।

যাই হোক শেষ অবধি ২৫০০ টাকা দিয়ে কলকাতার চাঁদনি চকের একটি দোকান থেকে কিনেই ফেললাম এটা ।

প্রায় একসপ্তাহ ধরে নিয়মিত শুনছি । অফিস যাবার পথে ট্রেনে নিয়মিত শোনা হচ্ছে । এটা এমপিথ্রি এবং ডবলুএমএ সাপোর্ট করে । এছাড়া এটা দিয়ে এফএমও শোনা যায় । এটির হেডফোনের জ্যাকে যেকোন স্পিকারের জ্যাকও ঢুকিয়ে স্পিকার দিয়েও ভাল গান শোনা যায় ।

সেটটার সাউন্ড কোয়ালিটি ভাল । এফএমও ভাল ধরে । ব্যাটারিটাও মোটামুটি ভাল । একবার চার্জ দিলে চোদ্দ ঘন্টা শোনার কথা বলা থাকলেও মোটামুটি দশ থেকে বারো ঘন্টা শোনা যেতে পারে । সেটটি দিয়ে কোন শব্দ রেকর্ডও করা যাবে আবার এফএম থেকেও রেকর্ডিং করা যাবে ।

সেটটির ডিসপ্লেটাও বেশ সুন্দর । আর নেভিগেশনটাও খুব সহজ । সহজেই কোন ফোল্ডারের ভিতরে আর বাইরে যাওয়া যায় ।

সেটটির ক্যাপাসিটি হল এক জিবি । এটার একটা অসুবিধা হল যে এটা কেবলমাত্র কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমেই চার্জ দেওয়া যায় । তাই যদি হাতের কাছে কোন কম্পিউটার না থাকে তবে চার্জ দেওয়া যাবে না । তবে আশার কথা এই বাজারে এসি টু ইউএসবি চার্জার পাওয়া যায় প্রায় চারশো টাকা দাম, সেটা একটা কিনে নিলে এটাকে সেই চার্জার দিয়ে সরাসরি যেকোন সাধারন এসি প্লাগ থেকেই চার্জ দেওয়া যাবে । সেটটির উপর দুই বছরের গ্যারান্টি রয়েছে তবে ব্যাটারির উপরে গ্যারান্টি ছয় মাসের ।

সেটটির আকার বেশ ছোট সহজেই পকেটে ঢুকে যায় । আর ওজন মাত্র আঠাশ গ্রাম । তাই সবদিক থেকে বিচার করলে যে দামে এটা পাওয়া যাচ্ছে সে অনুপাতে এটাকে বেশ ভালো বলেই মনে হয় ।

Wednesday, January 10, 2007

জেমস বন্ডের ছবি ৩

সাধারন ভাবে জেমস বন্ডের সমস্ত সিনেমাই আরম্ভ হয় জেমস বন্ডের হেঁটে আসা এবং ক্যামেরার দিকে একটি গুলি ছোঁড়ার দৃশ্যের ভিতর দিয়ে । তারপর জেমস বন্ডের একটি অ্যাকশন দৃশ্য দেখানো হয় । অ্যাকশন দৃশ্যটির পরে সিনেমার টাইটেল আসে । প্রথম সিনেমা ড. নো তে অবশ্য কোন স্টার্টিং অ্যাকশন দৃশ্য ছিল না । টাইটেলের আগের এই অ্যাকশন দৃশ্যটা প্রায় যেকোন বন্ড সিনেমারই প্রধান আকর্ষনের বিষয় । এই দৃশ্যে বন্ড কোন এক কঠিন সমস্যার সমাধান করে প্রায় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ।

মুনরেকার সিনেমার প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সে দেখা গিয়েছিল বন্ডকে প্যারাসুট ছাড়াই প্লেন থেকে ফেলে দেওয়া হয় তারপর বন্ড আকাশেই ভাসতে ভাসতে এক ভিলেনকে আক্রমন করে তার কাছ থেকে প্যারাসুট কেড়ে নিয়ে নিচে নেমে আসে । গোল্ডেন আই এবং লিভিং ডেলাইট সিনেমাতেও প্রায় একই রকম ব্যাপার ছিল । গোল্ডেন আইতে বন্ড খাদে ঝাঁপ দেয় এবং সেই খাদে পতনরত একটি পাইলট বিহীন প্লেনের ভিতর ঢুকে প্লেন চালিয়ে পালায়। লিভিং ডেলাইট সিনেমায় বন্ড একটি খাদে পতনরত জিপের ভিতর ভিলেনের সঙ্গে মারামারি করতে থাকে তারপর একসময় বন্ড প্যারাসুট নিয়ে জিপের বাইরে বেরিয়ে আসে ।

ডাই অ্যানাদার ডে সিনেমার প্রিটাইটেল সিকোয়েন্স একটু অন্যরকম । এখানে বন্ড শেষ পর্যন্ত পালাতে পারে না এবং উত্তর কোরিয়ার মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে যায় এবং বন্দী অবস্থায় এক বছরেরও বেশী সময় কাটায় । আবার লিভ অ্যান্ড লেট ডাই সিনেমার প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সে বন্ডকে দেখানোই হয়নি । ফর ইওর আইজ ওনলি সিনেমাতে দেখানো হয়েছিল ভিলেন বন্ডকে একটি রিমোট কন্ট্রোল চালিত হেলিকপ্টারে বন্দী করে মারবার ছক করে । কিন্তু বন্ড শেষ অবধি বেঁচে যায় এবং ভিলেনকে হত্যা করে । ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস সিনেমার শুরুতেই দেখান হয়েছিল যে বন্ড কিছু আততায়ীর হাতে খুন হল । কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই ছিল সাজানো । বন্ডকে মৃত সাজিয়ে বিপক্ষের চোখে ধুলো দেবার জন্যেই পুরো প্ল্যানটা ছকা হয়েছিল ।

প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সগুলির মধ্যে আমার সবথেকে প্রিয় দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ সিনেমার প্রায় চোদ্দ মিনিটের সিকোয়েন্স । এখানে লন্ডনের টেমস নদীতে বোটে চেপে লোমহর্ষক ভাবে বন্ড এক মেয়ে ভিলেনের পিছু নেয় । একসময় জলের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়েও বন্ডকে দেখা যায় টাই ঠিক করতে । ইংরাজি সিনেমায় আমার দেখা সেরা চেজিং দৃশ্যগুলির মধ্যে এটি অন্যতম ।

প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সের পরে আসে বন্ড সিনেমার টাইটেল । বন্ডের প্রত্যেক টাইটেলেই নগ্ন নারীশরীর দিয়ে নানা রকমের অ্যানিমেশন কোলাজ দেখান হয় । নগ্ন নারীশরীরের এরকম শিল্পসম্মত ব্যবহার খুব কমই দেখা যায় । সেই সাথে থাকে বিখ্যাত শিল্পীদের গাওয়া গান । বন্ড সিনেমার টাইটেল মিউজিকের জন্য অনেকেই কন্ঠ দিয়েছেন । যেমন পল ম্যাককার্টনি, শেরিল ক্রো, ম্যাডোনা প্রভৃতি ।

আমার সবথেকে প্রিয় বন্ড টাইটেল হল গোল্ডেন আই সিনেমার টাইটেল। এই সিনেমার টাইটেলে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন কে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল ।

Tuesday, January 09, 2007

জেমস বন্ডের ছবি ২

জেমস বন্ডের ভূমিকায় প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন শন কোনারি । প্রথম সিনেমা ছিল ড. নো (১৯৬২) । শন কোনারি ড. নো ছাড়াও আরও ছয়টি সিনেমাতে জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন । সেগুলো হল ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ (১৯৬৩), গোল্ডফিঙ্গার (১৯৬৪), থান্ডারবল (১৯৬৫), ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস (১৯৬৭), ডায়মন্ডস আর ফরেভার (১৯৭১) এবং নেভার সে নেভার এগেন (১৯৮৩) । এরমধ্যে নেভার সে নেভার এগেন ছিল আনঅফিসিয়াল বন্ড মুভি ।

বেশিরভাগ সমালোচকের মতে শন কোনারির বন্ডই হল বেস্ট বন্ড । এবং তাঁর সিনেমাগুলিই সবথেকে ভাল বন্ড সিনেমা । বিশেষ করে গোল্ডফিঙ্গার এবং থান্ডারবল সিনেমাদুটি কেই সবথেকে জনপ্রিয় হিসাবে ধরা হয় । বলা যেতে পারে জেমস বন্ডের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত তা শন কোনারি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ।

১৯৬৭ সালে ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস সিনেমার পরে ১৯৬৯ সালে জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবি অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস ছবিতে । জর্জ ল্যাজেনবির অভিনয় ক্ষমতার থেকে তাঁর অ্যাকশন দৃশ্য ও লাফঝাঁপে দক্ষতার জন্যই তাঁকে নির্বাচন করা হয়েছিল । কিন্তু অনেকেই জেমস বন্ডের ভূমিকায় তাঁকে পছন্দ করে উঠতে পারেননি । এই সিনেমাতেই জেমস বন্ড প্রথম এবং শেষ বারের মত বিয়ে করেন । যদিও বিয়ের পরেই তাঁর স্ত্রী মারা যান । সিনেমা হিসাবে অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস মধ্যমানের সাফল্য পেয়েছিল । কিন্তু সিনেমাটি রিলিজের আগেই জর্জ ল্যাজনবি ঘোষনা করেন যে তিনি আর জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করবেন না । ফলে ১৯৭১ সালে আবার শন কোনারি ফিরে আসেন ডায়মন্ডস আর ফরেভার ছবিতে ।

১৯৭১ সালের পর ১৯৭৩ সালে জেমস বন্ডের ভূমিকায় আসেন নতুন নায়ক রজার মুর । লিভ অ্যান্ড লেট ডাই ছবিতে । এই ছবিতে জেমস বন্ডকে কিছুটা আলাদা ভাবে দেখানো হয়েছিল । এই ছবিতে কখনই বন্ডকে টুপি পরতে বা সিগারেট খেতে দেখা যায় নি । তার বদলে দেখা গেছে সিগার টানতে । লিভ অ্যান্ড লেট ডাই ছবিতে মূলত আফ্রিকান আমেরিকান ব্ল্যাক কালচার কে তুলে ধরা হয়েছিল । এবং প্রথম একজন কালো বন্ড গার্লকে দেখা গেল ।

লিভ অ্যান্ড লেট ডাই ছবির পর রজার মুর দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান (১৯৭৪), দ্য স্পাই হু লাভড মি (১৯৭৭), মুনরেকার (১৯৭৯), ফর ইয়োর আইজ ওনলি (১৯৮১), অক্টোপুসি (১৯৮৩) এবং এ ভিউ টু এ কিল (১৯৮৫) ছবিতে অভিনয় করেন ।

রজার মুরের জেমস বন্ড ছিল অনেক হালকা টাইপের, কিছুটা কমেডি ঘেঁষা । সিনেমাগুলি ভালোই সাফল্য পেয়েছিল । মুনরেকার সিনেমাতে জেমস বন্ডকে মহাকাশে যেতেও দেখা গিয়েছিল । অক্টোপুসি সিনেমাতে বন্ড ভারতে এসেছিল এবং তাকে অটো চড়তেও দেখা গিয়েছিল । তবে অনেক জেমস বন্ড ফ্যানই অসন্তুষ্ট হয়েছিল যখন রজার মুর ছাপান্ন বছর বয়েসে অক্টোপুসি এবং আটান্ন বছর বয়সে এ ভিউ টু এ কিল সিনেমাতে অভিনয় করেন । সবারই বক্তব্য ছিল যে এত বুড়ো বন্ড দিয়ে আর চলে না ।

অবশেষে ১৯৮৭ সালে রজার মুরের বুড়ো বন্ডের বদলে বাজারে এল টিমোথি ডালটনের প্রথম বন্ড সিনেমা দ্য লিভিং ডেলাইট । সিনেমাটি ভালোই সাফল্য লাভ করেছিল । অনেকের মতে টিমোথি ডালটন চেষ্টা করেছিলেন জেমস বন্ডকে আবার সেই ইয়ান ফ্লেমিং এর আসল জেমস বন্ডের মত চেহারা দিতে । কিন্তু টিমোথি ডালটনের ১৯৮৯ সালের সিনেমা লাইসেন্স টু কিল অতটা সাফল্য লাভ করতে পারে নি । এই সিনেমাতে দেখান হয়েছিল জেমস বন্ডকে তার কাজে ইস্তফা দিতে । এবং আমেরিকান বন্ধুর উপর হামলার প্রতিশোধ নিতে ।

১৯৮৯ সালের পর বন্ড সিনেমা কার বানানোর অধিকার আছে এই নিয়ে মামলা শুরু হয় । যার ফলে দীর্ঘ ছয় বছর কোন জেমস বন্ডের সিনেমা রিলিজ করে নি । ১৯৯৪ সালে টিমোথি ডালটন তিনটি জেমস বন্ড ছবি করার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন । ফলে ১৯৯৫ সালের গোল্ডেন আই ছবির জন্য পিয়ার্স ব্রসনান কে নির্বাচিত করা হয় ।

জেমস বন্ডের ছবি ১

মনে আছে আমি যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন জেমস বন্ডের নতুন ছবি গোল্ডেন আই মুক্তি পেয়েছিল । তখন আমাদের ক্লাসের কয়েকজন এই সিনেমাটা দেখতে গিয়েছিল । তাদের মুখে সিনেমার অ্যাকশন এবং উত্তেজক দৃশ্যের বর্ণনা শুনে সিনেমাটা দেখতে ইচ্ছে হলেও দেখবার কোন উপায় ছিল না । সেই সময় অশ্লীলতার দায়ে এই সিনেমাটির বিরুদ্ধে কোন কোন ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভও দেখিয়েছিল ।

আবার যখন কলেজে পড়ি তখন মুক্তি পেল জেমস বন্ডের নতুন সিনেমা দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ । সিনেমাটি যেদিন মুক্তি পেল সেদিনই ঠিক করলাম দেখতেই হবে । সেই মত হলে প্রথম দিন প্রথম শোর সময়ে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম প্রচন্ড ভিড় কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার কোন উপায় নেই । তাই বাধ্য হয়ে ব্ল্যাকেই কাটলাম । তারপর হলে ঢুকে যখন সিটে বসলাম তখন দেখলাম যে পর্দার সামনে একদম প্রথম সারিতে আমার সিট পড়েছে । জীবনে সেই প্রথম একেবারে সামনের সারিতে বসে সিনেমা দেখা । সিনেমা দেখতে গিয়ে তো ঘাড়ের অবস্থা খারাপ । যাই হোক ওই অবস্থাতেই বসে কোনরকমে সিনেমাটা দেখলাম ।

তারও পরে কম্পিউটার কেনার পর সিডিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে দু একটি জেমস বন্ডর সিনেমা দেখেছিলাম । যেমন অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস, লিভিং ডে লাইট প্রভৃতি ।

তারপর একে একে সিডি ডিভিডি এবং ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ডিআইভিএক্স ফাইলের দৌলতে প্রায় সবকটি জেমস বন্ডের সিনেমাই দেখা হয়েছে । ১৯৬২ সালের ড. নো থেকে আরম্ভ করে হালের ডাই অ্যানাদার ডে অবধি । একেবার নতুন সিনেমা ক্যাসিনো রয়াল এখনও দেখা হয়নি তবে আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি দেখার সুযোগ হবে ।

প্রথম দিকে জেমস বন্ডের সিনেমা দেখার পর অদ্ভুত লাগত যে এত গাঁজাখুরি ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে । জেমস বন্ডের অবিশ্বাস্য রকমের লাক । যেকোন রকমের বিপদ থেকেই সে যেকোন ভাবে বেরিয়ে আসতে পারে । তারপর নানা রকমের আশ্চর্য রকমের গাড়ি সাবমেরিন আর বিভিন্ন হাইটেক যন্ত্র । পরে বুঝতে পারলাম জেমস বন্ডের জনপ্রিয়তার কারণই হচ্ছে এই গাঁজাখুরি ঘটনা গুলো । তখন থেকেই জেমস বন্ডের সিনেমাগুলি উপভোগ করতে আরম্ভ করলাম ।

চল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে জেমস বন্ড ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে । প্রত্যেক সিনেমায় গড়ে দুটি করে মহিলাকে সে শয্যাসঙ্গিনী করতে সক্ষম হয়েছে । মানে একুশটি সিনেমায় তাকে চল্লিশ জনেরও বেশী মহিলার সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করতে দেখা গেছে । প্রত্যেক সিনেমায় বহু বার তার কানের পাশ দিয়ে গুলি বেরিয়ে গেছে অথবা আততায়ী তাকে হাতের মুঠোও পেয়েও হত্যা করতে ইতস্তত করেছে তার ফলে বন্ড যেভাবেই হোক বেঁচে পালিয়েছে । মানুষ ছাড়াও হাঙর, সাপ, বাঘ, বিছে, কুমীর প্র‌ভৃতি তাকে বহুবার আক্রমন করেছে কিন্তু তাতেও বন্ডের কিছুই হয়নি । প্যারাসুট ছাড়াও প্লেন থেকে ঝাঁপ দিয়েও বন্ড বেঁচে গেছে । যাই হোক এসব নিয়ে খামোখা প্রশ্ন তুললে আপনার জেমস বন্ডের ছবি ভালো লাগবে না । ভাল লাগবে না যদি ভাবতে বসেন নানা রকম ইন্টেলেকচুয়াল কথাবার্তা যে জেমস বন্ড পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের একটা প্রোপাগান্ডা প্র‌ভৃতি । জেমস বন্ডের ছবি মানেই হল ভরপুর বিনোদন এবং আমার এগুলো দেখতে ভালই লাগে ।

Sunday, January 07, 2007

সিঙ্গুরের পর নন্দীগ্রাম...পশ্চিমবাংলা কোন পথে

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে যখন বামফ্রন্ট গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল তখন তার মধ্যে একটা অশনি সংকেত লুকিয়ে ছিল । নির্বাচনে বিপুল জয় সিপিএমের নেতাদের মধ্যে একটা ধারনা এনে দিয়েছে যে তাঁরা পশ্চিমবাংলায় এখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন । তারই ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে গ্রামবাসীদের যেকোন উপায়ে উৎখাত করে শিল্পস্থাপন করবার জন্য তাঁরা উঠে পড়ে লেগেছেন । এরজন্য কখনও পুলিশ আবার কখনও বা সিপিএমের ক্যাডার বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামবাসীদের উপরে । আর বার বার বলা হচ্ছে যে এই সব গণ্ডোগোল নাকি বহিরাগতদের কাজ ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বহিরাগত কারা ? একজন পশ্চিমবঙ্গ বাসী কি পশ্চিমবঙ্গের ভিতরেই বহিরাগত হতে পারেন । অথবা একজন ভারতবাসী ভারতবর্ষের ভিতরে । সুতরাং একজন পশ্চিমবঙ্গবাসী অথবা ভারতের যেকোন জায়গার লোক যদি এই সব কৃষকদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান তবে তাঁদের বহিরাগত বলা হবে কেন ? আর মাত্র কয়েকজন বহিরাগতদের পক্ষে কি সম্ভব গ্রামবাসীদের প্রভাবিত করা । আর যদি তাঁরা বহিরাগতই হবেন তবে গ্রামবাসীরা এই বহিরাগতদের কথা শুনবেন কেন ?

কাল রাতে নন্দীগ্রামে বিশাল সংঘর্ষ হয়েছে এবং তাতে ছয় সাত জনের এখনও অবধি মৃত্যু হয়েছে । এবং এই সংঘর্ষের সময়ে কোন পুলিশের দেখা মেলেনি । অথচ বেশ কয়েকদিন ধরেই নন্দীগ্রাম উত্তাল এবং খবরের শিরোনামে সুতরাং সেখানে প্রশাসনের আগে থেকেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল । তার মানে সিপিএমের গুন্ডাবাহিনী গ্রাম আক্রমন যাতে সুষ্ঠুভাবে করতে পারে সেজন্যই পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভাবে বসে ছিল । এখন সাংসদ লক্ষণ শেঠের প্ল্যান হল গ্রাম আক্রমন করে গ্রামের পুরুষদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে গ্রামগুলোকে দখল করে নেওয়া । যা সিপিএম কেশপুরে করে এসেছে বহুদিন ধরে ।

কিন্তু গ্রামের মানুষ এত সহজে ছেড়ে দেবে না । কমিউনিস্টদের অনেক বুড়ো নেতা এখনও বিশ্বাস করেন যে দেশে বিপ্লব হবে । এবার মনে হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে সত্যিই বিপ্লব আসতে চলেছে খালি একটাই পার্থক্য যে বিপ্লবটা আসছে তাঁদের বিরুদ্ধেই । সিপিএমের পতাকায় আর কাস্তে হাতুড়ি রাখার কোন মানে হয় না । তাঁদের জঙ্গী ট্রেড ইউনিয়ন গুলো অনেক আগেই হাতুড়ির ঘা দিয়ে বহু শিল্প ধ্বংস করেছে । এবং এখন মেকি শিল্পায়নের নামে কৃষির উপরেরও আঘাত হানছে ।

শিল্পায়নের প্রশ্নে যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রথম থেকে স্বচ্ছ নীতি গ্রহন করত তবে হয়ত এই সমস্যা তৈরি হত না । গ্রামবাসীদের বলা হচ্ছে চাকরি দেওয়া হবে টাকা পয়সা দেওয়া হবে । কিন্তু আমাদের দেশে যেখানে সমস্ত কাজেই আঠারো মাসে বছর, সেখানে এই সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার সম্ভাবনা সব সময়েই থেকে যায় । জমি নিয়ে নেওয়ার পর হয়ত দেখা গেল চাষীরা টাকা পয়সা সুযোগ সুবিধা সব পেলেন না । তাই গ্রামের মানুষদের আগে অন্য জায়গায় ঠিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে তারপরেই তাঁদের জমি অধিগ্রহন করতে হবে । এব্যাপারে তাড়াহুড়ো করলে চাষীরা কখনই ছেড়ে কথা কইবে না ।

Sunday, December 10, 2006

জ্যোতি বসুকে ডি লিট উপাধি দিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ।

সংবাদ প্রতিদিনের ওয়েবসাইটে খবরটা পড়ে খুব একটা আশ্চর্য হলাম না । তারা যদি লালু প্রসাদ যাদব বা রাবড়ি দেবীকেও যদি কোন দিন ডি লিট দেয় তাহলেও খুব একটা আশ্চর্য হব না ।

জ্যোতি বাবু কি এমন হাতি ঘোড়া মেরেছেন যে তাঁকে এই সম্মান দিতে হবে ? এই সম্মান তাঁর থেকে অনেক যোগ্য বহু মানুষকেই দেওয়া যেতে পারত । জ্ঞান হওয়া ইস্তক দেখে আসছি গরমকালে তিনি হয় ইংল্যান্ডে বেড়াতে যাচ্ছেন শিল্পপতি ধরার নামে অথবা উত্তর বঙ্গের কোন বাংলোয় টুরিস্টদের রিজার্ভেশন বাতিল করে নিজে গিয়ে জাঁকিয়ে বসছেন সেখানে ।

তাঁর বহু বছরের রাজত্বকালে তিনি দুটি মাত্র কীর্তি করেছেন । সে দুটি হল নন্দন আর চন্দন । এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিনি আর ভাল কিছু করেছেন বলে আমার মনে পড়ছে না । শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং শিল্পায়নে, পরিবহনে তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ । তাঁর সরকার বাচ্চাদের ইংরাজী পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছিল । তাঁর সরকার কম্পিউটারের বিরোধিতা করেছিল । তিনি এবং তাঁর দল একসময় নেতাজী সুভাষচন্দ্রের বিরোধিতা করেছিলেন । বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য একসময় তাঁর মন্ত্রীসভা ত্যাগ করে বলেছিলেন ‘চোরেদের সরকার’ । তিনি একসময় বিজেপিকে বলেছিলেন অসভ্য বর্বর । আবার তিনি নিজেই একসময় রাজীব গান্ধীকে আটকানোর জন্য অটল বিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরে ব্রিগেডে সভা করেছিলেন । নির্মম সব ঘটনা সম্পর্কে তিনি বরাবরই নির্বিকার থেকেছেন । মহিলাদের শ্লীলতাহানির পরে তাঁর মন্তব্য ছিল ‘ এরকম তো কতই হয়’ । একজন কমিউনিস্ট এবং সর্বহারাদের নেতা হয়েও তিনি বরাবরই বিলাসী জীবনযাপন করেছেন । এখনও তিনি সল্টলেকে রাজার হালে জীবন কাটাচ্ছেন সরকারের টাকা বরবাদ করে । তাঁর ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ায় কিছু শিয়ালের প্রাণ গিয়েছিল যাদের বন্যপ্রানী আইনের ফলে মারা নিষিদ্ধ । তাঁর কীর্তির কথা আর কত বলব ।

তাঁর ব্যর্থতার কথা প্রসঙ্গে তিনি সব সময়েই বলতেন কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতি আর অসহযোগিতার কারনের তিনি সব কাজ করতে পারছেন না । অথচ কলকাতার দুটি প্রধান উন্নয়ন মূলক কাজ পাতাল রেল আর দ্বিতীয় হুগলি সেতু কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যের ফলেই শেষ হয়েছিল । মনে রাখতে হবে ভারতের মধ্যে কলকাতাতেই প্রথম পাতাল রেল হয়েছিল । কেন্দ্রীয় সরকার যদি সবসময়েই পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরন করত তাহলে বোধহয় কলকাতাতে পাতাল রেল তৈরি হত না ।

এ হেন মানুষকে ডি লিটের জন্য নির্বাচিত করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বুঝিয়ে দিল যে তারা দায়বদ্ধ শুধু রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তো নিজেদের কাজগুলোই ঠিকভাবে করতে পারে না । আমি পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় যে পেপার সবথেকে ভাল পরীক্ষা দিলাম তাতে পেলাম সবথেকে কম নম্বর । আর যে পেপার সবথেকে খারাপ দিলাম তাতে পেলাম সবথেকে বেশী নম্বর । আমার মামাতো ভাই পশ্চিবঙ্গের বাইরের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব ভালো সুযোগ পেয়েও যেতে পারল না শুধু এই কারনে যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট আউট করতে দেরী করল । আমার শহরের একটি কলেজের মেয়েরা সবাই একসাথে ইতিহাসে ব্যাক পেল । একশোর উপর মেয়ে কিভাবে যে ইতিহাসে ব্যাক পেতে পারে তার ব্যাখ্যা কেবল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ই দিতে পারে । যে বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ভারতের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ছিল আজ তার স্থান নামতে নামতে কোথায় এসে পৌছেছে কেউ বলতে পারে না ।

সুতরাং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু বিচক্ষনতা আশা করা যায় না । আপনি যদি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু সম্মান আশা করেন তবে অবশ্যই সিপিএমে নাম লেখান ।

Friday, December 08, 2006

আমি যে নীতিতে বিশ্বাস করি ।

আমি পুরোপুরি অহিংসা নীতিতে বিশ্বাস করি । গান্ধীজিকে আমার এইজন্য ভাল মনে হয় । এবং এটা লাগে রহো মুন্নাভাই দেখার পরে নয় । ছোটবেলা থেকেই আমার গান্ধীজির প্রতি একটা শ্রদ্ধা ছিল । যে শ্রদ্ধা গান্ধীজির প্রতি বেশিরভাগ বাঙালিরই নেই ।

মূলত বাঙালিদের সহিংস সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বনাম গান্ধীজি দ্বন্দ্ব বেশিরভাগ বাঙালিকে গান্ধী বিরোধী করেছে । প্রকাশ্যে কেউ গান্ধীজির বিরুদ্ধে বেশি কিছু কথা না বললেও আমি বহু লোককেই গান্ধীজির বিপক্ষে অসম্মান সূচক মন্তব্য করতে শুনেছি । বহু লোকই দেশভাগের জন্য গান্ধীজিকেই দায়ী করে থাকেন ।

এটা আমিও স্বীকার করি যে গান্ধীজির বহু দোষ ছিল । কিন্তু এটা বার বার প্রমান হচ্ছে যে বর্তমান পৃথিবীতে গান্ধীজির নীতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ।

আমি মনে করি গান্ধীজির চরম অসম্মান সেদিন করা হয়েছিল যেদিন গান্ধী হত্যার দায়ে নাথুরাম গডসেকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল । কারন হিংসার বদলে হিংসা গান্ধীজির নীতিবিরোধী । গান্ধীজি নিজে কি চাইতেন যে তাঁর মৃত্যুতে অভিযুক্তকে ফাঁসি দেওয়া হোক । আমার মনে হয় না ।

ঠিক একই ভাবে সব ধর্মই নিজেদের অহিংসার পূজারী বলে ব্যাখ্যা করলেও আমার মনে হয় সব থেকে অহিংস ধর্ম হচ্ছে জৈন ধর্ম । তার পরেই আসবে বৌদ্ধ ধর্ম । জৈন ধর্ম এতটাই অহিংস যে তারা কোনভাবেই জীব হত্যা সহ্য করতে পারে না । যাতে কোনভাবে মুখে কোন পোকা ঢুকে পড়ে নিহত না হয় সেজন্য তাঁরা মুখে কাপড় দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখেন । এর থেকে অহিংস কি কোন ধর্মের হওয়া সম্ভব ?

আর কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় সে বিষয়ে অনেক তর্ক হয়েছে । আমার কাছে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাই হল অন্যায় । যখনই আপনি অন্যের স্বাধীনতাহীনতার কারন হচ্ছেন তখনই আপনি অন্যায় করছেন । যেমন আপনি আপনার শিশুর খেলা করার অধিকার হরন করে তাকে সারাদিন পড়াশোনায় বাধ্য করছেন আপনি অন্যায় করছেন । আবার যখন জর্জ বুশ ইরাক দখল করে সেখানকার নাগরিকদের বেঁচে থাকার অধিকার হরন করছেন তখন তিনিও অন্যায় করছেন ।

আমাদের রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম একটা খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন যে দুর্নীতি দূর করতে পারেন কেবলমাত্র প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক এবং শিশুর পিতামাতা । এছাড়া কারও দুর্নীতি দূর করার ক্ষমতা নেই । ঠিক এই একই কথা প্রযোজ্য হিংসা সম্পর্কে । যে একটা খুব সুন্দর ছোটবেলা কাটিয়েছে এবং বাবা মা এবং শিক্ষকদের কাছে ঠিক শিক্ষা পেয়েছে তার পক্ষে দুর্নীতিগ্রস্ত বা হিংসাত্মক হওয়া অসম্ভব ব্যাপার ।

দুর্নীতিমুক্ত হোন । মনে রাখুন এটা আপনার বাবা মা অথবা আপনার সন্তান কেউই পছন্দ করবে না । দস্যু রত্নাকর তার বাবা মা এবং স্ত্রী সন্তানের জন্যই ডাকাতি ও খুন খারাপি করত । কিন্তু কেউই তার পাপের ভার নিতে রাজি হয় নি ।

তাই বাচ্চাদের ভালবাসুন । গান শুনুন । ছবি আঁকুন । নদীর ধারে বেড়ান । আকাশ দেখুন । ক্ষমা করতে শিখুন (সবার আগে নিজেকে) । বন্ধুত্ব করুন । আর অনেক ভাল থাকুন ।