অসাধারন একটি বাউল গান
ইউটিউব ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎই নজরে পড়ল এই গানটি । দেখুন তো আপনাদের কেমন লাগে ।
গায়ক ও কবি কবীর সুমনের ষাট বছরের জন্মদিন উপলক্ষে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হয়ে গেল বালাই ষাট বলে একটি সুন্দর অনুষ্ঠান । সুমনের গান গাইলেন বিভিন্ন জেনারেশনের শিল্পীরা । আমি অবশ্য টিভিতেই দেখলাম অনুষ্ঠানটি ।
১৯৯২ সালে সুমনের তোমাকে চাই অ্যালবামটি বেরোনোর পর সুমনকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি । তিনি তাঁর পরের বহু জনপ্রিয় গায়ক গায়িকাকে প্রভাবিত করেছেন । নচিকেতা, অঞ্জন দত্ত, রূপঙ্কর, অনেকই বলেছেন তাঁরা যদি সুমনের গান না শুনতেন তাহলে তার হয়তো কোন দিন গানই গাইতেন না ।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় হৈমন্তী শুক্লার গানের ভিতর দিয়ে । এরপর রূপঙ্কর, দোহার, সাবিনা ইয়াসমিন, ফসিল্স, চন্দ্রবিন্দু, শহর, অঞ্জন দত্ত এবং তাঁর ছেলে নীল, শ্রীকান্ত আচার্য, ব্রহ্ম ব্যান্ড, লোপামুদ্রা সবাই গাইলেন ।
দোহারের দুটি গান অনবদ্য লাগল । সুমনের গানের তাঁরা যেন এক অন্য মাত্রা দিলেন । অঞ্জন দত্তের ছেলে নীল সুমনের একটি ইংরেজি গান গাইলেন । ফসিল্সের রূপম তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ইন্টেলেকচুয়াল ভঙ্গিতে সুমনের রংপেনসিল গানটির অন্য রূপ তুলে ধরলেন । শ্রীকান্ত, লোপামুদ্রা নিজেদের পেশাদারী দক্ষতা বজায় রাখলেন । ব্রহ্ম ব্যান্ডের গান আমি আগে শুনিনি । এই ব্যান্ডের একটি মেয়ে সুমনের পেটকাটি চাঁদিয়াল গানটি সম্পূর্ণ অন্য কায়দায় গাইলেন ।
জয় গোস্বামী কবিতাপাঠ করলেন । অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি প্রায় পুরো অনুষ্ঠানটিই দেখলেন । তবে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক জগতের আমরা ওরা ভাগাভাগির পর 'আমাদের দলের' কাউকে তেমন চোখে পড়ল না ।
তবে চোখে লাগল এই অনুষ্ঠানে সুমনের গানের বড় ভক্ত নচিকেতার না থাকাটা । কেন জানিনা মনে হল নচিকেতা থাকলে অনুষ্ঠানটি আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ হত ।
সুমন নিজে কোন গান পুরো গাইলেন না তবে অনেক গানেই গলা মেলালেন । অনবদ্য একটি অনুষ্ঠান উপহার দেবার জন্য কলকাতা টিভিকে ধন্যবাদ ।
লিখিল
I
সময়
11:08 PM
2
বক্তব্য
বিভাগ গান বাজনা, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
১৯৬৭ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টিরে (Monterey) তে আয়োজন করা হয়েছিল একটি সঙ্গীত উৎসবের । এই উৎসবকেই দেখা হয় হিপি মু্ভমেন্টের সূত্রপাত হিসাবে । আর এই উৎসব মুখ্যত ছিল রক মিউজিকের । তিন দিনের এই সঙ্গীত উৎসবে বিখ্যাত শিল্পী ও ব্যান্ডের পাশাপাশি বাজিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর । ইউটিউব থেকে দুটি ভিডিও তুলে দিলাম । আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে বাজানো পণ্ডিত রবিশঙ্কর এবং আল্লারাখার এই পারফরম্যান্সকে আমার মনে হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত ।
ভিডিও দুটি যদি ডাউনলোড করে নিজের সংগ্রহে রাখতে চান তাহলে চলে যান youtubex.com এ ।
আর একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে এই অনুষ্ঠানে গানবাজনা পরিবেশন সবাই বিনা পারিশ্রমিকেই করেছিলেন । খালি ব্যাতিক্রম রবিশঙ্কর । তিনি পারফরম্যান্সের জন্য ৩০০০ ডলার নিয়েছিলেন ।
বাংলা ব্যান্ড ফসিল্সের গান প্রথম কবে শুনেছিলাম জানি না । বোধহয় কোন এমপি৩ সিডিতে বা টিভিতে । ফসিল্সের গান প্রথম যখন শুনেছিলাম তখন আমার সবথেকে প্রিয় ব্যান্ড ছিল পরশপাথর এবং চন্দ্রবিন্দু।
টিভিতে একটি স্টেজ পারফরম্যান্সের অনুষ্ঠানে আমি প্রথম ফসিল্সকে পারফর্ম করতে দেখি । বাংলা ব্যান্ডের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগগুলি তোলা হয় তার প্রতিটিই প্রায় ফসিল্সের গানের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল । অদ্ভুত সাজপোশাক আর চুল স্টেজের উপর চুল ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে গান যা প্রায়ই বেসুরো আর যার কোনো মাথামুণ্ডু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না । অর্ধেক কথা তো পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছিল না । সেই সময়ের সেরা দুই বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দু ও ভূমির গায়কদের আচার আচরন খুবই ছিল খুবই সাধারন আর তাদের গানও ছিল অনেকটাই মূলধারার গানের কাছাকাছি ।
কিন্তু পরে যখন আমি ফসিল্সের গান সিডিতে আর রেডিওতে শুনেছিলাম তখন বেশ ভালোই লেগেছিল । ফসিল্সের গানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা সমাজের শুধুমাত্র অন্ধকার দিকগুলোকে নিয়েই গান করে । একারনে তাদের ব্যান্ডমেম্বাররাও কেবল কালো পোষাকই পরে ।
প্রথমদিকে তাদের এই রকম নেগেটিভ গানের শ্রোতা খুবই কম ছিল কিন্তু আস্তে আস্তে তারাও পায়ের নিচে জমি খুঁজে পায় । ফসিল্সের প্রথম অ্যালবাম ‘ফসিল্স’ এর বেশিরভাগ গানই আমার ভালো লেগেছিল । প্রথম অ্যালবামের একলা ঘর, হাসনুহানা, নেমেসিস, মিলেনিয়াম প্রভৃতি গান খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল । তার পরে ফসিল্সের গানের পিকচারাইজেশনও হয়েছে বাইসাইকেল চোর তার মধ্যে অন্যতম ।
পুরোপুরি রক ব্যান্ড বলতে যা বোঝায় ফসিল্স ঠিক তাই । বাংলাতেও যে হাই ভোল্টেজ রক করা যায় তা তারাই দেখিয়েছে । কিছু কিছু কথা আছে যেগুলো নরম ভাবে বললে কোন কাজ হয় না । কিছু কিছু কথা আছে যা মানুষের মগজে ঢোকাতে গেলে ধাক্কা দিতে হয় । ফসিল্স ঠিক তাই করবার চেষ্টা করেছে । আর ফসিল্সের লিরিকও বেশ আধুনিক এবং রক গানের জন্য যেরকম হওয়া উচিত সেরকম । তাদের একটি বিখ্যাত গান অ্যাসিড । তার প্রথম কয়েকটি লাইন হল :-
বুকে বুকে জ্বালা ধরা তীব্র অসুখে
নেপথ্যে প্রেম আর ঘৃণা সম্মুখে
আত্মমৈথুনের ঘৃণ্য শহরে
ফিরতে চাইনা, তবু ফিরি বারে বারে
যাতে প্রেমহীন রূপগুলো যায় চুকে বুকে
পথ্য অ্যাক্টাই, অ্যাসিড ছোঁড়ো মুখে
অন্যের মুখে নয়, আয়নার মুখে
পথ্য অ্যাক্টাই, অ্যাসিড ছোঁড়ো মুখে
পথ্য অ্যাক্টাই অ্যাসিড
ফসিল্স মূলত দাঁড়িয়ে আছে তাদের ব্যান্ডলিডার রূপম ইসলামের উপর । রূপম তাদের লিড গায়ক এবং গানের কথাগুলিও তার লেখা । রূপমের জনপ্রিয়তা এখন প্রায় আকাশছোঁয়া । অরকুটে রূপম এবং ফসিল্সের কমিউনিটির সদস্য সংখ্যাও প্রচুর । টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রূপম এখন পরিচিত মুখ ।
হিন্দি সিনেমার সুরকাররা বরাবরই অন্যের সুর কপি করে নিজের বলে চালিয়েছেন । এই ঐতিহ্য বহুকালের । শঙ্কর জয়কিষেন থেকে শুরু করে রাহুলদেব বর্মন, বাপী লাহিড়ি, অনু মালিক এবং আরো অনেক সুরকাররা এই কাজ করেছেন । কিন্তু কোন সুরকারের যদি প্রায় সব গানই চুরি করা হয় তাহলে তাকে কি সুরকার বলা যেতে পারে ? শঙ্কর জয়কিষেন রাহুলদেব বর্মন বা বাপী লাহিড়ির নিজস্ব ভালো সুরের সংখ্যা কিন্তু কম নয় ।
চমকে উঠতে হয় বর্তমানের হট মিউজিক ডাইরেক্টর বাঙালির ছেলে প্রীতমের উপর লেখা উইকিপিডিয়ার প্রবন্ধটি দেখে । সেখানে একটি বিশাল লিস্ট আছে যে প্রীতম কোন কোন গান কোথা থেকে চুরি করেছেন । সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে প্রীতমের প্রায় সব হিট গানই কোথাও না কোথাও থেকে ঝাড়া ।
যেমন ধরা যাক প্রীতমের একটি অত্যন্ত সফল এবং হিট সিনেমা গ্যাংস্টার । এই সিনেমার চারটি গানই কোথাও না কোথাও থেকে কপি করা । গ্যাংস্টারের ইয়া আলি গানটা কপি করা হয়েছে আরবিক ব্যান্ড গিটারার ইয়া ঘালি থেকে । লমহা লমহা নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি গায়ক ওয়ারিস বেগের কাল সব দেখা থেকে । তু হি মেরি সব হ্যায় নেওয়া হয়েছে অলিভার শান্তি অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের স্যাক্রাল নির্ভানা থেকে । আর গ্যাংস্টারের সবচেয়ে হিট গান ভিগি ভিগি রাতেঁ কপি করা হয়েছে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সুরারোপিত পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে থেকে ।
এছাড়াও ওহ্ লমহে সিনেমার অন্যতম হিট গান কেয়া মুঝে পেয়ার হ্যায়, ধুম সিনেমার ধুম মাচালে এবং সিকদুম সবই কপি করা গান ।
এছাড়াও লিস্ট থেকে দেখা যাচ্ছে গরম মশালার তিনটে এক খিলাড়ি এক হাসিনার তিনটে চকলেটের তিনটে এবং কেয়া লাভ স্টোরি হ্যায় এর তিনটে গান প্রীতম কপি করেছেন । অর্থাৎ প্রীতমের জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে তত তাঁর সুর চুরির প্রবণতা বাড়ছে । তিনি সুর করছেন মাত্র কয়েক বছর । এখনই তাঁর নতুন সুর তৈরির ক্ষমতা তলানিতে এসে ঠেকেছে ।
যেখানে আজকে হিন্দি সিনেমাকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেখানে সুর চুরিকে আন্তর্জাতিক দর্শকরা কিভাবে নেবেন সেটাই দেখার । অথচ হিন্দি সিনেমার গানের জনপ্রিয়তা কিন্তু কম নয় ।
এই মূহুর্তে আইএমডিবির টপ ফিফটি মিউজিক্যাল মুভির লিস্টে এক নম্বরে নাম আছে লাগে রহো মুন্নাভাই । এছাড়া এই লিস্টে নাম আছে লগান এবং দিল চাহতা হ্যায় এর । সেখানে নতুন কিছু সুরের চেষ্টা না করে কপি-পেস্ট সুরকার প্রীতমের মত সুরকাররা কতদিন টেঁকেন সেটাই দেখার ।