
নন্দীগ্রাম নিয়ে কি লিখব । লেখার আর কি বা থাকতে পারে । এই ব্লগে লিখে আর কি বা হবে, যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না ।
দেশের উন্নতি শিল্পায়ন কাদের জন্য, কিসের জন্য মানুষের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে তাদের কে ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই শিল্পায়ন কাদের স্বার্থে । প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একবার বিজেপি সরকারকে বলেছিলেন অসভ্য বর্বর । এখন আমাদের বামফ্রন্ট সরকারকে তিনি কি বলেন তা জানতে ইচ্ছা করছে ।
আমার মনে হয় অসভ্য বর্বরতার চরম পর্যায়ে পৌছে যাওয়া এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই তা যতই ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসুক না কেন । মনে রাখতে হবে হিটলার নরেন্দ্র মোদী জর্জ বুশ এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্ষ সবাই বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছিলেন । আমার চোখে তো এখন এখন এদের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না । খালি এদের বর্বরতার মাপটা আলাদা ।
আমার মনে হয় যে সিপিএম নেতারা এই গণহত্যার প্ল্যান করেছিলেন তাঁরা কি করে রাত্রে ঘুমোতে যাবেন ।
শিক্ষিত প্রাজ্ঞ ভদ্র বুদ্ধদেবের সাদা পোশাকের পিছনে কি ভয়াবহ একজন রাক্ষস লুকিয়ে আছে তা ভেবেও কষ্ট হচ্ছে ।
আজকে ফ্রন্টের বৈঠকে বুদ্ধদেব স্বীকার করছেন যে এই ঘটনার জন্য দায়ী তিনি । তিনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পুলিশ পাঠানোর । তাতে আবার বামফ্রন্টের শরিকরা বলছেন তাঁরা বুদ্ধদেবের সত্যবাদীতায় এবং সাহসে খুশি ।
আশ্চর্যের ব্যাপার এতে খুশি হবার কি আছে ! কেউ যদি একটা খুন করে গলা ফাটিয়ে বলে যে আমি খুন করেছি তাহলে কি আমরা তার সত্যবাদীতায় খুশি হয়ে বলব দেখ লোকটা কি সত্যবাদী আর সাহসী ।
আমার সরাসরি বক্তব্য হল এই যে যদি বুদ্ধদেব নন্দীগ্রামের গণহত্যার জন্য দায়ী বলে নিজেই স্বীকার করে থাকেন তাহলে কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাঠগড়ায় তোলা হবে না । কেন তাঁর বিচার হবে না । কেন তিনি এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে থাকবেন । আমরা তো কোন খুনি অপরাধীকে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলে দেখতে চাই না ।
সিবিআই তদন্ত হচ্ছে । কিন্তু তাতে কিছুই প্রমান হবে না । আরও পাঁচজন অপরাধী রাজনীতিকের মত বুদ্ধদেবও আইনের হাতকে সহজেই ফাঁকি দেবেন ।
তাই এখন থেকে সুরুচিবান ভদ্র অমায়িক সংস্কৃতিবান প্রভৃতি বিশেষণের সাথে সাথে বুদ্ধদেবের আগে আরো একটা বিশেষণ যোগ হবে ।
সেটা হল খুনি