Sunday, May 02, 2010
Sunday, April 26, 2009
সম্প্রতি যে যে সিনেমা দেখলাম
১. দ্য মোটরসাইকেল ডায়ারিজ
আর্জেন্টিনার ছবি । দুই বন্ধুর একসাথে দক্ষিন আমেরিকা মহাদেশ ভ্রমনের কাহিনী । এবং ঘুরতে ঘুরতে তাদের জীবন পরিবর্তনের কাহিনী । অসাধারন ছবি । সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই ছবি কাদের নিয়ে তৈরি এখানে লিখছি না । দেখলে জানতে পারবেন ।
২. ওং বাক টু
থাইল্যান্ডের ছবি । টনি জা পরিচালিত এবং অভিনীত দারুন অ্যাকশন মুভি । ছবির গল্পটা খুব একটা জোরালো নয় তবে মার্শাল আর্টকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে । এত ভাল অ্যাকশন অন্য কোন ছবিতে দেখেছি বলে মনে করতে পারছি না ।
৩. নাউহিয়ার ইন আফ্রিকা
জার্মান চলচ্চিত্র । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে এক ইহুদী পরিবারের জার্মানী থেকে পালিয়ে এসে কেনিয়াতে বসবাসের কাহিনী । অবশ্যই দেখা উচিত ।
৪. ডাউনফল
জার্মান চলচ্চিত্র । হিটলারের জীবনের শেষ কয়েকদিনের কাহিনী । অত্যন্ত যত্ন এবং রিসার্চের পর ছবিটি তৈরি করা হয়েছে ।
৫. আন্ডারগ্রাউন্ড
সার্বো ক্রোয়েশিয়ান ছবি । দুই বন্ধুর কাহিনী যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু হয়ে নব্বইয়ের দশকে যুগোস্লাভিয়ার গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত । পারস্পরিক বিশ্বাস অবিশ্বাস, প্রতারনার কাহিনী ।
৬. আমেলি
ফরাসি চলচ্চিত্র । এক ইন্ট্রোভার্ট মেয়ের কাহিনী যে অন্যদের জীবনকে বদলে দিতে চায় । অসাধারন মেকিং । দেখা দরকার ।
৭. দ্য হোয়াইট শেখ
ইটালিয়ান চলচ্চিত্র । পরিচালনা ফেলিনি । এটা ছিল ফেলিনি পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র । এক গোবেচারা স্বামীর গল্প যে তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে রোমে আসে তার আত্মীয়দের সাথে দেখা করানোর জন্য । কিন্তু তার আগেই তার বউ নিরুদ্দেশ হয় । স্বামী পড়ে বেজায় বিপদে । আত্মীয়দের কাছে আর মুখ দেখানোর জো থাকে না । ফেলিনির অসাধারন পরিচালনা আর কমেডি এই ছবির সম্পদ ।
৮. অবচোদ না করজে ইংরেজিতে দ্য শপ অন মেন স্ট্রীট
স্লোভাক ছবি । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইহুদী উৎখাতের মর্মস্পর্শী কাহিনী ।
৯. সিটি অফ গড
ব্রাজিলিয়ান চলচ্চিত্র । রিও ডি জেনিরোর কাছেই এক বস্তির ভয়াবহ কাহিনী । সেখানকার বাচ্চারা ছোট থেকেই খুন খারাপিতে মেতে ওটে । ড্রাগ ব্যবসা সহ বহু অপরাধ সংগঠিত হয় আর চলে গ্যাং ওয়ার । এর মধ্যেই এক ফটোগ্রাফারের বেড়ে ওঠা । সিনেমা কিভাবে বাস্তবকে আঁকড়ে ধরতে পারে এই ছবি তার প্রমান ।
১০. দ্য ভার্জিন স্প্রিং
ইংমার বার্গম্যান পরিচালিত ১৯৬০ সালের সুইডিশ ছবি । বার্গম্যানের ঈশ্বরে বিশ্বাস অবিশ্বাসের টানাপোড়েন নিয়ে অন্যতম চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে একটি ।
১১. দ্য কিউরিয়াস কেস অফ বেঞ্জামিন বাটন
আমেরিকান চলচ্চিত্র । তেরোটি একাডেমি অ্যওয়ার্ডের নমিনেশন পেয়ে মাত্র তিনটি সাধারন বিভাগে জিততে পেরেছে । আমার দেখা অন্যতম সেরা ছবি । ব্র্যাড পিটের অভিনয় অসাধারন । জীবনের সেরা অভিনয় করেছেন তিনি । এই ছবিটি এমন একজন মানুষের জীবন কাহিনী নিয়ে যার জীবন উলটোদিকে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ বৃদ্ধত্ব থেকে শৈশবের দিকে । যাঁরা ফরেস্ট গাম্পের মত ছবি ভালবাসেন তাঁদের অবশ্যই দেখতে হবে এই ছবি ।
১২. গুডবাই লেনিন!
জার্মান চলচ্চিত্র । পূর্ব জার্মানির পতন এবং তারই সাথে জড়িয়ে যায় এক পরিবারের জীবনকাহিনী । নব্বই দশকের শুরুতে কমিউনিস্ট আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ এক মার কোমায় থাকার সময়ে পতন ঘটে কমিউনিজমের । তার জ্ঞান ফেরার পরে তার ছেলেমেয়েরা তাকে জানতে দিতে চায়না দেশের প্রকৃত অবস্থা । কারন তাতে তাদের মার শক পেয়ে মৃত্যু হতে পারে । আশির দশকের শেষে সারা পৃথিবীব্যাপী কমিউনিজমের পতনের অন্যতম দলিল এই ছবি ।
লিখিল
I
সময়
11:19 PM
1 বক্তব্য
বিভাগ সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Friday, October 24, 2008
আই অ্যাম লিজেন্ড

সম্প্রতি আই অ্যাম লিজেন্ড ছবিটি দেখার সুযোগ হল । ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি দেখে বেশ ভালো লেগেছে বলতে হবে । মুখ্য ভূমিকায় উইল স্মিথের অভিনয় যথাযথ ।
সিনেমাটির শুরুতে দেখানো হয় টিভিতে ইন্টারভিউতে এক বিজ্ঞানী বলছেন যে তিনি ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন এবং এতে সাফল্যের পরিমান একশো শতাংশ । তারপরেই তিন বছর বাদের নিউইয়র্ক শহর দেখানো হয় । পুরোপুরি ফাঁকা এক নিস্তব্ধ শহর । রাস্তা জুড়ে গাড়ির সারি কোথাও কোনো জনপ্রানীর চিহ্ণ নেই । শহরের বুকে ছুটে বেড়াচ্ছে হরিণের দল । আর তাদের তাড়া করে ফিরছে সিংহ । পুরো শহরে একজন মাত্র সুস্থ জীবিত মানুষ রবার্ট নেভিল (উইল স্মিথ) । তার একমাত্র সঙ্গী তার পোষা অ্যালসেসিয়ান কুকুরটি ।
ক্যান্সারের প্রতিষেধক বলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিঙের সাহায্যে যে ভাইরাসটি তৈরি করা হয়েছিল তার সংক্রমনের ফলে পৃথিবীর নব্বই শতাংশ মানুষ আগেই মৃত । আর যে মানুষেরা সংক্রমিত হয়ে মারা যায়নি তারা পরিণত হয়েছে ভয়ানক জম্বি রাক্ষসে । এর বাইরে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই বেঁচে আছে ।
এর পর কিভাবে সিনেমার নায়ক বিভিন্ন বিপদের সম্মুখীন হবে এবং অবশেষে এই ভয়ানক ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করবে তা নিয়েই এগিয়েছে গল্প ।
অ্যাপোক্যালিপ্টিক থিম নিয়ে এর মধ্যে অনেকগুলি ছবিই দেখা হয়েছে । যেমন টুয়েন্টি এইট ডেজ ল্যাটার, টুয়েন্টি এইট উইকস ল্যাটার, ডুমসডে, প্রভৃতি এগুলির মধ্যে আই অ্যাম লিজেন্ড ছবিটিকেই সব থেকে ভালো বলে মনে হল । স্পেশাল এফেক্টের সাহায্যে যেভাবে ফাঁকা নিউইয়র্ক শহর দেখানো হয়েছে তা প্রশংসা যোগ্য । তবে টুয়েন্টি এইট উইকস ল্যাটার ছবিতে এরকমই ফাঁকা লণ্ডন শহরে দেখানো হয়েছিল যেটাও বেশ ভালো লেগেছিল ।
সিনেমাটির রেটিং এ দশে সাত দেওয়া যেতেই পারে ।
লিখিল
I
সময়
10:53 PM
3
বক্তব্য
বিভাগ সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Saturday, May 31, 2008
ক্লোভারফিল্ড
লিখিল
I
সময়
10:49 PM
0
বক্তব্য
বিভাগ সমসাময়িক, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Wednesday, March 26, 2008
বালাই ষাট
গায়ক ও কবি কবীর সুমনের ষাট বছরের জন্মদিন উপলক্ষে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হয়ে গেল বালাই ষাট বলে একটি সুন্দর অনুষ্ঠান । সুমনের গান গাইলেন বিভিন্ন জেনারেশনের শিল্পীরা । আমি অবশ্য টিভিতেই দেখলাম অনুষ্ঠানটি ।
১৯৯২ সালে সুমনের তোমাকে চাই অ্যালবামটি বেরোনোর পর সুমনকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি । তিনি তাঁর পরের বহু জনপ্রিয় গায়ক গায়িকাকে প্রভাবিত করেছেন । নচিকেতা, অঞ্জন দত্ত, রূপঙ্কর, অনেকই বলেছেন তাঁরা যদি সুমনের গান না শুনতেন তাহলে তার হয়তো কোন দিন গানই গাইতেন না ।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় হৈমন্তী শুক্লার গানের ভিতর দিয়ে । এরপর রূপঙ্কর, দোহার, সাবিনা ইয়াসমিন, ফসিল্স, চন্দ্রবিন্দু, শহর, অঞ্জন দত্ত এবং তাঁর ছেলে নীল, শ্রীকান্ত আচার্য, ব্রহ্ম ব্যান্ড, লোপামুদ্রা সবাই গাইলেন ।
দোহারের দুটি গান অনবদ্য লাগল । সুমনের গানের তাঁরা যেন এক অন্য মাত্রা দিলেন । অঞ্জন দত্তের ছেলে নীল সুমনের একটি ইংরেজি গান গাইলেন । ফসিল্সের রূপম তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ইন্টেলেকচুয়াল ভঙ্গিতে সুমনের রংপেনসিল গানটির অন্য রূপ তুলে ধরলেন । শ্রীকান্ত, লোপামুদ্রা নিজেদের পেশাদারী দক্ষতা বজায় রাখলেন । ব্রহ্ম ব্যান্ডের গান আমি আগে শুনিনি । এই ব্যান্ডের একটি মেয়ে সুমনের পেটকাটি চাঁদিয়াল গানটি সম্পূর্ণ অন্য কায়দায় গাইলেন ।
জয় গোস্বামী কবিতাপাঠ করলেন । অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি প্রায় পুরো অনুষ্ঠানটিই দেখলেন । তবে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক জগতের আমরা ওরা ভাগাভাগির পর 'আমাদের দলের' কাউকে তেমন চোখে পড়ল না ।
তবে চোখে লাগল এই অনুষ্ঠানে সুমনের গানের বড় ভক্ত নচিকেতার না থাকাটা । কেন জানিনা মনে হল নচিকেতা থাকলে অনুষ্ঠানটি আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ হত ।
সুমন নিজে কোন গান পুরো গাইলেন না তবে অনেক গানেই গলা মেলালেন । অনবদ্য একটি অনুষ্ঠান উপহার দেবার জন্য কলকাতা টিভিকে ধন্যবাদ ।
লিখিল
I
সময়
11:08 PM
2
বক্তব্য
বিভাগ গান বাজনা, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Sunday, March 16, 2008
হারবার্ট
হারবার্ট সিনেমাটির ভিসিডি কেনার মাত্র কয়েকদিন আগেই আমি জানতে পেরেছিলাম যে নবারুণ ভট্টাচার্যের রচিত এই উপন্যাসের উপর সুমন মুখোপাধ্যায় একটি ছবি তৈরি করেছেন । এছাড়া ছবিটি সম্পর্কে আমার কাছে আর কোনো তথ্য ছিল না ।
ছবিটি দেখার পরে অনেকটাই স্তম্ভিত হয়ে গেলাম । বাংলা ভাষায় এই রকমের ছবি আগে কখনও দেখেছি বলে মনে করতে পারলাম না । থিয়েটার জগতের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব সুমন মুখোপাধ্যায় তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবিতেই যে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেন তা মনে রাখার মতো । তবে ছবিটি বাংলা ভাষায় নির্মিত আরো অনেক সমান্তরাল ছবির মতো ছিল ফ্লপ ।
এর কারণ কি সুমন মুখোপাধ্যায়ের নাম চিত্রপরিচালক হিসাবে মানুষের কাছে অজানা ছিল বলে নাকি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে শুভাশিষ মুখোপাধ্যায় যাঁর স্টার ভ্যালু কম । এখন তো বাংলা সমান্তরাল সিনেমাতেও বড় বড় স্টারদের নামনো হয় লোক টানার জন্য যেখানে আমাদের এখানের অনেক নামহীন অভিনেতাই তার থেকে ভাল অভিনয় করতে সক্ষম ।
কিছুদিন আগে ফেলিনির লা স্ট্রাডা ছবি সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেছিলাম কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা কেনই বা জন্মায় আর কেনই বা মরে যায় সে নিয়ে কারো মাথাব্যথা থাকে না । হারবার্ট সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র হারবার্ট সরকার এই রকম একটি চরিত্র । তার জীবনটা হতে পারত খুবই উঁচুদরের তার বাবা ছিল একজন সেলিব্রিটি চিত্রপরিচালক যার স্বভাবতই নায়িকাদের সঙ্গে ফস্টি নস্টি করার প্রবণতা ছিল । কিন্তু শুটিং-এ গিয়ে সে বেঘোরে প্রাণ দিল । এরকিছুদিন পরেই তার মা কাপড় মেলতে গিয়ে ছাদে কারেন্ট খেয়ে মারা গেল । এর পর হারবার্ট জ্যাঠা জেঠিমার সংসারে লাঠি ঝ্যাঁটা খেয়ে বড় হতে লাগল । শেষ পর্যন্ত সে হয়ে উঠল একজন প্রেত বিশেষজ্ঞ । এরপর যুক্তিবাদী সমিতির হুমকি পেয়ে সে আত্মহত্যা করে ।
সিনেমাটিতে প্রচুর রূপক দৃশ্য ও ভাবনা আছে । উত্তর কলকাতার সরু গলি আর উঁচুনিচু বাড়ির ল্যান্ডস্কেপ পুরনো বনেদী বাড়ির একতলার অন্ধকার ঘর সবই এক অদ্ভুত পরিবেশ রচনা করে । জানলার ভিতর দিয়ে দেখা কাস্তে হাতুড়ি তারা, মৃত বাবা মার মুভি ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে ছেলের কীর্তিকলাপ দেখা সবই কিছু ইঙ্গিত হিসাবে আমাদের চোখে ধরা পড়ে ।
ছবিটির গল্প শুধু অনুসরণ করলে ছবিটিকে বুঝে নিতে অসুবিধা হবে । অনেক কথাই এখানে বলা হয়েছে পরোক্ষ ভাবে । সত্তরের দশকের নকশাল আন্দোলন ছবিটির অন্যতম প্রেক্ষাপট । সেই আন্দোলনের চেতনা যে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি যেকোন মূহুর্তেই তা আবার ফেটে পড়তে পারে তা বোঝানো হয়েছে । ছবিটির পিছনে গভীর রাজনৈতিক বক্তব্য আছে। ছবিটি কখনই একমাত্রিক বা লিনিয়ার নয় । বরং বহুমাত্রিক সময়ের তিনটি আলাদা আলাদা স্তর কে পাশাপাশি ধরা হয়েছে । এবং এই কাজটি পরিচালক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করেছেন । আলো-ছায়া উঁচুনিচু সবই এখানে প্রতীক । হারবার্টের কৈশোর এবং যৌবন, বর্তমান হারবার্ট এবং তার আত্মহত্যা করার পর আপাত রহস্য এবং পুলিশের তদন্ত সবই পাশাপাশি দেখানো হয়েছে ।
সুমন মুখোপাধ্যায় যে বহু নামকরা চিত্র পরিচালকের কাজ থেকে প্রভাবিত হয়েছেন তা সহজেই বোঝা যায় । ফেলিনির প্রভাব তাঁর কাজে ভালোই পড়েছে । ছাদের উপরে কিশোর হারবার্টের হস্তমৈথুন করার দৃশ্যটি দেখে ফেলিনির অ্যমারকর্ড ছবিটির কথা মনে পড়ে যায় । কিন্তু একথা স্বীকার করতেই হবে যে প্রভাবিত হয়েও তিনি চিত্রপরিচালক হিসাবে নিজের একটি জায়গা গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন । ছবিটিতে বেশ কিছু গালাগালি রয়েছে যা কিছু মানুষের অস্বস্তির কারণ হতে পারে । কিন্তু আমার মনে হয়ে সিনেমাটিতে এগুলি ছাড়া চরিত্রগুলিকে পুরোপুরি বোঝানো যেত না ।
দৃশ্যনির্মান সম্পাদনা সংলাপ ক্যামেরা এবং পরিচালনা সবই অসাধারণ । ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মনে রাখার মত । হারবার্ট এর চরিত্রে শুভাশিষ মুখোপাধ্যায় এছাড়া লিলি চক্রবর্তী, সব্যসাচী চক্রবর্তী, ব্রাত্য বসু, সবাই ভালো অভিনয় করেছেন । তবে কিছু কিছু জায়গায় অভিনয় একটু লাউড । মনে হয় পরিচালক ইচ্ছাকৃত ভাবেই এটা করেছেন । অথবা থিয়েটার অভিনয়ের লাউডনেস এই ছবিতেও একটু এসে ঢুকেছে ।
ছবিটি দেখার পর নবারুণ ভট্টাচার্যের মূল উপন্যাসটি পড়ার ইচ্ছা খুব বেড়ে গেল । মূল উপন্যাসটি সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত । বিজন ভট্টাচার্য এবং মহাশ্বেতা দেবীর সুযোগ্য সন্তান নবারুন নিজেও কতটা প্রতিভাশালী লেখক তার বোঝার জন্য বইটি পড়তেই হবে ।
যাঁরা একটু অন্য ধরণের সিনেমা দেখতে ভালবাসেন তাঁদের দেখতেই হবে এই ছবি । ভারতে মোজার বায়ার কম্পানি এই ছবির ভিসিডি বের করেছে । দুটি সিডির সিনেমার দাম মাত্র তিরিশ টাকা ।
লিখিল
I
সময়
12:42 PM
2
বক্তব্য
বিভাগ সমসাময়িক, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Saturday, February 09, 2008
ফেডেরিকো ফেলিনির লা স্ট্রাডা
সমাজের কিছু প্রান্তিক মানুষ থাকে যারা কেনই বা জন্মায় আর কেনই বা মরে যায় তা নিয়ে কারোর কোনো মাথাব্যথা থাকে না । তাদের সুখ দুঃখ চিন্তা ভাবনা চাপা পড়ে যায় সময়ের সাথে সাথে । এরকম দুজন প্রান্তিক মানুষের প্রেমকাহিনী নিয়ে ফেলিনির লা স্ট্রাডা ।
ফেলিনির আগের যে সমস্ত ছবি দেখেছিলাম যেমন আই ভিতেলোনি (I vitelloni ), এইট অ্যান্ড হাফ, অ্যমারকর্ড সেগুলি বেশিরভাগই ছিল আত্মজীবনী মূলক । সেদিক থেকে লা স্ট্রাডা বেশ আলাদা ।
ইটালির উপকূলের এক গরীব পরিবারের মেয়ে জেলসোমিনা । তাকে তার মা অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে বেচে দেয় সার্কাসে খেলা দেখানো জ্যামপানোর কাছে । জ্যামপানো খুবই কড়া ধাঁচের বদরাগী লোক । সে একটা মোটরবাইক কাম ভ্যান নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খেলা দেখিয়ে বেড়ায় । জ্যামপানো জেলসোমিনাকে অল্প ট্রেনিং দিয়ে তার খেলা দেখানোর সহকারী হিসাবে লাগায় । জেলসোমিনার আচার আচরন ছিল ঠিক একটা ক্লাউনের মত । ছোট ছোট করে ছাঁটা চুলে তাকে মেয়ে বলেই মনে হত না । আর সিনেমার নায়িকাসুলভ কোন গুনই জেলসোমিনার ছিল না । জ্যামপানোর হাজার দোষ সত্ত্বেও জেলসোমিনার তাকে ভাল লাগতে থাকে ।
জ্যামপানোর আচার আচরন এবং নারীসঙ্গে বিরক্ত হয়ে সে একবার পালিয়ে যায় । কিন্তু জ্যামপানো আবার তাকে ধরে আনে । এর মধ্যেই তাদের সাথে দেখা হয় সার্কাসে ব্যালান্সের খেলা দেখানো 'দ্য ফুল' এর সাথে । দ্য ফুলের সাথে জ্যামপানোর আগে থেকেই শত্রুতা ছিল । একবার ছুরি নিয়ে দ্য ফুলকে মারতে গিয়ে জ্যামপানো পুলিশের হাতে ধরা পড়ে । সেই সময় জেলসোমিনা খুব সহজেই চলে যেতে পারত । কিন্তু সে যায় না । জ্যামপানো ছাড়া পেতেই সে আবার ফিরে যায় ।
এরপর একসময় রাস্তায় আবার জ্যামপানো আর দ্য ফুল মুখোমুখি হয় । দুজনের মারামারিতে দ্য ফুল আহত হয় আর মারা যায় । এই ঘটনায় জেলসোমিনা খুবই আঘাত পায় আর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে । তাকে এই অবস্থায় দেখে জ্যামপানো নিজের ভুল বুঝতে পারে আর জেলসোমিনাকে একজায়গায় রেখে চলে যায় ।
বেশ কিছু বছর পরে জ্যামপানো জানতে পারে যে এর কিছুদিন পরেই জেলসোমিনা মারা গিয়েছিল । সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা যায় জ্যামপানোকে রাতের অন্ধকার সমুদ্রের ধারে কাঁদতে ।
অসাধারন এই সিনেমার মূল আকর্ষন হচ্ছে জ্যামপানোর ভূমিকায় অ্যান্টনি কুইন আর জেলসোমিনার ভূমিকায় জিউলিয়েতা ম্যাসিনার অভিনয় । সম্ভবত অ্যান্টনি কুইন তাঁর জীবনের সেরা অভিনয় করেছেন এই ছবিতে । আর জিউলিয়েতা ম্যাসিনার অভিনয় সম্পর্কে বেশি কিছু না বলাই ভালো । মুখের এক্সপ্রেসন বদলাতে তাঁর জুড়ি নেই । চরিত্রের একেবার ভিতরে ঢুকে কিভাবে তাকে জীবন্ত করে তুলতে হয় তার তুলনা বোধহয় আর পাওয়া যাবে না । চরিত্রটির সরলতা, দুঃখ, আনন্দ, কষ্ট সবই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অনবদ্য ভাবে ।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে জিউলিয়েতা ম্যাসিনা হলেন ফেলিনির স্ত্রী । তাঁরা এর আগে ও পরে বহু ছবিতে একসাথে কাজ করেছেন । ছবিটির নেপথ্যসঙ্গীতও মনে রাখার মত ।
১৯৫৬ সালে সেরা বিদেশী ছবির জন্য এটি অস্কার পুরষ্কার পেয়েছিল ।
বিভাগ সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Sunday, July 22, 2007
ক্যানিবাল হলোকস্ট

দিন কয়েক আগে ক্যানিবাল হলোকস্ট (cannibal Holocaust) সিনেমাটি দেখবার সুযোগ হল । সিনেমার ইতিহাসে ভয়াবহতম এবং প্রচুর বিতর্কিত একটি সিনেমা হল ক্যানিবাল হলোকস্ট ।
আমার এক বন্ধুকে অনুরোধ করেছিলাম সিনেমাটি ডাউনলোড করবার জন্য । দিন কয়েক পরে সে ফোন করে জানাল যে সে সিনেমাটি ডাউনলোড করেছে আর সিনেমাটি দেখে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে । সে আরো বলল যে এরকম জঘন্যতম সিনেমা সে এর আগে কখনও দেখেনি ।
যাই হোক রটন টোম্যাটোস এ দেখলাম সিনেমাটির রেটিং ৬০ শতাংশ । তার মানে এটি একটি একেবারে রদ্দি সিনেমা নয় ।
সিনেমার শুরুটা দেখে এর ভিতরে কি আছে সেটা বোঝা সম্ভব নয় । সিনেমা শুরু হয় খুব সুন্দর একটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে আমাজন অববাহিকার প্লেন থেকে তোলা দৃশ্যের মাধ্যমে । শুরুটা দেখে বেশ ভালই লাগল ।
গল্পটি হচ্ছে পাঁচজনের একটি দল আমাজনের জঙ্গলে যায় নরখাদক উপজাতির উপর একটি ডকুমেন্টারি তুলবে বলে । কিন্তু তারা আর ফিরে আসে না । তখন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অ্যানথ্রোপলজিস্ট তাদের খুঁজতে যায় এবং দেখে যে সেই দলের সবাই নরখাদক উপজাতির হাতে মারা গেছে । এবং নানা ঘটনার পর গভীর জঙ্গলে সেই নরখাদক উপজাতিদের কাছ থেকে আগের মৃত দলের তোলা ফিল্মের রোলগুলি উদ্ধার করে নিয়ে সে ফিরে আসে ।
এর পরে দেখানো হয় সেই ফিল্ম রোলগুলিতে কি আছে । আগের দলটি জঙ্গলের ভিতর দিয়ে এগোবার সময় একটি কচ্ছপ মেরে খায় । সিনেমাটিতে কচ্ছপটিকে কিভাবে মারা হল তা বিস্তৃতভাবে দেখান হয়েছে । শুটিং এর জন্য সত্যিই একটি বিরাট কচ্ছপকে হত্যা করা হয়েছিল । এরপরে সেই দলের একজন সাপের কামড়ে মারা যায় ।
তারপরেও দলটি এগোতে থাকে । একটি গ্রামে ঢুকে তারা আগুন লাগিয়ে দেয় ।তারপর দলের সদস্যরা একটি উপজাতি মেয়েকে ধর্ষন করে । তাদের দলে একটি মেয়েও ছিল । সে তার সঙ্গীদের বাধা দেবার চেষ্টা করে কিন্তু সফল হয় না । পরে দেখা যায় যে সেই ধর্ষিত মেয়েটিকে তার উপজাতির মানুষেরা হত্যা করে একটি কাঠের উপর গেঁথে টাঙিয়ে রেখেছে ।
এরপরে যখন তারা নরখাদক উপজাতির কাছাকাছি হয় তখন তাদের আক্রমনে তারা সবাই একে একে নিহত হয় ।
সিনেমাটি এই সমস্ত বিষয়ই খুব খোলাখুলিভাবে দেখানো হয়েছে । যা দেখলে নরম মনের কোন মানুষের গা গুলিয়ে উঠতে বাধ্য ।
এছাড়া বহু দৃশ্য আছে যাতে ধর্ষন আর খুন দেখান হয়েছে । মানুষ খুনের দৃশ্যগুলি এত ভয়াবহ যে দেখে মনে হয় যেন সত্যিই কোন মানুষকে খুন করা হচ্ছে । এছাড়া খুনের পর তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে উপজাতিদের উল্লাস ও খাওয়ার দৃশ্য ভয়াবহতম ।
মানুষ মরার দৃশ্যগুলি এতই স্বাভাবিক হয়েছিল যে ইটালিতে সিনেমাটি রিলিজের পরে সিনেমার পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল । কারন এটা সন্দেহ করা হয়েছিল সে শুটিং-এর প্রয়োজনে সিনেমার কলাকুশলীদের সত্যিই মেরে ফেলা হয়েছে । পরে অবশ্য পরিচালক কলাকুশলীদের একটি অনুষ্ঠানে হাজির করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় ।
তবে শুটিং-এর জন্য সত্যিকারের কোন মানুষ মারা না হলেও সাতটি প্রাণীকে হত্যা করা হয়েছিল । যার মধ্যে একটি কচ্ছপ এবং একটি একটি বাঁদরও ছিল ।
সিনেমাটিতে বহু নগ্ন এবং যৌন দৃশ্য আছে । তবে যাই হোক এই সিনেমাটি কখনই পর্নোগ্রাফি গোত্রের মধ্যে পড়ে না । বিষয়বস্তুর কারনে পৃথিবীর বহুদেশই এই সিনেমাটি নিষিদ্ধ বা বহুভাবে সেন্সর করা ।
এতকিছুর পরেও দেখার পর আমার মনে হয়েছে এটি একটি ভাল সিনেমা । সিনেমাটি শুটিং করা হয়েছে কিছুটা ডকুমেন্টারির কায়দায় । যেটা আমার কাছে কিছুটা নতুনত্ব লেগেছে । আর জঙ্গলের বাইরের মানুষ কিভাবে জঙ্গলের আদিবাসীদের শোষন করে সেটাও তুলে ধরা হয়েছে । তথ্যচিত্রকারী দলটি যদি সেই উপজাতি মেয়েটিকে ধর্ষণ না করত তাহলে হয়ত তাদের মরতে হত না ।
আমার এই সিনেমার জন্য রেটিং দশ এ ছয় ।
(উপরের ছবিটি নেওয়া হয়েছে উইকিপিডিয়া থেকে ।)
বিভাগ সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Friday, June 22, 2007
শিবাজি : দ্য বস
ভুলে যান শাহরুখ খান বা অমিতাভ বচ্চনের কথা । ভারতের হায়েস্ট পেড নায়ক এখন ওয়ান অ্যান্ড ওনলি রজনীকান্ত ।
শোনা যাচ্ছে রজনীকান্ত শিবাজি দ্য বস সিনেমাটির জন্য নিয়েছেন মোট ষোলো কোটি টাকা । আর শিবাজি দ্য বসের মোট বাজেট বেশি না ... মাত্র ছিয়ানব্বই কোটি টাকা । এর আগে সবথেকে বেশি বাজেটের সিনেমা ছিল শাহরুখ খানের দেবদাস । পঞ্চাশ বাহান্ন কোটি টাকা লেগেছিল দেবদাস বানাতে । কিন্তু শিবাজি দ্য বস তাকে অনেকটাই ছাপিয়ে গেল ।
তবুও মনে রাখতে হবে দেবদাস সর্বভারতীয় সিনেমা ছিল । কিন্তু শিবাজি তামিল ছবি । বর্তমানে কেবল তামিল আর ডাবিং করে তেলেগুতে এই সিনেমা রিলিজ হয়েছে । কিন্তু তাতেই বলা হচ্ছে যে সহজেই এই ছবির সব টাকা উঠে আসবে ।
এই ছবি রিলিজের আগে এত বেশি পাবলিসিটি হয়েছিল যে সর্বভারতীয় মিডিয়াতে এই ছবির কথা উঠে এসেছে । এমন কি কলকাতার বাংলা খবরের কাগজগুলিতেও এই ছবির খবর বেরিয়েছে ।
রজনীকান্তের স্টারভ্যালু আর ফ্যানবেস দুর্দান্ত । একজন মারাঠি হয়েও তিনি তামিল সিনেমার জগতে ভগবানের মর্যাদা পেয়েছেন । কোনো ডাইরেক্টরই তাঁকে সিনেমাতে মেরে ফেলতে পারেন না । কারন তা হলে ফ্যানেরা রেগে গিয়ে সিনেমাহলে ভাঙচুর চালাবে । ইদানিং তিনি সিনেমা করা অপেক্ষাকৃত কমিয়ে দিয়েছিলেন । প্রায় দুই বছর পরে মুক্তি পেল তাঁর কোন নতুন সিনেমা । রজনীকান্তের বয়স এখন আটান্ন । মাস ছয়েক আগে তিনি দাদু্ও হয়েছেন । তবুও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সব থেকে দামী সিনেমার নায়ক হতে এবং সেই সিনেমাকে সুপারহিট করতে তাঁকে কোন অসুবিধায় পড়তে হয়নি ।
সিনেমার নায়ক শিবাজি একজন সফটওয়্যার প্রফেশনাল যে আমেরিকা থেকে প্রায় দুশো কোটি টাকা নিয়ে দেশে আসে একটি মেডিকেল কলেজ আর হাসপাতাল করবে বলে । কিন্তু তাঁর সেই দুশো কোটি টাকা খোয়া যায় ভিলেনের কারসাজিতে । এরপর কিভাবে শিবাজি সেই টাকা উদ্ধার করে এবং সেই সাথে কালো টাকাকে কিভাবে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগায় সেই নিয়েই এই গল্প ।
এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত রিভিউ পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে কমেডি অ্যাকশন ইমোশন সবকিছুতেই রজনীকান্ত একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন । সিনেমার একটি দৃশ্যে দেখা যায় যে তিনি মাটির রাস্তা দিয়ে চলেছেন আর তাঁর যাবার সাথে সাথে সেই মাটির রাস্তা কংক্রিটের রাস্তায় পরিণত হচ্ছে ।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন হামসে হ্যায় মুকাবলা এবং নায়ক খ্যাত পরিচালক এস. শংকর । আর সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান ।
আমার এখনও এই সিনেমাটি দেখবার সুযোগ হয়নি । কিন্তু আশা করি ভবিষ্যতে হিন্দিতে ডাবিং বা তামিল সাবটাইটেল সহ সিনেমাটি দেখার সুযোগ হবে ।
লিখিল
I
সময়
11:49 PM
0
বক্তব্য
বিভাগ সিনেমা ও টিভি
Tuesday, March 13, 2007
অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট -- দেখার মত একটি ছবি
অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট ( All Quiet on the Western Front) সিনেমাটি দেখবার আগে জানতাম না যে এটা এত পুরনো একটা ছবি । আমার জানা ছিল যে সিনেমাটি যুদ্ধের উপর কিন্তু সেটা যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বানানো সেটা জানা ছিল না ।
আমার বরাবরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশাল পৃথিবীব্যাপী লড়াই নারকীয়তা এবং বিশালতার কাছে হয়ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ একটু আড়ালে চলে গেছে । কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধেরও নারকীয়তা কিছুটা কম ছিল না । শিল্পবিপ্লবের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল এই যুদ্ধ ।
এই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একজন জার্মান সৈনিক ছিলেন এরিখ মারিয়া রেমার্ক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ১৯২৯ সালে রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট ।
১৯৩০ সালে লিউইস মাইলস্টোনের পরিচালনায় তৈরি হয় একই নামে এই ছবি যা জিতে নেয় সেরা সিনেমার অস্কার পুরস্কার ।
সিনেমাটির শুরুতে দেখা যায় যে এক অধ্যাপক জ্বালাময়ী বক্তৃতার সাহায্যে তার ছাত্রদের উৎসাহ দিচ্ছে সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য এবং দেশের জন্য কিছু করার জন্য । ফলে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং সমস্ত খাতা বই সব ছিঁড়ে সেনাবাহিনীতে নাম লেখায় ।
কিন্তু যুদ্ধে গিয়ে তারা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, ট্রেঞ্চের ভিতরে দিনের পর দিন লুকিয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে একে একে অনেকেরই মৃত্যু হয় তখন তারা বুঝতে পারে যে যুদ্ধের ভিতরে কোন দেশপ্রেমের রোমান্টিকতা নেই বরং রয়েছে এক প্রচন্ড নারকীয়তা । দিনের পর দিন খাদ্যাভাবে জলাভাবে মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে করতে তারা বুঝতে পারে যে তারা আসলে রাষ্ট্রনায়কদের হাতের পুতুল তাদের খালি ঠেলে দেওয়া হয়েছে মরবার জন্য । যুদ্ধে শহীদ হবার মধ্যে কোন রকমের গৌরব নেই ।
আর সিনেমার শেষ হওয়া অবধি তারা প্রত্যেকেই একে একে মারা যায় ।
সিনেমাটি আজ থেকে প্রায় সাতাত্তর বছর আগে তৈরি হলেও যুদ্ধের দৃশ্যগুলি খুব সুন্দর ভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে । আমি ডিসকভারি আর ন্যাশন্যাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে আসল যুদ্ধের যে সব ফুটেজ দেখেছি তার সাথে অনেকটাই মেলে । এমন কি স্টিভেন স্পিলবার্গ সেভিং প্রাইভেট রায়ান সিনেমা বানানোর উৎসাহ পেয়েছিলেন এই সিনেমাটি দেখে ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর বিখ্যাত সিনেমা হয়েছে । কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে ভাল সিনেমা বোধহয় খুব একটা বেশি নেই । আর যারা যুদ্ধের সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন এবং ক্লাসিক সিনেমা দেখেন তাঁদের অবশ্যই দেখতে হবে এই ছবি ।
লিখিল
I
সময়
11:30 PM
4
বক্তব্য
বিভাগ সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Wednesday, January 10, 2007
জেমস বন্ডের ছবি ৩
সাধারন ভাবে জেমস বন্ডের সমস্ত সিনেমাই আরম্ভ হয় জেমস বন্ডের হেঁটে আসা এবং ক্যামেরার দিকে একটি গুলি ছোঁড়ার দৃশ্যের ভিতর দিয়ে । তারপর জেমস বন্ডের একটি অ্যাকশন দৃশ্য দেখানো হয় । অ্যাকশন দৃশ্যটির পরে সিনেমার টাইটেল আসে । প্রথম সিনেমা ড. নো তে অবশ্য কোন স্টার্টিং অ্যাকশন দৃশ্য ছিল না । টাইটেলের আগের এই অ্যাকশন দৃশ্যটা প্রায় যেকোন বন্ড সিনেমারই প্রধান আকর্ষনের বিষয় । এই দৃশ্যে বন্ড কোন এক কঠিন সমস্যার সমাধান করে প্রায় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ।
মুনরেকার সিনেমার প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সে দেখা গিয়েছিল বন্ডকে প্যারাসুট ছাড়াই প্লেন থেকে ফেলে দেওয়া হয় তারপর বন্ড আকাশেই ভাসতে ভাসতে এক ভিলেনকে আক্রমন করে তার কাছ থেকে প্যারাসুট কেড়ে নিয়ে নিচে নেমে আসে । গোল্ডেন আই এবং লিভিং ডেলাইট সিনেমাতেও প্রায় একই রকম ব্যাপার ছিল । গোল্ডেন আইতে বন্ড খাদে ঝাঁপ দেয় এবং সেই খাদে পতনরত একটি পাইলট বিহীন প্লেনের ভিতর ঢুকে প্লেন চালিয়ে পালায়। লিভিং ডেলাইট সিনেমায় বন্ড একটি খাদে পতনরত জিপের ভিতর ভিলেনের সঙ্গে মারামারি করতে থাকে তারপর একসময় বন্ড প্যারাসুট নিয়ে জিপের বাইরে বেরিয়ে আসে ।
ডাই অ্যানাদার ডে সিনেমার প্রিটাইটেল সিকোয়েন্স একটু অন্যরকম । এখানে বন্ড শেষ পর্যন্ত পালাতে পারে না এবং উত্তর কোরিয়ার মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে যায় এবং বন্দী অবস্থায় এক বছরেরও বেশী সময় কাটায় । আবার লিভ অ্যান্ড লেট ডাই সিনেমার প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সে বন্ডকে দেখানোই হয়নি । ফর ইওর আইজ ওনলি সিনেমাতে দেখানো হয়েছিল ভিলেন বন্ডকে একটি রিমোট কন্ট্রোল চালিত হেলিকপ্টারে বন্দী করে মারবার ছক করে । কিন্তু বন্ড শেষ অবধি বেঁচে যায় এবং ভিলেনকে হত্যা করে । ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস সিনেমার শুরুতেই দেখান হয়েছিল যে বন্ড কিছু আততায়ীর হাতে খুন হল । কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই ছিল সাজানো । বন্ডকে মৃত সাজিয়ে বিপক্ষের চোখে ধুলো দেবার জন্যেই পুরো প্ল্যানটা ছকা হয়েছিল ।
প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সগুলির মধ্যে আমার সবথেকে প্রিয় দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ সিনেমার প্রায় চোদ্দ মিনিটের সিকোয়েন্স । এখানে লন্ডনের টেমস নদীতে বোটে চেপে লোমহর্ষক ভাবে বন্ড এক মেয়ে ভিলেনের পিছু নেয় । একসময় জলের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়েও বন্ডকে দেখা যায় টাই ঠিক করতে । ইংরাজি সিনেমায় আমার দেখা সেরা চেজিং দৃশ্যগুলির মধ্যে এটি অন্যতম ।
প্রিটাইটেল সিকোয়েন্সের পরে আসে বন্ড সিনেমার টাইটেল । বন্ডের প্রত্যেক টাইটেলেই নগ্ন নারীশরীর দিয়ে নানা রকমের অ্যানিমেশন কোলাজ দেখান হয় । নগ্ন নারীশরীরের এরকম শিল্পসম্মত ব্যবহার খুব কমই দেখা যায় । সেই সাথে থাকে বিখ্যাত শিল্পীদের গাওয়া গান । বন্ড সিনেমার টাইটেল মিউজিকের জন্য অনেকেই কন্ঠ দিয়েছেন । যেমন পল ম্যাককার্টনি, শেরিল ক্রো, ম্যাডোনা প্রভৃতি ।
আমার সবথেকে প্রিয় বন্ড টাইটেল হল গোল্ডেন আই সিনেমার টাইটেল। এই সিনেমার টাইটেলে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন কে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল ।
লিখিল
I
সময়
10:59 PM
0
বক্তব্য
বিভাগ মতামত, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Tuesday, January 09, 2007
জেমস বন্ডের ছবি ২
জেমস বন্ডের ভূমিকায় প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন শন কোনারি । প্রথম সিনেমা ছিল ড. নো (১৯৬২) । শন কোনারি ড. নো ছাড়াও আরও ছয়টি সিনেমাতে জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন । সেগুলো হল ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ (১৯৬৩), গোল্ডফিঙ্গার (১৯৬৪), থান্ডারবল (১৯৬৫), ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস (১৯৬৭), ডায়মন্ডস আর ফরেভার (১৯৭১) এবং নেভার সে নেভার এগেন (১৯৮৩) । এরমধ্যে নেভার সে নেভার এগেন ছিল আনঅফিসিয়াল বন্ড মুভি ।
বেশিরভাগ সমালোচকের মতে শন কোনারির বন্ডই হল বেস্ট বন্ড । এবং তাঁর সিনেমাগুলিই সবথেকে ভাল বন্ড সিনেমা । বিশেষ করে গোল্ডফিঙ্গার এবং থান্ডারবল সিনেমাদুটি কেই সবথেকে জনপ্রিয় হিসাবে ধরা হয় । বলা যেতে পারে জেমস বন্ডের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত তা শন কোনারি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ।
১৯৬৭ সালে ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস সিনেমার পরে ১৯৬৯ সালে জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবি অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস ছবিতে । জর্জ ল্যাজেনবির অভিনয় ক্ষমতার থেকে তাঁর অ্যাকশন দৃশ্য ও লাফঝাঁপে দক্ষতার জন্যই তাঁকে নির্বাচন করা হয়েছিল । কিন্তু অনেকেই জেমস বন্ডের ভূমিকায় তাঁকে পছন্দ করে উঠতে পারেননি । এই সিনেমাতেই জেমস বন্ড প্রথম এবং শেষ বারের মত বিয়ে করেন । যদিও বিয়ের পরেই তাঁর স্ত্রী মারা যান । সিনেমা হিসাবে অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস মধ্যমানের সাফল্য পেয়েছিল । কিন্তু সিনেমাটি রিলিজের আগেই জর্জ ল্যাজনবি ঘোষনা করেন যে তিনি আর জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করবেন না । ফলে ১৯৭১ সালে আবার শন কোনারি ফিরে আসেন ডায়মন্ডস আর ফরেভার ছবিতে ।
১৯৭১ সালের পর ১৯৭৩ সালে জেমস বন্ডের ভূমিকায় আসেন নতুন নায়ক রজার মুর । লিভ অ্যান্ড লেট ডাই ছবিতে । এই ছবিতে জেমস বন্ডকে কিছুটা আলাদা ভাবে দেখানো হয়েছিল । এই ছবিতে কখনই বন্ডকে টুপি পরতে বা সিগারেট খেতে দেখা যায় নি । তার বদলে দেখা গেছে সিগার টানতে । লিভ অ্যান্ড লেট ডাই ছবিতে মূলত আফ্রিকান আমেরিকান ব্ল্যাক কালচার কে তুলে ধরা হয়েছিল । এবং প্রথম একজন কালো বন্ড গার্লকে দেখা গেল ।
লিভ অ্যান্ড লেট ডাই ছবির পর রজার মুর দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান (১৯৭৪), দ্য স্পাই হু লাভড মি (১৯৭৭), মুনরেকার (১৯৭৯), ফর ইয়োর আইজ ওনলি (১৯৮১), অক্টোপুসি (১৯৮৩) এবং এ ভিউ টু এ কিল (১৯৮৫) ছবিতে অভিনয় করেন ।
রজার মুরের জেমস বন্ড ছিল অনেক হালকা টাইপের, কিছুটা কমেডি ঘেঁষা । সিনেমাগুলি ভালোই সাফল্য পেয়েছিল । মুনরেকার সিনেমাতে জেমস বন্ডকে মহাকাশে যেতেও দেখা গিয়েছিল । অক্টোপুসি সিনেমাতে বন্ড ভারতে এসেছিল এবং তাকে অটো চড়তেও দেখা গিয়েছিল । তবে অনেক জেমস বন্ড ফ্যানই অসন্তুষ্ট হয়েছিল যখন রজার মুর ছাপান্ন বছর বয়েসে অক্টোপুসি এবং আটান্ন বছর বয়সে এ ভিউ টু এ কিল সিনেমাতে অভিনয় করেন । সবারই বক্তব্য ছিল যে এত বুড়ো বন্ড দিয়ে আর চলে না ।
অবশেষে ১৯৮৭ সালে রজার মুরের বুড়ো বন্ডের বদলে বাজারে এল টিমোথি ডালটনের প্রথম বন্ড সিনেমা দ্য লিভিং ডেলাইট । সিনেমাটি ভালোই সাফল্য লাভ করেছিল । অনেকের মতে টিমোথি ডালটন চেষ্টা করেছিলেন জেমস বন্ডকে আবার সেই ইয়ান ফ্লেমিং এর আসল জেমস বন্ডের মত চেহারা দিতে । কিন্তু টিমোথি ডালটনের ১৯৮৯ সালের সিনেমা লাইসেন্স টু কিল অতটা সাফল্য লাভ করতে পারে নি । এই সিনেমাতে দেখান হয়েছিল জেমস বন্ডকে তার কাজে ইস্তফা দিতে । এবং আমেরিকান বন্ধুর উপর হামলার প্রতিশোধ নিতে ।
১৯৮৯ সালের পর বন্ড সিনেমা কার বানানোর অধিকার আছে এই নিয়ে মামলা শুরু হয় । যার ফলে দীর্ঘ ছয় বছর কোন জেমস বন্ডের সিনেমা রিলিজ করে নি । ১৯৯৪ সালে টিমোথি ডালটন তিনটি জেমস বন্ড ছবি করার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন । ফলে ১৯৯৫ সালের গোল্ডেন আই ছবির জন্য পিয়ার্স ব্রসনান কে নির্বাচিত করা হয় ।
বিভাগ মতামত, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
জেমস বন্ডের ছবি ১
মনে আছে আমি যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন জেমস বন্ডের নতুন ছবি গোল্ডেন আই মুক্তি পেয়েছিল । তখন আমাদের ক্লাসের কয়েকজন এই সিনেমাটা দেখতে গিয়েছিল । তাদের মুখে সিনেমার অ্যাকশন এবং উত্তেজক দৃশ্যের বর্ণনা শুনে সিনেমাটা দেখতে ইচ্ছে হলেও দেখবার কোন উপায় ছিল না । সেই সময় অশ্লীলতার দায়ে এই সিনেমাটির বিরুদ্ধে কোন কোন ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভও দেখিয়েছিল ।
আবার যখন কলেজে পড়ি তখন মুক্তি পেল জেমস বন্ডের নতুন সিনেমা দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ । সিনেমাটি যেদিন মুক্তি পেল সেদিনই ঠিক করলাম দেখতেই হবে । সেই মত হলে প্রথম দিন প্রথম শোর সময়ে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম প্রচন্ড ভিড় কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার কোন উপায় নেই । তাই বাধ্য হয়ে ব্ল্যাকেই কাটলাম । তারপর হলে ঢুকে যখন সিটে বসলাম তখন দেখলাম যে পর্দার সামনে একদম প্রথম সারিতে আমার সিট পড়েছে । জীবনে সেই প্রথম একেবারে সামনের সারিতে বসে সিনেমা দেখা । সিনেমা দেখতে গিয়ে তো ঘাড়ের অবস্থা খারাপ । যাই হোক ওই অবস্থাতেই বসে কোনরকমে সিনেমাটা দেখলাম ।
তারও পরে কম্পিউটার কেনার পর সিডিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে দু একটি জেমস বন্ডর সিনেমা দেখেছিলাম । যেমন অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস, লিভিং ডে লাইট প্রভৃতি ।
তারপর একে একে সিডি ডিভিডি এবং ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ডিআইভিএক্স ফাইলের দৌলতে প্রায় সবকটি জেমস বন্ডের সিনেমাই দেখা হয়েছে । ১৯৬২ সালের ড. নো থেকে আরম্ভ করে হালের ডাই অ্যানাদার ডে অবধি । একেবার নতুন সিনেমা ক্যাসিনো রয়াল এখনও দেখা হয়নি তবে আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি দেখার সুযোগ হবে ।
প্রথম দিকে জেমস বন্ডের সিনেমা দেখার পর অদ্ভুত লাগত যে এত গাঁজাখুরি ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে । জেমস বন্ডের অবিশ্বাস্য রকমের লাক । যেকোন রকমের বিপদ থেকেই সে যেকোন ভাবে বেরিয়ে আসতে পারে । তারপর নানা রকমের আশ্চর্য রকমের গাড়ি সাবমেরিন আর বিভিন্ন হাইটেক যন্ত্র । পরে বুঝতে পারলাম জেমস বন্ডের জনপ্রিয়তার কারণই হচ্ছে এই গাঁজাখুরি ঘটনা গুলো । তখন থেকেই জেমস বন্ডের সিনেমাগুলি উপভোগ করতে আরম্ভ করলাম ।
চল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে জেমস বন্ড ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে । প্রত্যেক সিনেমায় গড়ে দুটি করে মহিলাকে সে শয্যাসঙ্গিনী করতে সক্ষম হয়েছে । মানে একুশটি সিনেমায় তাকে চল্লিশ জনেরও বেশী মহিলার সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করতে দেখা গেছে । প্রত্যেক সিনেমায় বহু বার তার কানের পাশ দিয়ে গুলি বেরিয়ে গেছে অথবা আততায়ী তাকে হাতের মুঠোও পেয়েও হত্যা করতে ইতস্তত করেছে তার ফলে বন্ড যেভাবেই হোক বেঁচে পালিয়েছে । মানুষ ছাড়াও হাঙর, সাপ, বাঘ, বিছে, কুমীর প্রভৃতি তাকে বহুবার আক্রমন করেছে কিন্তু তাতেও বন্ডের কিছুই হয়নি । প্যারাসুট ছাড়াও প্লেন থেকে ঝাঁপ দিয়েও বন্ড বেঁচে গেছে । যাই হোক এসব নিয়ে খামোখা প্রশ্ন তুললে আপনার জেমস বন্ডের ছবি ভালো লাগবে না । ভাল লাগবে না যদি ভাবতে বসেন নানা রকম ইন্টেলেকচুয়াল কথাবার্তা যে জেমস বন্ড পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের একটা প্রোপাগান্ডা প্রভৃতি । জেমস বন্ডের ছবি মানেই হল ভরপুর বিনোদন এবং আমার এগুলো দেখতে ভালই লাগে ।
বিভাগ মতামত, সমালোচনা, সিনেমা ও টিভি
Tuesday, May 23, 2006
আমার পছন্দের দশটি ইংরাজী সিনেমা
এই পোস্টে আমি আমার এপর্যন্ত দেখা সবচেয়ে পছন্দের দশটি হলিউডের সিনেমার তালিকা দিলাম । এখানে আমি সিনেমার সিরিজ গুলোকে একটি সিনেমা হিসাবেই ধরছি । আপনারা যাঁরা কমেন্ট দেবেন তাঁরাও তাঁদের দেখা পছন্দের দশটি সিনেমার তালিকা দিন । যাতে সবাই সেই সিনেমা গুলো দেখতেও আগ্রহী বোধ করে ।
(১) রোমান হলিডে
(২) দ্য লাস্ট এমপেরর
(৩) স্টার ওয়ারস সিরিজ
(৪) ম্যাট্রিক্স ট্রিলোজি
(৫) সেভিং প্রাইভেট রায়ান
(৬) লর্ড অফ দ্য রিংস ট্রিলোজি
(৭) দ্য লায়ন কিং
(৮) রাম্বো ৩
(৯) ট্রু লাইজ
(১০) টয় স্টোরি (১ ও ২)
যে সিনেমাগুলো অল্পের জন্য তালিকায় এলো না :- গডফাদার সিরিজ, ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজ, শ্রেক ১ ও ২, ফাইন্ডিং নেমো, দ্য টেন কমান্ডমেন্টস, বেনহার, দ্য গুড দ্য ব্যাড এন্ড দ্য আগলি, ফরেস্ট গাম্প,
ই.টি., ও বেশ কিছু জেমস বন্ড সিনেমা ।
বিভাগ সিনেমা ও টিভি
Friday, May 19, 2006
আমার প্রিয় অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস্
বেশিরভাগ মানুষের মত আমিও প্রথমে হলিউডের স্পেশাল এফেক্টে ভরপুর সিনেমা দেখতেই বেশী আগ্রহী ছিলাম । জুরাসিক পার্ক, হলো ম্যান, মমি, গডজিলা এইসব সিনেমাই স্কুল ও কলেজ জীবনে বেশী দেখতাম । শুধু অভিনয় সমৃদ্ধ সিনেমা বেশি দেখার সুযোগ হয় নি ।
টম হ্যাঙ্কসের প্রথম যে সিনেমাটা আমি দেখি তা হল ফরেস্ট গাম্প । এক বিকলাঙ্গ শিশুর সেরে ওঠা আর তার পরবর্তী কালের জীবন নিয়ে তৈরী এক মাস্টারপিস । টম হ্যাঙ্কস যে কত বড় অভিনেতা তার প্রমান এই সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে ছড়িয়ে আছে । এই সিনেমার জন্য তিনি অস্কার জিতে নিয়েছিলেন ।
পরবর্তী যে দুটো ছবির নাম আমি করব তা হল কাস্ট এওয়ে আর সেভিং প্রাইভেট রায়ান ।
কাস্ট এওয়েতে টম হ্যাঙ্কস এক কুরিয়ার সার্ভিস অফিসার । তাঁর প্লেন ভেঙে পড়ে মাঝ সমুদ্রে । কোন রকমে প্রানে বেঁচে গেলও তাঁকে বেশ কয়েকবছর কাটাতে হয় এক নির্জন দ্বীপে । এক শহুরে আধুনিক মানুষকে কিভাবে প্রাচীন যুগের মানুষের জীবনযাত্রায় মানিয়ে নিতে হয় তা দুর্দান্ত ভাবে অভিনয়ে ফুটিয়েছেন টম হ্যাঙ্কস । একটা বাস্কেটবলের গায়ে মুখ চোখ এঁকে নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য তার সাথেই বকবক করে যান তিনি । এই গল্পের সাথে অনেকটাই মিল রয়েছে রবিনসন ক্রুশোর গল্পের । কিন্তু সভ্য জগতে ফিরে আসার পরেও টম হ্যাঙ্কসের গল্প শেষ হয় না । ফিরে এসে দেখে সব কিছুই অনেক পালটে গেছে । প্রেমিকা বিয়ে করেছে অন্য পুরুষকে । সিনেমা শেষ হয় এক নির্জন গ্রাম্য চৌরাস্তায় টমের একা দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে । বোঝা যায় নিঃসঙ্গতার বোঝা কাঁধে টম এখনও বাস করছে এক নির্জন দ্বীপে ।
সেভিং প্রাইভেট রায়ান আমি যে কতবার দেখেছি তা গুনে শেষ করতে পারব না । যুদ্ধ নিয়ে আমার দেখা সেরা সিনেমা এটা । সিনেমার শুরুতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের নর্মান্ডি উপকূলে যে ভয়াবহ যুদ্ধের দৃশ্য আছে তা একবার দেখলে বহুদিন ভোলা কঠিন । তারপরের দৃশ্যেই দেখা যায় আমেরিকার যুদ্ধ অফিসে প্রচুর চিঠি টাইপ করা হচ্ছে । যারা মারা গিয়েছে তাদের বাড়িতে চিঠি পাঠানো হয়েছে । এই সময় হঠাৎ এক ক্লার্ক ছুটে আসে হাতে তিনটি কাগজ নিয়ে । ঘটনা হল এক রায়ান পরিবারের চার ছেলের মধ্যে তিন ছেলেই পৃথিবীর তিন জায়গায় যুদ্ধে মারা গিয়েছে । এবং তাদের মায়ের কাছে একই দিনে তিনটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে ।
অফিসার জানতে চান এই মায়ের চতুর্থ ছেলের খবর কি । জানা যায় তাকে ইউরোপের কোথাও প্যারাশুটে করে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে । তারপর তার আর কোন খবর নেই । অফিসার ঘোষনা করেন এখন রাষ্ট্রের কর্তব্য হচ্ছে এই ছেলেকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ।
এই কাজের দায়িত্ব পড়ে ফ্রান্সের নর্মান্ডি উপকূলে পোস্টিং থাকা টম হ্যাঙ্কসের উপর । তারপর কিভাবে টমের নেতৃত্বে একটা দল সেই ছেলেকে খুঁজে বার করে এবং শেষ অবধি টমকে প্রান দিতে হয় এই হল ছবির বিষয় । অসাধারন যুদ্ধের দৃশ্য তার সাথে টমের দুরন্ত অভিনয় এই ছবির সম্পদ ।
এপেলো থার্টিনে টম এক এমন নভশ্চরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যাকে চাঁদের কাছাকাছি গিয়েও যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য ফিরে আসতে হয় । সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরী এই ছবিও টমের প্রতিভার উজ্জ্বল সাক্ষর বহন করে ।
ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান সিনেমায় টম এক পুলিশ অফিসার যে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায় এক ধুরন্ধর চেক জালকারী জালিয়াত লিওনার্দো দি কাপ্রিও কে । কিন্তু লিওনার্দো প্রতিবারই চোখে ধুলো দিয়ে পালায় । শেষে অবশ্য ধরা পড়ে এবং শেষ অবধি টমেরই সাহায্যে সে মূলস্রোতে ফিরে আসে আর এফবিআই এর হয়ে কাজ করতে থাকে । এবং একদিন চেক জাল আটকাতে এবং নতুন উন্নত চেক ডিজাইনের ক্ষেত্রে এক বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হয় । এই সিনেমার মূলেও রয়েছে এক সত্যি ঘটনা ।
দ্য টার্মিনাল সিনেমায় টম এক পূর্ব ইউরোপের দেশ থেকে নিউ ইয়র্কে আসে এক বিখ্যাত স্যাক্সোফোনিস্টের সই সংগ্রহ করতে । কিন্তু তার প্লেনে যাত্রার সময়ে তার দেশের সরকারের পতন হয় । তার ফলে টমের পাসপোর্টটি অকেজো হয়ে যায় । এরপর টম না পারে আমেরিকাতে ঢুকতে না পারে দেশে ফেরত যেতে । তাকে প্রায় নয় মাস আটকে থাকতে হয় এয়ারপোর্টের টার্মিনালের ভিতরে । এই সময় তার সাথে এয়ারপোর্টের কর্মীদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । এই সময় এক মহিলা যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ক্যাথারিন জিটা জোনস, তার সাথেও টমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । তারপর কিভাবে টম সেই সই সংগ্রহ করে এবং দেশের দিকে রওনা দেয় তা নিয়েই এই গল্প ।
এই সপ্তাহেই রিলিজ হচ্ছে টমের নতুন বিতর্কিত সিনেমা দা ভিঞ্চি কোড ।
যার রিলিজ নিয়ে ভারতে আবার দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে । এই বোকা বোকা ব্যাপারগুলো দেখলে সত্যিই আমার হাসি পায় । কবে যে ভারতের মানুষ একটু প্রাপ্তবয়স্কের মত আচরন করবে তা কে জানে । কে কি দেখবে না দেখবে তার স্বাধীনতা প্রত্যেক মানুষেরই থাকা উচিত । আর যেখানে দেশ ভরে উঠেছে বেআইনী পাইরেটেড সিডি আর ডিভিডিতে । যে কোন রকম পর্ণো সিনেমা খুব সহজেই পাওয়া যায় । সেখানে এই সেন্সর বোর্ডের কাজকম্ম একেবারেই বেমানান । প্রতিটি সিনেমাকে শুধুমাত্র বয়সের সার্টিফিকেট দিয়েই ছেড়ে দেওয়া উচিত কোন কাটছাঁট না করেই এই সহজ সত্যটা বহু লোকই মেনে নিতে পারে না ।
টম হ্যাঙ্কসের বেশকিছু ভালো সিনেমা এখনও আমার দেখা হয় নি । যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফিলাডেলফিয়া । এই সিনেমাতে টম এক এইডস রোগীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন । যার জন্য তিনি অস্কার পান । ফরেস্ট গাম্প আর ফিলাডেলফিয়ার জন্য টম পর পর দুবছর সেরা অভিনেতার অস্কার পান যা তাঁর কেরিয়ারকে তুঙ্গে পৌছে দেয় ।
বিভাগ সিনেমা ও টিভি

