Saturday, May 05, 2007

বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়েছে

বাংলার গা থেকে রক্ত

গড়িয়ে পড়েছে


জ য় গো স্বা মী


বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়েছে,

রক্ত

গড়িয়ে পড়েছে...

কেউ ছুটে গেল খালের ওদিকে

বুক ফাটা গলায় কার মা ডাকল : ‘রবি রে...’

উত্তরের পরিবর্তে, অনেকের স্বর মিলে একটা প্রকাণ্ড হাহাকার

ঘুরে উঠল...

কে রবি ? কে পুষ্পেন্দু ? ভরত ?

কাকে খুঁজে পাওয়া গেছে ? কাকে আর পাওয়া যায়নি ?

কাকে শেষ দেখা গেছে

ঠেলাঠেলি জনতাগভীরে ?

রবি তো পাচার হচ্ছে লাশ হয়ে আরও সব লাশেদের ভিড়ে...


২


...বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়েছে

রক্ত

গড়িয়ে পড়েছে

রক্ত

গড়িয়ে পড়েছে...

পিছনে কুকুর ছুটছে

ধর্, ধর্...

পিছনে শেয়াল

তার পিছু পিছু আসছে ভাণ্ড হাতে

রাজ অনুচর

এই রক্ত ধরে রাখতে হবে

এই রক্ত মাখা হবে সিমেন্টে বালিতে

গড়ে উঠবে সারি সারি

কারখানা ঘর

তারপর

চারবেলা ভোঁ লাগিয়ে সাইরেন বাজাবে

এ কাজ না যদি পার, রাজা

তাহলে

বণিক এসে তোমার গা থেকে

শেষ লজ্জাবস্ত্রটুকু খুলে নিয়ে যাবে



৩


আমার গুরুত্ব ছিল মেঘে

প্রাণচিহ্নময় জনপদে

আমার গুরুত্ব ছিল...

গা ভরা নতুন শস্য নিয়ে

রাস্তার দুপাশ থেকে চেয়ে থাকা আদিগন্ত ক্ষেতে আর

মাঠে

আমার গুরুত্ব ছিল...

আজ

আমার গুরুত্ব শুধু রক্তস্নানরত

হাড়িকাঠে !

৪


অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে

সূর্য উঠে আসে

বন্ধ-থাকা ইশ্‌কুলের গায়ে ও মাথায়

রোদ পড়ে

রোদ পড়ে মাটি খুড়ে চলা

কোদালে, বেলচায়

রোদ পড়ে নিখোঁজ বাচ্চার

রক্তমাখা স্কুলের পোশাকে...


৫


... না, না, না, না, না-

‘না’ বলে চিৎকার করছে গাছ

‘না’ বলে চিৎকার করছে এই গ্রীষ্ম দুপুরের হাওয়া

‘না’ বলে চিৎকার করছে পিঠে লাশ বয়ে নিয়ে চলা

ভ্যান গাড়ি

আর আমরা শহরের কয়েকজন গম্ভীর মানুষ

ভেবে দেখছি ‘না’ বলার ভাষারীতি ঠিক ছিল কিনা তাই নিয়ে

আমরা কি বিচারে বসতে পারি ?


৬


তুমি কি খেজুরি ? তুমি ভাঙাবেড়া ?

সোনাচূড়া তুমি ?

বার বার প্রশ্ন করি । শেষে মুখে রক্ত উঠে আসে ।

আমার প্রেমের মতো ছাড়খার হয়ে আছে আজ গোটা দেশ

ঘোর লালবর্ণ অবিশ্বাসে !


৭


আমরা পালিয়ে আছি

আমরা লুকিয়ে আছি দল বেঁধে এই

ইটভাটায়

মাথায় কাপড় ঢেকে সন্ধেয় বেরোই

মন্টুর আড়তে-

মল্লিকের

বাইকের পিছন-সিটে বসে

আমরা এক জেলা থেকে অপর জেলায়

চলে যাই,

যখন যেখানে যাই কাজ তো একটাই !

লোক মারতে হবে ।

আপাতত ইটভাটায়

লুকিয়ে রয়েছি...

অস্ত্র নিয়ে...

কখন অর্ডার আসে, দেখি ।


৮


পিছু ফিরে দেখেছি পতাকা ।

সেখানে রক্তের চিহ্ন, লাল ।

ক’বছর আগে যারা তোমাকে সাহায্য করবে বলে

ক’বছর আগে যারা তোমার সাহায্য পাবে বলে

রক্তিম পতাকাটিকে নিজের পতাকা ভেবে কাঁধে নিয়েছিল

তাঁদের সবাইকে মুচড়ে দলে পিষে ভেঙে

দখল করেছ মুক্তাঞ্চল

পতাকাটি সেই রক্ত বক্ষ পেতে ধারণ করলেন ।

তোমার কি মনে পড়ছে, রাজা

শেষ রাত্রে ট্যাঙ্কের আওয়াজ ?

মনে পড়ছে, আঠারো বছর আগে, তিয়েন-আন-মেন ?

৯


ভাসছে উপুড় হয়ে । মুণ্ডু নেই । গেঞ্জি পরা, কালো প্যান্ট ।

কোন বাড়ির ছেলে ?

নব জানে । যারা ওকে কাল বিকেলে বাজারে ধরেছে

তার মধ্যে নবই তো মাথা ।

একদিন নব-র মাথাও

গড়াবে খালের জলে,

ডাঙায় কাদার মধ্যে উলটে পড়ে থাকবে স্কন্ধকাটা

এ এক পুরনো চক্র ।

এই চক্র চালাচ্ছেন যে-সেনাপতিরা

তাঁদের কি হবে ?

উজ্জ্বল আসনে বসে মালা ও মুকুট পরবে

সেসব গর্দান আর মাথা

এও তো পুরনো চক্র । কিন্তু তুমি ফিরে দেখো আজ

সে চক্র ভাঙার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছে গ্রাম-

ঘুরে দাঁড়িয়েছে কলকাতা

।

১০


অপূর্ব বিকেল নামছে ।

রোদ্দুর নরম হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা মাঠে ।

রোদ্দুর, আমগাছের ফাঁক দিয়ে নেমেছে দাওয়ায় ।

শোকাহত বাড়িটিতে

শুধু এক কাক এসে বসে ।

ডাকতে সাহস হয় না তারও ।

অনেক কান্নার পর পুত্রহারা মা বুঝি এক্ষুনি

ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন ।

যদি ঘুম ভেঙে যায় তাঁর !


কবিতাটি ২মে ২০০৭ এর দেশ পত্রিকাতে প্রকাশিত


Saturday, April 28, 2007

স্টাম্বলআপন -- নতুন ওয়েবসাইট খুঁজে পাবার সহজ উপায় ।

আমরা সকলেই ইন্টারনেটে মজার মজার জিনিস দেখতে ভালবাসি । কিন্তু জানি না যে বিশাল ইন্টারনেটের জগতে এই মজার অথবা ইন্টারেস্টিং বিষয়গুলি খুঁজে পাওয়া যাবে ।

নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় নতুন বিষয় খুঁজে বের করার উপায় হচ্ছে সোস্যাল বুকমার্কিং সাইটগুলোকে দেখা । যেমন ডিগ রেডিট প্রভৃতি ।

কিন্তু আমি ডিগ ডট কম বা রেডিট ডট কমের থেকেও যে সাইটটির কথা বলব সেটি হল স্টাম্বলআপন ।

স্টাম্বলআপন ব্যবহার শুরু করার আগে সর্বপ্রথমে আপনাকে স্টাম্বলআপন সাইটে গিয়ে নিজের নাম রেজিস্ট্রি করতে হবে আর পাঁচটা সাইটের মতই । নাম রেজিস্ট্রির বিভিন্ন পর্যায়ে আপনাকে আপনার পছন্দের বিষয়সমূহ জানাতে হবে । আপনি স্টাম্বলআপন দিয়ে যে সাইটগুলি দেখবেন তা আপনার এই পছন্দের উপরেই ভিত্তি করেই আপনাকে দেখানো হবে ।

এইখানে রেজিস্ট্রি করার সাথে আপনাকে আপনার ব্রাউজারের জন্য স্টাম্বলআপন টুলবার ইনস্টল করতে হবে । এই ব্রাউজার কাজ করবে কেবল ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার অথবা ফায়ারফক্সের জন্য । স্টাম্বলআপন ব্যবহারের জন্য আপনাকে স্টাম্বলআপনের ওয়েবসাইটে যেতে হবে না । এই টুলবারের মাধ্যমেই আপনি সমস্ত কাজ করতে পারবেন ।

স্টাম্বলআপন টুলবারে বেশ কয়েকটি বোতাম আছে । যাদের মধ্যে প্রধান হল স্টাম্বল বোতাম এবং থাম্বস আপ ও থাম্বস ডাউন বোতাম । স্টাম্বল বোতামের উপর ক্লিক করলেই আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী র‌্যানডম একটি সাইট দেখতে পাবেন। এবার এই সাইটটি যদি আপনার পছন্দ হয় তবে এর রেটিং দিতে পারেন থাম্বস আপ বোতামের উপর ক্লিক করে । আর যদি পছন্দ না হয় তাহলে ক্লিক করতে পারেন থাম্বস ডাউন বোতামের উপরে । আপনাকে পরবর্তী সময়ে যে সাইটগুলোকে দেখানো হবে সেগুলি আপনার এই পছন্দ অপছন্দের উপরেও নির্ভর করবে ।

এই টুলবার থেকে আপনি আরো অনেক কাজ করতে পারবেন । আপনি আপনার সার্ফিং সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন শুধু ছবি বা ভিডিওর মধ্যে অথবা যে কোন ভাষার মধ্যে অথবা যেকোন বিষয়ের মধ্যে ।

মাত্র কয়েকদিন স্টাম্বলআপন ব্যবহার করেই আমি এর ফ্যান হয়ে পড়েছি । আমার ইন্টারনেটে সময় কাটানোর অন্যতম প্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে এটি । আর আমাকে যে সাইটগুলি দেখানো হয়েছে তার প্রায় সত্তর থেকে আশি শতাংশই আমার বেশ পছন্দের হয়েছে ।

জর্জ বুশের পতন !

জর্জ বুশের পতন দেখতে চান নাকি ? ক্লিক করুন এইখানে ।

Saturday, April 21, 2007

দয়াল বাবা কলা খাবা গাছ লাগাইয়া খাও

আমাদের অফিসে এক সহকর্মী তার বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল এই ভিডিওটা । দেখে তো আমরা হাসতে হাসতে পাগল ।

ধুতি আর পৈতে পরিহিত একজন দয়াল বাবা কলা খাবা গানের সাথে নেচে চলেছে উদ্দাম ভাবে । নাচ ও গান খুবই হাস্যকর কিন্তু দেখার পর নৃত্যশিল্পীর প্রশংসা না করে পারা যায় না । দেখে তাকে একজন ভাঁড় বলে মনে হলেও তার যে নাচের উপর দখল আছে সে ব্যাপারে বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না । বিশেষ করে নাচের একজায়গায় তার পেটটাকে ঢেউ খেলানো দেখে তারিফ করতেই হয় । নিয়মিত প্র্যাকটিশের ফলেই যে এরকম সম্ভব তাতে কোন সন্দেহ নেই । ধুতি পরেও যে এরকম উদ্দাম নাচ সম্ভব তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না ।

এই দয়াল বাবা নাচের জনপ্রিয়তা খুবই বেশি । ইউটিউবে এই নাচের অনেকগুলি ভিডিও আছে । মূলত ইউটিউব আর গুগুল ভিডিও থেকেই এই দয়াল বাবা আরো বিখ্যাত হয়ে উঠেছে । কলকাতার গড়িয়া অঞ্চলের এক অখ্যাত ক্লাবের প্রোগ্রামে সাধারন ফটোগ্রাফারের তোলা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীতে । দয়াল বাবার একটি ভিডিও ইউটিউবে তিয়াত্তর হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে ।

শুনেছি বিদেশে অনেক লোক বিখ্যাত হয়েছে শুধু ইউটিউব থেকে । আমাদের দয়াল বাবাও হয়ত সেরকমই হয়ে উঠতে চলেছে ।

http://www.youtube.com/results?search_query=Dayal+Baba&search=Search


Friday, April 20, 2007

বিশ্বাস হচ্ছে ?

দেখুন দিকি বুশ কি কচ্চেন....