Sunday, November 11, 2007

নন্দীগ্রামে সুপরিকল্পিত গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ



নৃশংসতা এবং বর্বরতার দিক থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সিপিএম সমস্ত সীমার উর্দ্ধে চলে গেছে । সমস্ত সরকারি প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে বসিয়ে রেখে নন্দীগ্রামকে তারা পরিণত করেছে এক রণক্ষেত্র এবং বধ্যভূমিতে ।

অসভ্য ইতর বর্বর এবং গণহত্যা ও ধর্ষনকারী এই সরকার এবং পার্টির নিন্দার জন্য আজ কোন কথাই যথেষ্ট নয় । ধিক্কার জানাই সেই সব বুদ্ধিজীবিদের যাঁরা এখনও সরকারী আমন্ত্রনে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উৎসবে মেতে আছেন ।

Saturday, November 10, 2007

গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কিছু কথা

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং গ্রীন হাউস এফেক্ট নিয়ে ছোটবেলা থেকেই অনেক কিছু পড়ে আসছি । যার মোদ্দা কথা হল পরিবেশ দূষন এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাবার ফলে মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবীর বহু জায়গা ডুবিয়ে দেবে ।

পুরো ব্যাপারটার মধ্যেই কেমন একটা যেন মানুষের পাপের ফলই হল গ্লোবাল ওয়ার্মিং এরকম একটা বার্তা লুকিয়ে রয়েছে । এবং এই সবই আমরা মুখস্ত করে এসেছি । কিছুদিন আগে The Great Global Warming Swindle নামে একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলাম এই তথ্যচিত্রটিতে দাবি করা হয়েছিল অবশ্যই কিছু বাঘা বাঘা বৈজ্ঞানিক এবং পরিবেশবিদদের সাক্ষাৎকার সহযোগে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য মানুষ দায়ী নয় । পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া কমা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার । এবং পৃথিবীর পরিবেশ সব সময়েই পরিবর্তিত হয়ে আসছে ।

পরে অবশ্য নেটে খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম যে এই তথ্যচিত্রটি নিয়েও প্রচুর বিতর্ক এবং সন্দেহ আছে ।

তবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর পিছনে বিরাট রাজনীতির খেলা আছে সেটা বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না । গত কিছু বছরে গ্লোবাল ওয়ার্মিং সংক্রান্ত রিসার্চ এর পিছনে বহু টাকা ব্যয় করা হয়েছে । অনেকেরই বক্তব্য যে বিজ্ঞানের এই শাখায় এত বেশি টাকা আসায় বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । বেশ কিছু সাংবাদিক, চ্যানেল, কাগজ, পত্রিকা এবং বিজ্ঞানী গ্লোবাল ওয়ার্মিং বেচে বেশ ভালোই উপার্জন করছেন । আবার এই বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং । বলা যেতে পারে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিজেই এখন একটা সিস্টেম এবং ইন্ডাস্ট্রি । এবং এক রকমের পপ কালচারও বটে ।
ইদানীং গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে একটু আধটু পড়াশোনা করতে গিয়ে বেশ কিছু বেসিক তথ্য নজরে এল । যেমন :

গ্লোবাল ওয়ার্মিং হয় গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে । আর সবথেকে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস হল জলীয় বাষ্প । জলীয় বাষ্প ৩৬-৭০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রিন হাউস এফেক্টের জন্য দায়ী । আর এই জলীয় বাষ্পের মধ্যে কিন্তু মেঘ পড়ছে না ।

কার্বন ডাই অক্সাইডের গ্রিনহাউস এফেক্টের জন্য দায়িত্ব ৯-২৬ শতাংশ । মিথেন ৪-৯ শতাংশ । ওজোন ৩-৭ শতাংশ ।

এখানে মানব সভ্যতার দায়িত্ব মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেনের পরিমান বায়ুমন্ডলে বাড়াবার জন্য । তবে মনে রাখতে হবে যে কলকারখানা ও পরিবহন ছাড়াও আরও বহু প্রাকৃতিক ভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় । যেমন আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে এবং জঙ্গলের প্রানীদের মৃতদেহ এবং গাছের তলায় পড়ে থাকা পাতা পচেও কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয় । এবং মানুষ সহ সমস্ত প্রানীর শ্বাসকার্যের ফলেও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয় ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর আর একটা বড় কারন সোলার ভ্যারিয়েশন । বা সূর্য থেকে বিকিরিত শক্তির বাড়া কমা যাতে মানুষের কোন হাত নেই ।

১৯৪০ এর পর থেকে পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান ক্রমশ বেড়েছে । কিন্তু ১৯৭৫ সাল অবধি পৃথিবীর তাপমাত্রা কমেছে ।

পৃথিবীর ইতিহাসে বর্তমান কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান এবং তাপমাত্রার চেয়ে বেশি এর আগেও ছিল । যেমন ডাইনোসররা যখন পৃথিবীতে পুরোদমে রাজত্ব করছে তখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান এখন থেকে বারো গুন পর্যন্ত বেশি ছিল । সেই সময় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এখন থেকে বেশি ছিল এবং মেরু প্রদেশে কোন বরফ ছিল না । সেই সময়ে সমুদ্রের উচ্চতাও এখন থেকে ১০০ থেকে ২৫০ মিটার অবধি বেশি ছিল ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কে আটকাতে যে সমস্ত গাইডলাইন তৈরি হয়েছে সেগুলিকে গরীব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে যদি সৌরশক্তি বায়ুশক্তির মত অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহার করা হয় তাহলে হয়ত কয়েকটা বাড়িতে আলো পাখা চালানো যেতে পারে কিন্তু বড় বড় শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয় । ভাবুন তো একটা লৌহ ইস্পাত শিল্প কি কখনো সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির সাহায্যে গড়ে তোলা যেতে পারে না সৌর শক্তি দিয়ে নিয়মিতভাবে ট্রেন চালানো যেতে পারে । তাহলে কি উন্নয়নশীল দেশগুলি কি গাইডলাইন মানতে গিয়ে শিল্পোন্নয়ন করবে না ।
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পৃথিবীতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বাড়তে বাড়তে পৃথিবীকে একেবারে অবসবাসযোগ্য করে দেবে একথা ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় না । কারণ যতই হোক জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিমান সীমিত । পৃথিবীর ধ্বংসের অনেক আগেই মনে হয় তা ফুরিয়ে যাবে ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং থিয়োরির পক্ষে ও বিপক্ষে বহু মানুষ আছেন । এই থিয়োরির বিপক্ষে যাঁরা তাঁরা এটাকে স্রেফ প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছুই মনে করেন না । আর এই থিয়োরির পক্ষে যাঁরা তাঁরা বিপক্ষকে উড়িয়ে দেন এই বলে যে তাদের পিছনে আছে বড় বড় তেল কম্পানিগুলি । দুপক্ষের মতামত পড়ে বুঝে ওঠা খুব মুশকিল যে কারা ঠিক ।

তবে সাধারন ভাবে শক্তি সাশ্রয়ের নিয়মগুলি মেনে চললে তা গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে কতটা আটকাবে তা জানা নেই তবে আমাদের পকেটের পক্ষে অবশ্যই কিছু সাশ্রয় আনবে ।

http://en.wikipedia.org/wiki/Global_Warming
http://en.wikipedia.org/wiki/Solar_variation
http://en.wikipedia.org/wiki/Greenhouse_effect
http://en.wikipedia.org/wiki/Climate_change_denial
http://en.wikipedia.org/wiki/Scientific_opinion_on_climate_change
http://en.wikipedia.org/wiki/Global_warming_controversy
http://en.wikipedia.org/wiki/Politics_of_global_warming
http://en.wikipedia.org/wiki/The_Great_Global_Warming_Swindle
http://en.wikipedia.org/wiki/Dinosaur

Wednesday, October 31, 2007

কলকাতার দুর্গাপুজো


বহু বছর ধরেই কলকাতার দুর্গাপুজো দেখে আসছি । এবারও দেখলাম । আমি কলকাতার বাইরের বাসিন্দা হলেও কলকাতা আমার কাছে নিজের ঘরের মতই কারণ আমার আমার মামার বাড়ি ও দিদির বাড়ি সহ আরও বহু আত্মীয়ের বাস কলকাতাতেই তাই পুজোর দিনগুলোতে এখানে ঘাঁটি গাড়তে কোন অসুবিধা হয় না ।

পুজোর দিনগুলোতে কলকাতা যেন এক অন্য চেহারা নেয় । এমনিতে কলকাতা রাতজাগা শহর নয় । রাত দশটা বাজলেই শহরের বহু এলাকা একেবারে ফাঁকা হয়ে যায় । কিন্তু পুজোর দিনগুলোতে সারা রাত্রি শহর জেগে থাকে । বাস ও মেট্রোরেল চলে ।

কলকাতার পুজো গুলোকে এখন মোটামুটি চারভাগে ভাগ করা যায় । প্রথম হল পুরনো জমিদার ও বনেদী বংশের পুজোগুলি । যারা শত অসুবিধার মধ্যেও নিজেদের পুজো বজায় রাখতে পেরেছে । যেমন শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো বা লাটুবাবু ছাতুবাবুর বাড়ির পুজো ।

দ্বিতীয় হল সার্বজনীন পুজো । অর্থাৎ ক্লাব বা পাড়ার পুজো । সার্বজনীন পুজোগুলি আবার দুভাগে বিভক্ত । একদল চিরাচরিত ধরনের মন্ডপ এবং প্রতিমা তৈরি করেন যেমন বাগবাজার সার্বজনীন বা ম্যাডক্স স্কোয়ারের পুজো । এছাড়াও আরো বহু সার্বজনীন পুজোই এই গোত্রের মধ্যে পড়বে ।

দ্বিতীয় প্রকারের সার্বজনীন পুজোগুলিকে বলা যেতে পারে থিম পুজো ।যে ধরনের পুজোর এখন কলকাতায় রমরমা । থিম পুজোর বৈশিষ্ট্য হল প্রত্যেক বার মণ্ডপ এবং প্রতিমার চেহারা আলাদা আলাদা রকমের হয় । কোন একটি বিশেষ থিম বেছে নেওয়া হয় প্রতিমা এবং মণ্ডপসজ্জার জন্য । এই থিম যেকোন রকমেরই হতে পারে । যেমন এবারেই যে থিমগুলি দেখা গেছে সেগুলি হল বাংলার গ্রাম এবং নবান্ন, আফ্রিকার আদিবাসী গ্রাম, রাজস্থানের দুর্গ, দক্ষিন ভারতীয় মন্দির, পুরনো ভাঙা মন্দির, নোয়ার জলযান প্রভৃতি । অন্যান্য বছরে আরো রোমাঞ্চকর কিছু থিমের মধ্যে ছিল মঙ্গলগ্রহ, ট্রেন অ্যাক্সিডেন্ট প্রভৃতি ।

সার্বজনীন পুজোগুলি ছাড়া এখন কলকাতায় যে পুজোগুলি সংখ্যায় বাড়ছে সেগুলি হল ফ্ল্যাটবাড়ির পুজো ।

দিনে দিনে কলকাতার পুজোর বাজেট আরোও বাড়ছে এবং ছোটখাটো অল্প বাজেটের পুজোগুলিও আস্তে আস্তে বড় বাজেটের হয়ে উঠছে । কলকাতার বেশিরভাগ বড় বড় পুজোই আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে হয় না । তার বদলে এখন বড় কম্পানিগুলি বেশির ভাগ টাকা স্পনসর করে । কলকাতায় বিজ্ঞাপন করার সের সময় হল পুজোর সময় আর কম্পানিগুলি সেটা ভালোই বোঝে । যেমন এবার খুব বড়ভাবে হাজির ছিল ভোডাফোন কম্পানি। এই কম্পানিটি কলকাতায় এসেছে মোবাইল কম্পানি হাচকে কিনে নেবার মাধ্যমে । তাই পুজোর সময়কে তারা বেছে নিয়েছিল কলকাতায় নিজেদের ব্রান্ড আর লোগো কে সাধারন মানুষের কাছে পরিচয় করানোর জন্য । এইজন্য বেশির ভাগ পুজোমন্ডপে তাদের বিজ্ঞাপন দেখা গেছে ।

বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং প্রভাবশালী নেতাও তাদের শক্তি পরীক্ষা করে নেয় বড় বাজেটের পুজো করানোর মাধ্যমে । অনেক সময় তাদের নাম পুজো কমিটির কোথাও থাকে না কিন্তু সবাই জানে যে এটা অমুকদার পুজো ।

কলকাতা এই কয়েকটা দিন বলা যেতে পারে যে একটি বিশাল শিল্প প্রদর্শনীতে পরিণত হয় । সাধারনলোকে খুব কমই কলকাতায় শিল্পপ্রদর্শনী দেখতে যায় বিভিন্ন গ্যালারিতে কিন্তু পুজোর সময়ে খুব সহজেই শিল্পীরা সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেন । এছাড়া বিভিন্ন থিমের পুজোর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করা যায় । যাদের পক্ষে রাজস্থানে বা দক্ষিন ভারতে গিয়ে বিখ্যাত স্থাপত্যগুলি দেখে আসা সম্ভব নয় তারাও অন্তত কিছুটা ধারনা পেতে পারে সেই আদলে তৈরি মন্ডপগুলি দেখে ।এছাড়া বহু অজানা শিল্প ও সংস্কৃতির সাথেও পরিচয় করা যায় এই সময়ে ।

কলকাতার পুজোর আরো একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আলোকসজ্জা । মূলত চন্দননগরের আলোকশিল্পীরাই মূলত আলোকসজ্জাগুলি তৈরি করে থাকেন । সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে আলোকসজ্জার মাধ্যমে ।

পুজো তো চলে গেল আর অনেকের পক্ষেই কলকাতায় এসে পুজো দেখা সম্ভব নয় । তবে এবছর ডিজিট্যাল ক্যামেরার দাম কমায় আর ইন্টারনেটের প্রসার আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচুর ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করা হয়েছে । তাই পিকাসা বা ফ্লিকারে গিয়ে Durga Puja 2007 লিখে সার্চ করলেই আপনি কলকাতার পুজোর অনেক ভালো ভালো ছবি দেখতে পাবেন ।

Saturday, October 06, 2007

শারদীয়া আনন্দমেলা, কাকাবাবুর চোখে জল এবং অন্যান্য

মনে আছে ছোটবেলায় শারদীয়া আনন্দমেলায় পড়তাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সমরেশ মজুমদারের অর্জুন আর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের রোমাঞ্চকর সব উপন্যাস এছাড়া শৈলেন ঘোষের রূপকথার উপন্যাসও আমার বেশ ভাল লাগত ।

তাই সেই পুরোনো স্বাদ আবার ফিরে পেতে এবারে কিনলাম শারদীয়া আনন্দমেলা । কিন্তু হতাশ হলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবুর উপন্যাস ‘কাকাবাবুর চোখে জল’ পড়ে । এটি একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস । সেই বস্তাপচা কিডন্যাপিং এর গল্প । কাকাবাবুর বেশির ভাগ উপন্যাসই কিডন্যাপিং সংক্রান্ত । কোন গল্পে কাকাবাবু কিডন্যাপ হয় । কোন গল্পে কিডন্যাপ হয় সন্তু বা জোজো আবার কোন গল্পে অন্য কেউ । ‘কাকাবাবুর চোখে জল’ উপন্যাসে কিডন্যাপ হল কাকাবাবুর পাড়ার একটি বাচ্চা ছেলে । তারপর কাকাবাবু কিভাবে সেই ছেলেটিকে উদ্ধার করে আনলেন সেই নিয়েই হল গল্প ।

উপন্যাসটিতে কোন প্লটের বালাই নেই । কাকাবাবু গেলেন আর কয়েকজনকে ঠেঙিয়ে ছেলেটিকে নিয়ে এলেন এই হচ্ছে গল্প । আর সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই উপন্যাসে সন্তু বা জোজোর সেরকম কোনো ভূমিকা নেই । কেবল মুখ দেখানোর জন্যই তার উপন্যাসে হাজির এরকম ব্যাপার আমি প্রথমবার দেখলাম ।

উপন্যাসটি পড়তে গেলে মনে হয় কেবল মাত্র লেখার জন্যই যেন লেখা হয়েছে । স্রেফ কিছু পাতা ভর্তি করে দেওয়া । লেখক হিসাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের যে কিরকম অবনতি হয়েছে এই উপন্যাসটিই তার প্রমাণ । কিছুদিন আগেই কিনেছিলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড । এই খন্ডেই ছিল সুনীলের কিছু বিখ্যাত উপন্যাস । যেমন আত্মপ্রকাশ, অরণ্যের দিনরাত্রি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভৃতি । কি সহজ সরল দৃপ্ত ভাষায় লেখা উপন্যাসগুলি । মানুষের বিভিন্ন অভিব্যক্তি হাসি দুঃখ রাগ কামনা কিভাবে তিনি অক্লেশে লিখেছিলেন । চকচকে ছোরার ফলার মত ছিল এক একটি উপন্যাস তাঁর । আর আজ সেই লেখকের এরকম বাজে লেখা পড়তে আমার একটুও ভাল লাগল না । অবশ্য কাকাবাবুর উপন্যাসগুলির সাথে এগুলির তুলনা চলে না । তবুও কাকাবাবুর কিছু পুরোনো উপন্যাস নতুনগুলির থেকে অনেকাংশে ভাল ছিল । যেমন বিজয়নগরের হীরে, সবুজ দ্বীপের রাজা, মিশর রহস্য, কাকাবাবু ও বজ্রলামা, নীলমূর্তি রহস্য প্রভৃতি । আর এই বিষয়ের উপর কাকাবাবুর আরেকটি উপন্যাস আছে । সেটি হল কাকাবাবু ও শিশুচোরের দল ।

শারদীয়া আনন্দমেলার আরেকটি উপন্যাস পড়লাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘অঘোরগঞ্জের ঘোরালো ব্যাপার’ । কাকাবাবুর চোখে জলের মত এত বাজে না লাগলেও শীর্ষেন্দুর উপন্যাসটি পড়েও ঠিক মন ভরল না । এরকম উপন্যাস শীর্ষেন্দু অনেক লিখেছেন । মনে আছে স্কুলে পড়ার সময় যখন শীর্ষেন্দুর ঝিলের ধারে বাড়ি, গৌড়ের কবচ বা পটাশগড়ের জঙ্গলের মত উপন্যাস পড়েছিলাম তখন কি ভালোই না লেগেছিল । সেরকম ভালো লাগা অঘোরগঞ্জের ঘোরালো ব্যাপারে পাওয়া গেল না ।

মনে হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত লেখকেরা তাঁদের প্রতিভার শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন । লেখার মধ্যে সেই উদ্যম বা নতুনত্ব আর নেই । দেখা যাক নতুন লেখকেরা কেউ হাল ধরেন কিনা ।

Saturday, September 15, 2007

তসলিমার উপর হামলা, গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন ও আরো কিছু কথা ।

আমি প্রায় একমাস আগে তসলিমা নাসরিনের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম আমার এই ব্লগে । আমি কয়েকদিন আগে অবাক হয়েই দেখলাম গ্লোবাল ভয়েস অনলাইনে বাংলা হিন্দি এবং ইংরাজিতে আমার সেই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে ।

গ্লোবাল ভয়েসে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের বক্তব্য অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় । বলা যেতে পারে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের মিলনের স্থান এই সাইট । তাঁরা যে আমার মত একজন ব্লগারের বক্তব্য তাঁদের সাইটে তুলে ধরেছেন সে কারণে আন্তরিকভাবে আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ ।

এর আগেও একবার গ্লোবাল ভয়েসে আমার কথা তুলে ধরা হয়েছিল যখন আমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকাররের ভুল সংরক্ষন নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ।

আমার ব্লগের পাঠক সংখ্যা খুব একটা বেশি নয় । পরিসংখ্যান থেকে দেখতে পাই যে প্রতিদিন আমার ব্লগে গড়ে মাত্র ছয় থেকে দশজন আসেন । এমনিতেই বাংলা ব্লগের পাঠক সংখ্যা কম । তারপর সেই পাঠকদের বেশিরভাগই সামহোয়্যারইন ব্লগ বা সচলায়তন ছাড়া আর কিছু পড়েন না । তবুও যে আমার ব্লগের লেখা কারো কারো চোখে পড়ে এবং তা অন্য জায়গায় প্রকাশিত হয় এটা দেখে ভাল লাগে এবং আরো লেখার আগ্রহ জাগে ।

বাংলাতে লেখা আরো অন্য ব্লগ যখন পড়ি তখন অনেক সময়েই মনে হয় যে আমার লেখা কিছুই হচ্ছে না । অন্য লেখকেরা তাঁদের ব্লগে কত সুন্দর সুন্দর লেখা লেখেন । সে সমস্ত লেখার গভীরতা অনেক বেশি । আমার সেরকম লেখার ক্ষমতাও নেই আর তার চেষ্টাও করি না । কিন্তু যখনই দেখি যে কারো ব্যক্তিস্বাধীনতা আক্রান্ত হচ্ছে তখনই তার প্রতিবাদ জানাতে ইচ্ছা করে । সে স্বাধীনতা কোন ব্যক্তিরও হতে পারে আবার কোন রাষ্ট্রেরও হতে পারে । যে সমস্ত মানুষ ইরাক আক্রমনের জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে গাল দেন আর নিজের বাড়িতে বাচ্চা চাকরদের উপর নির্যাতন করেন আমার মনে হয় সেইসব মানুষদের স্বাধীনতা নিয়ে কোন কিছু বলার অধিকার নেই ।

কোনোরকমে পড়াশোনা শেষ করেছি । পড়াশোনা করতে কোনদিনই আমার খুব একটা ভাল লাগত না । যখন থেকে আমার পরীক্ষার টেনশন দূর হল আমার মনে হয় সেদিন থেকেই আমার আসল পড়াশোনা শুরু হল । এখন আমার নানা বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভালই লাগে । আমার প্রিয় বিষয় ইতিহাস । সভ্যতার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খালি দেখি ক্ষমতা দখলের লড়াই ইতিহাসের মূল বিষয় হয়ে বসে আছে । আর তার উপর আছে ধর্মান্ধতা । কিছুদিন আগেই বোধহয় উৎসর ব্লগে পড়ছিলাম যে ভগবান আসলে খুব ভীতু । একধর্মের ভগবান কিছুতেই অন্যধর্মের ভগবানকে সহ্য করতে পারেন না । কেউ যদি ঈশ্বরের একটু নিন্দামন্দ করে তাহলেই তাঁর আসন টলে ওঠে ।

তসলিমা নাসরিন যদি ইসলাম হজরত মহম্মদ বা আল্লা সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেই থাকেন তাহলে ইসলামেরই বা কি আর আল্লারই বা কি । যেকোন ধর্মের ঈশ্বর সম্পর্কেই বলা হয়ে থাকে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান । আরে ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হয়েই থাকেন তাহলে নিশ্চই তাঁর ইচ্ছাতেই সব কিছু হয় । তাহলে ধরে নিতে হবে যে তসলিমা নাসরিন যে মন্তব্যগুলি করেছেন তাও সম্ভব হয়েছে কেবল সর্বশক্তিমান আল্লার ইচ্ছাতেই । আর আল্লার ইচ্ছাতেই যদি সবকিছু হয়ে থাকে তো কিছু লোকের খেপে ওঠার কারণ কি বোঝা যায় না । হয়ত কিছু লোকের খেপে ওঠাও হয়ত সম্ভব হয়েছে আল্লার ইচ্ছাতেই ।

আসলে মৌলবাদ মানুষকে এমনভাবে নিজের জালে জড়িয়ে ফেলছে তারা নিজেরা কি করছে বা কি বলছে তারা নিজেরাই তা জানে না । এরমধ্যে আবার কলকাতার এক মসজিদের ইমাম তসলিমা নাসরিনকে হত্যার ডাক দিলেন । আর আমাদের বামপন্থী প্রগতিশীল মার্কসবাদী সরকারের পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে রইল । সত্যি লোকহাসানো আর কাকে বলে । এর আগে এরা একবার লোক হাসিয়েছিল তসলিমার দ্বিখণ্ডিত নিষিদ্ধ করে । পরে আবার আদালতের রায়ে দ্বিখণ্ডিত বাজারে ফিরে আসে । আর না এলেও কোন ক্ষতি ছিল না । কারণ বইতে ইন্টারনেটে সহজলভ্য আর নকল বইও সহজেই পাওয়া যায় । আর এসব আটকানোর কোন ক্ষমতা এদের নেই ।

এরা আবার বিজেপিকে অসভ্য বর্বর বলে ! আসলে মুসলমানদের ভোট টানার জন্য বিজেপি কংগ্রেস আর সিপিএমের মধ্যে কোন তফাত নেই । তারা সবাই সমান সাম্প্রদায়িক । কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে তারা ভারতে মুসলমানদের কোন উন্নতিই করতে পারে নি ।