Tuesday, March 13, 2007

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট -- দেখার মত একটি ছবি


অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট ( All Quiet on the Western Front) সিনেমাটি দেখবার আগে জানতাম না যে এটা এত পুরনো একটা ছবি । আমার জানা ছিল যে সিনেমাটি যুদ্ধের উপর কিন্তু সেটা যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বানানো সেটা জানা ছিল না ।

আমার বরাবরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশাল পৃথিবীব্যাপী লড়াই নারকীয়তা এবং বিশালতার কাছে হয়ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ একটু আড়ালে চলে গেছে । কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধেরও নারকীয়তা কিছুটা কম ছিল না । শিল্পবিপ্লবের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল এই যুদ্ধ ।

এই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একজন জার্মান সৈনিক ছিলেন এরিখ মারিয়া রেমার্ক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ১৯২৯ সালে রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট

১৯৩০ সালে লিউইস মাইলস্টোনের পরিচালনায় তৈরি হয় একই নামে এই ছবি যা জিতে নেয় সেরা সিনেমার অস্কার পুরস্কার ।

সিনেমাটির শুরুতে দেখা যায় যে এক অধ্যাপক জ্বালাময়ী বক্তৃতার সাহায্যে তার ছাত্রদের উৎসাহ দিচ্ছে সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য এবং দেশের জন্য কিছু করার জন্য । ফলে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং সমস্ত খাতা বই সব ছিঁড়ে সেনাবাহিনীতে নাম লেখায় ।

কিন্তু যুদ্ধে গিয়ে তারা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, ট্রেঞ্চের ভিতরে দিনের পর দিন লুকিয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে একে একে অনেকেরই মৃত্যু হয় তখন তারা বুঝতে পারে যে যুদ্ধের ভিতরে কোন দেশপ্রেমের রোমান্টিকতা নেই বরং রয়েছে এক প্রচন্ড নারকীয়তা । দিনের পর দিন খাদ্যাভাবে জলাভাবে মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে করতে তারা বুঝতে পারে যে তারা আসলে রাষ্ট্রনায়কদের হাতের পুতুল তাদের খালি ঠেলে দেওয়া হয়েছে মরবার জন্য । যুদ্ধে শহীদ হবার মধ্যে কোন রকমের গৌরব নেই ।

আর সিনেমার শেষ হওয়া অবধি তারা প্রত্যেকেই একে একে মারা যায় ।

সিনেমাটি আজ থেকে প্রায় সাতাত্তর বছর আগে তৈরি হলেও যুদ্ধের দৃশ্যগুলি খুব সুন্দর ভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে । আমি ডিসকভারি আর ন্যাশন্যাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে আসল যুদ্ধের যে সব ফুটেজ দেখেছি তার সাথে অনেকটাই মেলে । এমন কি স্টিভেন স্পিলবার্গ সেভিং প্রাইভেট রায়ান সিনেমা বানানোর উৎসাহ পেয়েছিলেন এই সিনেমাটি দেখে ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর বিখ্যাত সিনেমা হয়েছে । কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে ভাল সিনেমা বোধহয় খুব একটা বেশি নেই । আর যারা যুদ্ধের সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন এবং ক্লাসিক সিনেমা দেখেন তাঁদের অবশ্যই দেখতে হবে এই ছবি ।



4 comments:

Arijit said...

এবার বইটা পড়ে ফেলুন - না পড়ে থাকলে।

অল কোয়ায়েট সম্ভবত যুদ্ধ নিয়ে আমার দেখা সেরা সিনেমা। অধিকাংশ সিনেমা এখানে এক দেশকে হিরো বানিয়ে দেখায়, কিন্তু অল কোয়ায়েটের একটা অসাধারণ যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য আছে। যখন কলেজে পড়ি তখন নন্দনে এসেছিলো - এক হপ্তায় দুবার দেখেছিলাম।

raja said...

pls hlp...vista niyechhi, tarpor theke unicode bangla dekhte & likhte pachhi na, nijer blog o porte parchhi na.... ki kori?
pls janan

the king said...

r dorkar nei

Anonymous said...

বেশ লেগেছিল। যুদ্ধের ভয়াবহতার উপর এত সুন্দর মুভ্যি কম দেখেছি।