Tuesday, June 13, 2006

কমিউনিস্ট জোকস্ ৫

স্থানীয় সংবাদপত্রের এক সম্পাদক তাঁর সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছিলেন, সুপ্রিম সোভিয়েতের নেতারা বদ্ধ পাগল । স্তালিনের হুকুমে কেজিবির লোকেরা সম্পাদককে ধরে নিয়ে যায় এবং অবিলম্বে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছিল ।
আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে এক সোভিয়েত নাগরিক তাঁর মার্কিন বন্ধুকে এই কাহিনীটি বলেছিলেন । তাজ্জব হয়ে মার্কিন বন্ধু বললেন :
-- এ তো ভয়ঙ্কর ব্যাপার ! এত তুচ্ছ কারনে মৃত্যুদন্ড ?
সোভিয়েত দেশের মানুষটি উত্তেজিত হয়ে বললেন :
-- তুচ্ছ কারন বলছেন এটাকে ? জানেন ওই সম্পাদক আসলে রাষ্ট্রের গুপ্তকথা ফাঁস করে দিয়েছিলেন ।
স্টেট সিক্রেট ফাঁসের এই অভিনব আখ্যান শুনে মার্কিন বন্ধু গভীর দুঃখের সাথে মাথা নেড়ে বলেছিলেন :
-- যাই বলুন, আমাদের দেশে সকলেরই সব কিছু বলার স্বাধীনতা আছে । নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার এতটুকু খর্ব করা হয় নি আমেরিকায় । ইচ্ছে করলেই আমি হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে পারি - আইজেন হাওয়ার নিপাত যাক ।
সোভিয়েত নাগরিক অবাক হয়ে বললেন :
এতে এত গর্ব করার কি আছে ? আমিও তো যখন তখন মস্কোর রেড স্কোয়ারে দাঁড়িয়ে বলতে পারি - আইজেন হাওয়ার নিপাত যাক ।

পোল্যান্ডের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যবসা বাণিজ্যের তখন রমরমা । পোল্যান্ডের মানুষ কী চোখে দেখতেন এই বাণিজ্যকে ? তাঁরা মজা করে বলতেন :
-- আমরা সোভিয়েত ইউনিয়নে কয়লা রপ্তানি করি, তার বদলে তারা আমাদের কাছ থেকে ইস্পাত নিয়ে যায় ।

নৌবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেকোস্লোভাকিয়া । সোভিয়েত উপদেষ্টার কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইতেই তিনি প্রশ্ন করলেন :
-- নৌ-বাহিনীর কি দরকার আপনাদের ? আপনাদের তো সমুদ্রই নেই ।
-- তাতে কি ? চেক কতৃপক্ষের তুখোড় জবাব, আপনাদের দেশে আইন ও বিচার মন্ত্রনালয় কেন আছে তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছি কখনও ?

রাজনীতি শিক্ষার ক্লাস চলছে । তরুন শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছেন প্রবীন কমিউনিস্ট নেতা :
-- সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে ব্যবসা করে বেশ লাভবান হচ্ছে । যেমন ধর,রুমানিয়া মাটি পাঠায় আমাদের । সেই মাটি দিয়ে খেলনা হুইসল বানিয়ে আমরা পাঠাই মঙ্গোলিয়া । সেখানকার রাখালেরা ভেড়া চড়ায় ওই হুইসল বাজিয়ে ।
-- তারপর মঙ্গোলিয়া কি আমাদের ভেড়ার মাংস আর চামড়া পাঠায় ?
-- না, মাংস তারা নিজের খায়, আর চামড়া পাঠায় বুলগেরিয়ায় । সেই চামড়া দিয়ে বুলগেরিয়া বানায় গরম কোট ।
-- ওই কোটগুলো বুলগেরিয়া নিশ্চই আমাদের পাঠায় ?
-- না, রুমানিয়ায় পাঠায় ।
-- আর রুমানিয়া থেকে আমরা কি পাই ?
-- ওই যে, শুরুতে বললাম, মাটি !

মস্কোর কাছে এস্তোনিয়ার আকুল আবেদন :
-- আমাদের অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য স্বাধীনতা দেওয়া হোক ।
সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টিতে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হল । প্রেসিডেন্ট গর্বাচভ সবাইকে বোঝালেন পাঁচ মিনিটের স্বাধীনতায় ওরা কি আর করতে পারবে ? দেওয়াই হোক পাঁচ মিনিটের স্বাধীনতা ।
পরদিন ‘প্রাভদায়’ সংবাদ প্রকাশিত হল :
গতকাল বিকেল চারটেয় এস্তোনিয়া যুদ্ধ ঘোষনা করে সুইডেনের বিরুদ্ধে এবং চারটে বেজে চার মিনিটে আত্মসমর্পন করে ।

2 comments:

Rajputro said...

eto communist jokes kothay paan? naki nijei banan?

Anonymous said...

Here are some links that I believe will be interested